1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ০১:২১ অপরাহ্ন

অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২
  • ৬ মোট ভিউ

 

 

ঢাকা অফিস ॥ মাদক রোধে কঠোর হতে হবে এবং অপরাধীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল শুক্রবার সকালে কক্সবাজারের রামু বিজিবি রিজিয়ন মাঠে বিজিবি আয়োজিত মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সীমান্ত হচ্ছে চ্যালেঞ্জিং। মিয়ানমার সীমান্ত রয়েছে ২৭৪ কিলোমিটার। সীমান্তে কাজ করা অনেক দুরূহ ব্যাপার। তাই বিজিবিতে হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক সামাজিক ব্যাধি। এটি নিজের জীবনের সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে। দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা দুর্বার গতিতে চলছে। মাদক রোধ সম্ভব না হলে দেশের সেই উন্নয়ন যাত্রা থমকে যেতে পারে। বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদের সভাপতিত্বে আসাদুজ্জামান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সে নীতিতে কাজ করছে সরকার। মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। এতে পরিবার ও একটি দেশ ধ্বংস স্তূপে পরিণত হয়। তাই মাদকের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। তাদের বিচারকার্য সম্পন্ন করা হলে বাকিরাও সতর্ক হবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ-বিজিবি-কোস্টগার্ড-মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছে। মাদক নির্মূলে কঠোর হয়ে কাজ করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে জনপ্রতিনিধি, সমাজপতি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে শপথ নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে সমাজে যেন মাদক ও মাদক ব্যবসায়ী স্থান না পায়। এ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে। আসাদুজ্জামান খানের মতে, মাদক নির্মূলেও সফল হতে হবে। সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে, আমরা সফল হব। আমরা এ যুদ্ধে জয়ী হব। এজন্য একযোগে কাজ করতে হবে। অন্যথায় নতুন প্রজন্ম পথ হারিয়ে ফেলবে। বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার নাজম-উস সাকিব তার বক্তব্যে বলেন, অনুষ্ঠানে ৯০ লাখ ৮০ হাজার ৫৭৭ পিস ইয়াবা, ২৩.৭৫১৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ হাজার ৩৪৩ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, ৬ হাজার ৭৬৭ ক্যান বিয়ার, ২০৬ লিটার বাংলা মদ, ৬ কেজি গাঁজা, জুলিয়াম ট্যাবলেট ধ্বংস করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ২০২১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিজিবি কক্সবাজারের রিজিয়নের আওয়াতায় বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক জব্দ করা মাদকের হিসাবও দেওয়া হয়েছে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কানিজ ফাতেমা মোস্তাক, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ, বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজম-উস-সাকিব, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মো. ফখরুল আহসান, কক্সবাজার ত্রাণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার রেজোয়ান হায়াত, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদসহ উচ্চপদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানের শুরুতে চেকপোস্টের কার্যক্রমের ওপর ডেমো ও রিজিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রমের ওপর ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, গত ৩ বছরে ইয়াবা উদ্ধারের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টর। তারা ৩ বছরে মোট ৩ কোটি ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আটক ১ হাজার ৯৭৯ জন আসামিসহ ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৩০ পিস ইয়াবা, ২৭ হাজার ৪৪৮ কেজি ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ হাজার ৩০৫ ক্যান বিভিন্ন প্রকার বিয়ার, ৯৮ বোতল বিভিন্ন প্রকার মদ, ১৩৭ বোতল ফেনসিডিল, ৫৮ লাখ ৬ হাজার ৮০০ লিটার বাংলা মদ, ২২ হাজার ৯৯৫ কেজি গাঁজা, ৩ হাজার ১৫০ কেজি আফিম মামলার মাধ্যমে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত নির্বাহী কমিটির ১৭তম সভায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটলে তাদের পুশব্যাক করা হবে। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের টহল জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে মোতায়েন করা হবে বিজিবি ও র‌্যাব। এরপরও অপরাধ দমন না হলে ক্যাম্পে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার করণীয় বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পে যারা আছে তারা যাতে ক্যাম্পের বাইরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে যথেষ্ট নজরদারি থাকবে। বর্তমানে যে পরিমাণ এপিবিএন সদস্য সেখানে কাজ করছে তা আরও বাড়ানো হবে। প্রয়োজনে বিজিবি, র‌্যাব এবং সেনা মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে একসঙ্গে সাত-আট লাখ রোহিঙ্গা আসার পর থেকে তাদের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণে তাদের সচেতন করার বিষয়টি সভায় আলোচনা হয়েছে। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের চিকিৎসার বিষয়ে। রোহিঙ্গাক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে মাদক নিয়ন্ত্রণে জোরালোভাবে কাজ করবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তাবেষ্টনীর বাইরে যাওয়া, ভেতরে মাদক কারবার ও অপরাধ কর্মকা- তদারক করতে ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রাণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আখতার হোসেন, আইজিপি ড. বেনজির আহমদ, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, কক্সবাজার ত্রাণ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজোয়ান হায়াত ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে দুইদিনের সফরে কক্সবাজার আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাঙ্গামাটি থকে হেলিকপ্টার যোগে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস রক্ষিতসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page