1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১১:০২ পূর্বাহ্ন

আখের সঙ্গে পেঁয়াজ চাষ

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৩ জুন, ২০২১
  • ১৮৫ মোট ভিউ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। প্রতি বছর দেশে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার হেক্টর জমি থেকে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়। উৎপাদিত পেঁয়াজের শতকরা ২৫ ভাগ পচে যাওয়ার পর প্রকৃত পেঁয়াজের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ১৭ লাখ টন। দেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ৩০ লাখ টন। সে হিসাবে ঘাটতি ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। ঘাটতি পূরণের জন্য প্রতি বছর বিদেশ থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে ১২ থেকে ১৩ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। আমাদানিকৃত পেঁয়াজের সিংহভাগ আসে ভারত থেকে। কানো কারণে ভারতে পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে অতিবৃষ্টিতে ভারতের মহারাষ্ট্রে পেঁয়াজ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশটির সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৩০০ টাকায় দাঁড়ায়। এতে ভোক্তা সাধারণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। সরকার বিদেশ থেকে বিমানে করে পেঁয়াজ আমদানি করেও দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। এবারও বন্যায় ভারতের পেঁয়াজের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ভারত সরকার বিনা নোটিশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। ফলে ৩০/৩৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ এক লাফে ৮০/৯০ টাকায় দাঁড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ১.৫ লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আখ চাষ হয়। এই দেড় লাখ হেক্টর আখের জমির একটি বড় অংশে সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজের চাষ করে দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি বহুলাংশে পূরণ করা সম্ভব। সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ চাষের সুবিধা: আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ চাষের সুবিধাগুলো হলো- ১. আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজের চাষ করে কৃষক একই জমিতে একই সময়ে একাধিক ফসল চাষের সুযোগ পান। কৃষকের রবি মৌসুমে মসলা জাতীয় ফসলে চাহিদা মেটায়। সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজ চাষ করার ফলে আখের জমিতে আগাছার উপদ্রব কম হয়। পেঁয়াজের আন্তঃপরিচর্যার ফলে আখেরও আংশিক আন্তঃপরিচর্যা হয়ে যায়। পেঁয়াজ পাতার তীব্র গন্ধের কারণে আখে পোকামাড়ের আক্রমণ অনেক কম হয়। পেঁয়াজের গাছ ছোট, পাতা কম ও সরু এবং গুচ্ছমূলের বিস্তৃতি সীমিত হওয়ায় আখের সঙ্গে পেঁয়াজের পুষ্টি ও অন্যান্য বিষয়ে প্রতিযোগিতা কম হয়। পেঁয়াজ আবাদ করলে আগাম আখ চাষ করতে হয়। আগাম আখ চাষ করার জন্য আখের ফলন, চিনি ও গুড় আহরণ হার বেশি হয়।
পেঁয়াজের জাত: আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে চাষের জন্য বারি পেঁয়াজ-১, বারি পেঁয়াজ-৪, বারি পেঁয়াজ-৬, লালতীর কিং, লালতীর-২০ ও তেভান এফ-১ জাতগুলো নির্বাচন করা যায়। উপযোগী জমি ও মাটি : আখ চাষ উপযোগী বেলে দো-আঁশ থেকে দো-আঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উপযোগী। তবে ভালো ফলনের জন্য জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ ও পানি ধারণক্ষমতা বেশি থাকতে হবে। সেই সঙ্গে জমিটি হতে হবে সুনিষ্কাশিত। রোপণের সময় : আখের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে পেঁয়াজের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হলো ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস।
ফসল সংগ্রহ : পেঁয়াজ পরিপক্ক হলে, গাছের সবুজ পাতা ক্রমশ হলদে এবং ৫০% পাতা গলার অংশে নরম হয়ে নুয়ে পড়ে। রোপণের ৯০ থেকে ১২০ দিন পর শীতকালীন পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়। ফলন : উপযুক্ত যতœ নিলে সঠিক জাত নির্বাচন, সেচ ও সুষম মাত্রায় সার দিলে বিঘা প্রতি ১.৬ থেকে ২.০ টন ফলন পাওয়া যায়।
লেখক ঃ নিতাই চন্দ্র রায়, সাবেক মহাব্যবস্থাক (কৃষি) নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ লি, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page