1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী; প্রিয় নবী (সাঃ) এর স্মৃতি বিজরিত হেরা গুহায় আমার স্পর্শ

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

 

 

আলহাজ্ব আব্দুম মুনিব : আরবী হিজরী সালের রবিউল আওয়াল মাসের আজ ১২ তারিখ। আমাদের জন্য আনন্দের দিন। এই দিনে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দুনিয়াতে আগমন। আজকের দিনটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। এ দিনে আল্লাহ্ তায়ালার সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, যাকে সৃষ্টি না করলে একটি ধুলিকনাও সৃষ্টি করতেন না, শ্রেষ্ঠ মানুষ, নবীদের সর্দার, মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মদিবস। ইসলামের ইতিহাসে একটি আলোচিত স্থানের নাম হেরা গুহা বা গারে হেরা। ইসলামের ঐতিহাসিক নিদর্শনাবলীর অন্যতম এই গুহাটি। মানব জাতির মুক্তির দিক নির্দেশনা সম্বলিত গ্রন্থ এবং প্রিয় নবী (সাঃ) শ্রেষ্ট মুজেজা সর্ব শেষ ও সেরা আসমানী কিতাব আল কোরআন দুনিয়ার বুকে সর্ব প্রথম এখানে নাযিল হয় যে কারণে এই গুহার মূল্যায়ন এত বেশি। আর যে পাহাড়ে এই গুহার অবস্থান তার নাম জাবালে নুর। জাবাল অর্থ পাহাড় এবং নুর অর্থ আলো অর্থ্যাত আলোকিত পাহাড়। রাসুল (সাঃ) এর স্বৃতি বিজরিত হেরা গুহা ও জাবালুন নূর দুটোই মুসলমানদের কাছে খুব প্রিয়। আর এমন একটি ঐতিহাসিক স্থানে যেতে কার ইচ্ছে না করে। আমার বেলায় ও এর ব্যাতিক্রম ঘটেনি। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ২০১৫ সালে হজ্ব করার উদ্যেশে সৌদিআরব যাত্রা। অনেক দর্শনীয় স্থানের মধ্যে পবিত্র কোরআন নাযিল হওয়ার স্থান তথা হেরা গুহা দেখার জন্য মনটা পাগল ছিল। তবে মুরব্বিদের নিষেধ ছিলো মুল হজ্ব সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোন পাহাড়ে উঠা যাবে না। কারণ কোন দূর্ঘটনা ঘটলে মূল হজ্বের সময় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। যা হোক হজ্বের পর ২৮ সেপ্টম্বর পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের ৪৫ জনের হজ্ব কাফেলার মধ্যে, হজ্বের প্রায় ৫০ দিনের সফরের আমার একসাথে থাকা কাছের যেই মানুষ, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা শাহেদ ভাইসহ মাত্র ৭ জনের একটি ছোট্ট কাফেলা ফজরের নামাজের পূর্বে হারামাইন শরীফের কাছে অবস্থিত আমাদের হোটেল থেকে একটি পিকআপ ভাড়া করে জাবালে নুর এ পৌছালাম। সেখানে ১০ মিনিট হেটে পাহাড়ে অবস্থিত একটি মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে আমাদের পায়ে হেটে আমাদের প্রায় ২২শ ফিট উঁচু পাহাড়ে উঠার মিশন শুরু করলাম। এর আগে আমার মেজো দুলাভাই আবু তুরাব মুসতাক আহমেদ আমাকে বলেছিলেন হজ্বের সফরে এসে এই পাহারে উঠলে সফরের পরিপূর্ণতা পাবে। আসলেই তাই আমাদের মত অসংখ্য আবেগী নবী প্রেমী মানুষ ফজরেরর নামাজের পূর্বেয় সেখানে উপস্থিত হয়েছে। মুসতাক ভাইও সেনাবাহিনির একটি দলের সাথে ২য় বার হজ্ব করতে এসেছেন। উঠতে যেয়ে অনুভব করছিলাম সপ্তাহ পূর্বে মূল হজ্বের সময় যে ধকল গেছে সেই বিষয়টি। যেন শেষই হচ্ছে না পথ। তবে যতবার মনে করেছি এই পাহাড়েরর সাথেই আখেরী নবী (সাঃ) অসংখ্য স্বৃতি জড়িয়ে আছে ততই উপরে উঠতে স্পৃহা বাড়িয়েছে আমাকে। পাথরের পাহাড়, নেই কোন রাস্তা পাথর কেটে কেটে সিড়ির মত বানানো হয়েছে সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। উপরের দিকে তাকালে মনে হয় আর একটু বাকি আছে গুহায় পৌঁছতে, ঐ তো গুহা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু যতই উপরে উঠি ঐটুকু রাস্তা যেন আর ফুরোয় না। বসে পড়লাম আর পারছি না। বসা থেকে উঠে আবার হাটা শুরু করলাম। খানিক যেয়ে আবার বসে পড়লাম। যখন দেখি বিভিন্ন দেশের আমার চেয়ে অনেক বয়স্ক নারী ও পুরুষ হাজী সাহেবরা পাহারে উঠছে নামছে তখন মনের মাঝে সাহস সঞ্চয় করি ওনারা পারলে আমি পারব না কেন? আবার চলতে থাকি। মনে হয় এইতো গুহা দেখা যাচ্ছে কিন্তু এই তো আর শেষ হয়না। উপর থেকে যারা নিচে নামছে তাদের কাছে জানতে চাই ভাই আর কত দূর? তারা ও বলে আর অল্প একটু, কিন্তু আমার আর বসা থেকে উঠতে ইচ্ছে করে না। তারপর ও ধীরে ধীরে সামনে যাই এক পর্যায় প্রায় ২ ঘন্টা পায়ে হাটার পর পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়ার পর স্বাভাবিক হয়েছি। হেরা গুহায় যেতে পাহাড়ী নকশায় আমাদের সামনে আর একটু নামতে হবে। তাই আমরা সামনে এগুতে থাকলাম। পাথরের ভিতর দিয়ে একটি সুরঙ্গ পথ অতিক্রম করলে সে ঐতিহাসিক হেরা গুহা আমাদের দৃষ্টি গোচর হল। মনটা আনন্দে ভরে গেল। ভুলে গেলাম এতক্ষনের সকল কষ্ট। অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় জমিয়ে আছে এক নজর দেখার জন্য অনেক কষ্ট করে এক নজরে দেখলাম গুহাটি। এখানে বসে বিশ্বনবী (সা:) আল্লাহর ধ্যান করতেন। কেউ কেউ এখানে নফল নামাজ পড়ছে। গুহাটি এতটুকু পরিমান যে একজন মানুষের বেশি সেখানে অবস্থান করা যায় না। তাই গুহার সম্মুক্ষে প্রচন্ড ভীর। সেই লাইনের সিরিয়ালে আমিও পরলাম। অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষণ আমিও ঢুকলাম। একটা কেমন যানি মনে হচ্ছিল সেই সময়। আমার নবী এখানেই বসে থেকেছেন ইবাদত করেছেন দিনের পর দিন। হয়তোবা গুহার এই এই স্থানে রাসুলের হাতের স্পর্শ আছে। আমিও স্পর্শ করলাম গুহার ভিতরে পাহারের গায়ে। দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করলাম। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষ এখানে ভিড় জমাচ্ছে কোরআন নাযিলে স্থানটি একটি বার দেখার জন্য।  অতপর আবার পাহাড়ের উপরে উঠে আসলাম এখন নামার পালা। পাহাড় থেকে পুরো মক্কা নগরী একবার ভাল করে দেখে নিলাম। বিশাল বিশাল টাওয়ার গুলো ছোট ছোট ঘরের মত মনে হয়। এছাড়া এত উঁচু থেকে আর কিছু বুঝা যায় না। সেখানে আমরা মোবাইল এর সাহায্যে বেশ কিছু ছবি তুললাম। অতপর ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলাম। নামতে নামতে ভাবতে লাগলাম আল্লাহর প্রিয় হাবিব কত বার এখানে উঠেছে আর তখন এরকম সিড়ি ও ছিলো না। ভাবলে যে কোন নবী প্রেমিক মন ব্যথায় ব্যাথিত হবে। লেখক- কামিল (আল হাদিস) মাস্টার্স (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ই-মেইল ঃ সঁহরনশংঃ@মসধরষ.পড়স

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com