1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ১২:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুষ্টিয়ায় চার জেএমবি সদস্যের যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রতি শুক্রবার ২শ’ দুস্থ্যের দুপুরের খাবার দিবে আলহাজ্ব ওয়ালিউল বারী চৌধুরী কল্যাণ ট্রাষ্ট কুমারখালীতে হত্যা মামলায় চাচা ভাতিজার যাবজ্জীবন ভেড়ামারা উপজেলার সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও স্থান পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক  নকল ও মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিপণ্য বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সচেতন হতে হবে শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে ঝাউদিয়া ইউনিয়নে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল কালুখালীতে ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোকদিবস পালনের প্রস্তুতি সভা আলমডাঙ্গায় নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধন করলেন এমপি ছেলুন আলমডাঙ্গা প্রাণী সম্পদ ও ভেটনারী হাসপাতালের উদ্যোগে সিআইজি সদস্যদের আয়বৃদ্ধিকরনে বকনা, ষাঁড় ও ছাগী বিতরণ  ভেড়ামারায় পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় লাশ

এবার চুক্তি করেছেন ৯৮ ভাগ মিলার, সুযোগ পেয়েছেন কালো তালিকাভুক্তরাও

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ২১৪ মোট ভিউ

সাজ্জাদ রানা ॥ গত বোরো ও আমন মৌসুমে সরকারি চাল সংগ্রহ ভেস্তে গেলেও এবার কুষ্টিয়া জেলায় চাল সংগ্রহে গতি বেড়েছে। বিগত দুই মৌসুমের তুলনায় এবার সরকারের দেয়া লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হবে বলে মনে করছেন খাদ্য বিভাগ। এ মৌসুমে খাদ্য বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রায় ৯৮ ভাগ মিল মালিক সরকারের সাথে বোরো চাল সরবরাহে চুক্তি করেছেন। তবে গত মৌসুমে চুক্তি করে চাল দিতে না পারা ও আশিংক চাল দেয়া মিল মালিকদের প্রায় দেড় কোটি টাকার উপর জামানত আটকে আছে। এদিকে চাল সংগ্রহে গতি থাকলেও ধান সংগ্রহ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে।  চার ভাগের এক ভাগ ধান সংগ্রহ হবে কি-না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাদ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, জেলায় এবার বোরো মৌসুমে ৩৪ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এ অনুযায়ী জেলার প্রায় ৫৫২জন মিল মালিক খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চাল সরবরাহের চুক্তি করেছেন। চুক্তি অনুয়ায়ী চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে দুই সপ্তাহ আগে থেকে। ইতিমধ্যে জেলার ৬টি উপজেলা থেকে প্রায় ৪ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন টন চাল সংগ্রহ হয়েছে। প্রতিদিনই মিল মালিকরা চাল নিয়ে আসছেন। বর্তমানে যেভাবে চাল সংগ্রহ চলছে সেই গতি বজায় থাকলে ও গোডাউনে জায়গা সংকট দেখা না দিলে নির্ধারিত সময়ে চাল সংগ্রহ শেষ হবে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

গত বছর যেখানে খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তি করেছিলেন মাত্র ৭০জন মিল মালিক এবার সেখানে ৫৫২জন মিল মালিক চুক্তি করেছে। ৯৮ ভাগ মিল মালিক এবার চুক্তি করেছেন। চালও সরবরাহ করছেন তারা।

জানা গেছে, গত দুই মৌসুমে যারা চাল দিয়েছিলেন ও দিতে পারেননি সেই সব মিল মালিকদেরও এবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। কালো তালিকাভুক্তদেরও সুযোগ দেয়া হয়েছে এবার। এ নিয়ে মিল মালিকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

চালকল মালিক সমিতির একাংশের সাধারন সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ বলেন,‘ আমরা লোকসানে চাল সরবরাহ করেছিলাম গতবার। তারপরও সরকার এবার সবাইকে সুযোগ দিয়েছে। এ নীতি ঠিক হয়নি। আমাদের মিলালদের জামানত জমা রয়েছে। এ জামানতের অর্থ দিয়ে দিলে ক্ষতিগ্রস্থ মিল মালিকরা কিছুটা হলেও সুবিধা পেত। যারা চালই সরবরাও করেনি তারা বরং বেশি সুবিধা পাচ্ছে। এটা সরকারের দেখা উচিত।’

লিয়াকত রাইস মিলের মালিক হাজি লিয়াকত হোসেন বলেন,‘ এবার বোরোতে বেশির ভাগ মিল মালিক চুক্তি করেছেন। ধানের বাজার প্রথম দিকে কম থাকায় মিল মালিকরা চুক্তি করেছিলো। চালও সরবরাহ করছে। তবে লাভের পরিমান একেবারে কম। কেজিতে কয়েক টাকা লাভ থাকতে পারে। তবে ধানের বাজার বেড়ে গেলে আবার লোকসান হবে। গতবারের তুলনায় সরকার চালের দর বাড়ানোই মিল মালিকরা খুশি। তবে এত অল্প লাভের মধ্যে থেকে আবার যদি কেউ ভাগ চাই তাহলে আমরা কোথায় যাব?

জানা গেছে, কুষ্টিয়া সদর থেকে কেনা হবে ২৬ হাজার মেট্রিক টন চাল। সদরে চুক্তি করেছে ১৯১জন মিলার। ইতিমধ্যে সদর থেকে চাল সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ৮৭৩ মেট্রিক টন। গত বছর ৩৮ টাকা কেজি চাল কিনলেও এবার সরকার দর দিয়েছে কেজি প্রতি ৪০ টাকা।  অটো মিল মালিকরা ধান কম দামে কিনে চাল প্রস্তুত করে সরবরাহ করছে। তাদের মিলের সক্ষমতা বেশি হওয়ায় তার লাভবান হচ্ছেন বেশি। তরে ম্যানুয়াল মিল মালিকরা তাদের সাথে পেরে উঠছেন না।

এদিকে চাল সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর গোডাউনগুলোতে কিছুটা জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারনে জেলার মধ্যে যেসব উপজেলার গোডাউনে জায়গা রয়েছে সেখানে চাল ও ধান পাঠানো হচ্ছে। আর জেলায় জায়গা সংকট দেখা দিলে খুলনায় পাঠানো হবে। তবে এখনো বাইরে পাঠানোর কোন অর্ডার হয়নি।

জেলা মেজর অটো এন্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক জয়নাল আবেদিন বলেন,‘ সরকার দাম বাড়িয়েছে এ জন্য মিল মালিকরা খুশি। গত দুই মৌসুমে আমরা লোকসানে চাল সরবরাহ করেছিলাম। এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। দাম কিছুটা কম। তবে ধানের বাজার প্রথম দিকের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। তারপরও আমরা চাল সরবরাহ করছি। এবার সরকারি চাল সংগ্রহ পুরোপুরি সফল হবে বলে আমরা আশা করছি।’

এদিকে চাল সংগ্রহে গতি থাকলেও ধান সংগ্রহে উল্টো চিত্র। জেলার ৬টি উপজেলায় ধানের বরাদ্দ  ৪ হাজার ৯৭৭ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত মাত্র সংগ্রহ হয়েছে ৩২ মেট্রিক টন। এভাবে চলে থাকলেও এক ভাগ ধান সংগ্রহ হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। খোলা বাজারে ধানের দাম সরকার নির্ধারিত দরের সমান হওয়ায় কৃষকরা সরকারি গোডাউনে ধান দিতে চাচ্ছেন না। খোলা বাজারে তারা সব ধরনের ধান বিক্রি করতে পারলেও সরকারি গোডাউনে নীতিমালা মেনে ধান সংগহে তাদের বেগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে শুকনো ধান ও চিটার পরিমান বেশি থাকলে ধান ফেরত দেয়া হয়।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা এসএম তাহসিনুল হক বলেন, এখন পর্যন্ত চাল সংগ্রহের গতি ভালো। ৭ ভাগের মত চাল সবরাহ হয়েছে। মিল মালিকরা উৎসাহ নিয়ে চাল সরবরাহ করছেন। গত দুই মৌসুমের তুলনায় এবার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। সংগ্রহ অভিযান বাস্তবায়ন করতে আমরাও সক্রিয় রয়েছি। মিলারদের জামানতের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত উপর থেকে। আর ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। তকে গতি কম। আশা করছি ধানও সংগ্রহ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page