1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন

করোনাপ্রবণ সীমান্ত এলাকার জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ নেই

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
  • ১১০ মোট ভিউ

ঢাকা অফিস ॥ বর্তমানে করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে দেশের সীমান্ত এলাকা। কিন্তু সীমান্তবর্তী জেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ নেই।  ফলে করোনাপ্রবণ সীমান্ত এলাকার করোনা রোগীরা সময় মতো আইসিইউ সাপোর্ট পাচ্ছে না। ফলে ভারত সীমান্তবর্তী দেশের ৭ জেলায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ হঠাৎ ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় ওসব এলাকার করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। আর করোনার সংকটাপন্ন রোগীদের বিভাগীয় শহর, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা রাজধানীতে নিয়ে আসার আগে রাস্তাতেই রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীতে কিংবা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তা নেই। চিকিৎসা ক্ষেত্রে সেখানকার মানুষ ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তাছাড়া জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে জনবল সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব প্রকট। ঘুষ ও তদবিরের মাধ্যমে এক শ্রেণির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রাজধানীতে থেকে যাচ্ছে। সরকারি নীতি অনুযায়ী প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১০ থেকে ২০ বেডের আইসিইউ বেড থাকা বাধ্যতামূলক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী ১০০ বেডের হাসপাতালে কমপক্ষে ১০ বেডের আইসিইউ থাকতে হবে। সূত্র জানায়, বর্তমানে করোনা অধিক সংক্রমিত ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলো হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গা। কিন্তু অধিকাংশ জেলাতেই করোনা চিকিৎসা সেবার পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা নেই। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালটি ২৫০ বেডের হলেও সেখানে কোনো আইসিইউ নেই। তবে ২০ বেডের কোভিড ইউনিট আছে। রোগীর অবস্থা খারাপ হলে অর্থাৎ আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হলে রোগীকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। একইভাবে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতালে ১০০ বেডের জনবল থাকলেও কোনো আইসিইউ নেই। তবে ৩০ বেডের করোনা ইউনিট আছে। যেখানে অক্সিজেনের ব্যবস্থা রয়েছে। আর নাটোর জেলা সদর হাসপাতালে ৩১ বেডের করোনা ইফনিট রয়েছে। তবে চার তলাবিশিষ্ট ওই হাসপাতালে কোনো আইসিইউ নেই। চুয়াডাঙ্গা জেলা সদর হাসপাতালটি ১০০ বেডের হলেও করোনা রোগীদের জন্য আলাদা ১৫০ বেডের একটি ভবন আছে। তবে সেখানে জনবলের সংকট তীব্র এবং আইসিইউ নেই। গুরুতর রোগীকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কিংবা পার্শ্ববর্তী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে কোনো আইসিইউ নেই। আর আইসিইউ না থাকায় করোনা রোগী নিয়ে বিপাকে ভুক্তভোগীরা পড়ছে। সূত্র আরো জানায়, করোনা শনাক্তের হার বেড়ে যাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিশেষ লকডাউন আরো ৭ দিন বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া দিনাজপুর জেলায় আবারো বাড়তে শুরু করেছে করোনা সংক্রমণ ও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। আর সাতক্ষীরা করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছে।  এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলার পাশাপাশি আইসিইউ থাকতেই হবে। হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা দিয়ে এক মিনিটে ৭০ লিটার অক্সিজেন দেয়া যায়। আর তার সঙ্গে আইসিইউ সাপোর্ট থাকলে ৭ জন রোগীকে সাপোর্ট দেয়া সম্ভব। হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা চালাতে সেন্ট্রাল অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেক জেলায় সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা ও আইসিইউ পরিচালনায় অভিজ্ঞ জনবল থাকতেই হবে। আইসিইউ ছাড়া করোনা রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সম্ভব নয়। অন্যদিকে গুরুতর করোনা রোগীদের আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজনের কারণে গত বছরের ২ জুন একনেকের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে প্রতিটি হাসপাতালে ভেন্টিলেটর স্থাপন এবং উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা বাড়াতেও বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেজন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু এতোদিনেও জেলা পর্যায়ে আইসিইউ ইউনিট তৈরি না হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্য বিভাগের গাফিলতিকে দায়ি করছেন। তাদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ দেয়ার পর সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ স্থাপন না হওয়া স্বাস্থ্য বিভাগের চরম ব্যর্থতা। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য দেশের সব জেলা সদর হাসপাতালে হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা পাঠানো হয়েছে। এটি থাকলে আর আইসিইউয়ের প্রয়োজন হয় না। জেলা পর্যায়ে আইসিইউ আগে ছিল না। বর্তমানে সব জেলায় আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page