1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
সোমবার, ০৩ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন

করোনায় এক দিনে সর্বোচ্চ ২১২ মৃত্যু

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
  • ২৩ মোট ভিউ

 

ঢাকা অফিস ॥ দেশে একদিনে করোনাভাইরাস সংক্রমণে ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর আবারও রেকর্ড হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত) মৃত্যু হয়েছে ২১২ জনের। এ সময় ১১ হাজার ৩২৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল গত বুধবার ২০১ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১১ হাজার ৩২৪ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে; তাতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ লাখ ৫৪৩ জন। গত এক দিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে আরও ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট ১৬ হাজার ৪ জনের মৃত্যু হল। ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে গত ৩০ জুন থেকে সারা দেশে জারি করা লকডাউনের বিধিনিষেধের মধ্যেই মঙ্গলবার প্রথমবারের মত দশ হাজার ছাড়িয়ে যায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। সেদিন ১১ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর টানা চার দিন ধরেই দৈনিক শনাক্ত ১১ হাজারের ওপরে রয়েছে। টানা ১২ দিন ধরে একশোর বেশি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে করোনাভাইরাসে। এর আগে গত ৭ জুলাই সর্বোচ্চ ২০১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার ১৯৯ জনের মৃত্যুর পরদিন তা বেড়ে ২১২ জনে দাঁড়াল। গত এক দিনে কেবল ঢাকা বিভাগেই ৪৩১৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা দিনের মোট শনাক্তের ৩৮ শতাংশের বেশি। চট্টগ্রাম বিভাগে এক দিনে শনাক্ত রোগী প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি, খুলনায় ছাড়িয়েছে দেড় হাজার। আর যে ২১২ জন গত এক দিনে মারা গেছেন, তাদের ৭৯ জনই ছিলেন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। ঢাকা বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ৫৩ জনের। সরকারি হিসাবে, আক্রান্তদের মধ্যে একদিনে আরও ৬ হাজার ৩৮ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তাদের নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৮৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬০৫টি ল্যাবে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৬৯ লাখ ৩ হাজার ২৬৮টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আগেরদিন যা ৩১ দশমিক ৬২ শতাংশ ছিল। দেশে এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা জেলায় ২ হাজার ৭৬৩ জন, ফরিদপুরে ১৭৬ জন, গাজীপুরে ২৩৪ জন, গোপালগঞ্জে ১১৩ জন, মাদারীপুরে ১৪৪ জন, নারায়ণগঞ্জে ২১৫ জন এবং টাঙ্গাইল জেলায় ২৯০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৭৮৩ জন, কুমিল্লায় ৪২৮ জন, নোয়াখালীতে ১৪২ জন এবং  কক্সবাজারে ১৩৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে রাজশাহী জেলায় ২৬৩ জন, নাটোরে ২২৮ জন, পাবনায় ৩৪৮ জন, সিরাজগঞ্জে ১৩৩ জন এবং বগুড়ায় ১৭০ জন নতুন রোগী মিলেছে। খুলনা বিভাগের বাগেরহাটে ১৩৫ জন, চুডাঙ্গায় ১৩৩ জন, যশোরে ৩৮৮ জন, ঝিনাইদহে ১৬২ জন, খুলনায় ২৯৬ জন এবং কুষ্টিয়ায় ২২০ জনের মধ্যে ধরা পড়েছে সংক্রমণ। রংপুর বিভাগের রংপুরে ২৩৪ জন, দিনাজপুরে ১২৩ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫১ জন এবং গাইবান্ধায় ১১০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এছাড়া অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৭৩ জন, বরিশাল জেলায় ১৩৮ জন, ময়মনসিংহ জেলায় ২৩৬ জন এবং শেরপুরে ১০০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে গত এক দিনে। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে যে ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২২০ জন ঢাকা জেলার। আর খুলনা বিভাগে মারা যাওয়া ৭৯ জনের মধ্যে ১৭ জন খুলনা এবং ১৫ জন করে ঝিনাইদহ ও  কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৫ জন, রংপুর বিভাগে ১২ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। মৃত ২১২ জনের মধ্যে ৯০ জনেরই বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। ৫৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৪০ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ১৭ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ৭ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং ২ জনের বয়স ১১ থেকে ২১ বছরের মধ্যে ছিল। তাদের ১১৯ জন ছিলেন পুরুষ, ৯৩ জন ছিলেন নারী। ১৬০ জন সরকারি হাসপাতালে, ৩৬ জন বেসরকারি হাসপাতালে এবং ১৬ জন বাসায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুযায়ী, কোনো দেশে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বোঝার একটি নির্দেশক হলো রোগী শনাক্তের হার। কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্ত ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। সেখানে বাংলাদেশে রোগী শনাক্তের হার ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে সংক্রমণ। গত বছরের শেষ দিকে এসে সংক্রমণ কমতে থাকে। দেশে এ বছরের মার্চ থেকে নতুন করে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকায় টানা বিধিনিষেধ চলছে। এবার করোনার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয় গত ঈদুল ফিতরের পরপরই। ভারত সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে রোগী দ্রুত বাড়তে থাকে। পরে তা আশপাশের জেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা, মৃত্যু ও শনাক্তের হার কয়েক গুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় ২২ জুন থেকে ঢাকাকে সারা দেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই প্রচেষ্টায় ঢাকার আশপাশের চারটি জেলাসহ মোট সাতটি জেলায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের চলাচল ও কার্যক্রম ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এরপরও করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ২৮ জুন থেকে সারা দেশে সব গণপরিবহন ও মার্কেট-শপিং মল বন্ধ করা হয়েছে। ১ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক লকডাউন, বন্ধ রয়েছে সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। সর্বাত্মক লকডাউন ১৪ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page