1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:০২ অপরাহ্ন

কুমারখালীতে পাঁচ টাকার নোট ও ধাতব মুদ্রার সংকট

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৩০ মার্চ, ২০২২
  • ৩১ মোট ভিউ

 

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ পাঁচ টাকা, দুই টাকা, এক টাকার নোটের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত কাস্টমারদের সঙ্গে বাগবিত-ায় হচ্ছে বলে জানান,কুমারখালী বাজারের কসমেটিক ব্যবসায়ী বিশ্ব। কুষ্টিয়া কুমারখালীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাঁচ টাকার কাগজের নোট ও পাঁচ টাকার ধাতব মুদ্রার চরম সংকট দেখা দিয়েছে। কিছু দিন আগেও পাঁচ টাকার কাগজের নোট ও পাঁচ টাকার ধাতব মুদ্রা ছিল ভরপুর। ব্যাংক থেকে পাঁচ টাকার কয়েন দিলেও গণনার ঝামেলা এড়াতে এসব কয়েন জমা নিতে নারাজ ছিল ব্যাংকগুলো। এতে কয়েনের লেনদেন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের । কিন্তু বেশ কিছুদিন যাবত বাজারে পাঁচ টাকা সহ ২ টা ও ১ টার নোটের চরম সংকটে চলছে। এই সংকটের পাঁচ টাকা ও দুই টাকার ছেঁড়া ফাটা নোট দিয়ে চলছে কেনা কাটা। বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা থেকে জানা যায়, ১, ২ ও ৫ টাকা সরকারি মুদ্রা এবং ৫ টাকার ওপর বাকি সব টাকা ব্যাংকনোট। এর আগে শুধু ১ ও ২ টাকা সরকারি মুদ্রা থাকলেও ২০১৬ সালের জুন মাসে প্রথমবারের মতো সরকারি নোট হিসেবে পাঁচ টাকার নোট বাজারে আসে। কিন্তু বর্তমানে বিপলু পরিমাণ পাঁচ টাকার কয়েন বাজারে থাকার কারণে সরকার পাঁচ টাকার কাগজের নোট ছাপানো বন্ধ রেখেছে। বাজারের ঔষধ ব্যবসায়ী খন্দকার রেজাউল করিম ভাসানী বলেন, পাঁচ টাকার নতুন অথবা পুরোনো নোট চরম সংকট রয়েছে । হঠাৎ করে পাঁচ টাকার এমন সংকটে বেঁচা কেনা করতে খুব সমস্যা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তাহলে কি পাঁচ টাকার নোটের লেনদেন বন্ধ করা হচ্ছে? একই কথা বলেন একাধিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। ভ্যান চালক মিলন জানান, পাঁচ টাকার কয়েনের তুলনায় কাগুজে নোট ব্যবহারে সুবিধা বেশি। আর অটো ভ্যানের ক্ষেত্রে বেশির ভাগ সময় পাঁচ টাকা ভাড়া দিতে হয়। পাঁচ টাকার নোটের প্রয়োজন বেশি। এখন দশ টাকার নোট দিলে , পাঁচ টাকা ফেরত দিতে চরম সমস্যা হচ্ছে। চা ব্যবসায়ী সমির শেখ বলেন, খুরচা টাকার সংকটের ফলে মুদি দোকান, ফেরিওয়ালা, মিষ্টির দোকান, যানবহনে যাতায়াতের ভাড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে খুরচা টাকা নিয়ে শুরু হয়েছে ভোগান্তি। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক খুরচা পাঁচ টাকার কয়েন না থাকায় বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র পুঁজির ব্যবসায়ীরা। জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক ঘুরে জানা যায়, সাধারণ গ্রাহকসহ ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন পাঁচ টাকার নোটের জন্য ব্যাংকে আসছেন। কিন্তু পাঁচ টাকার নোটের সরবরাহ কম থাকায়। চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। মাঝে মাঝে এলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। তাই বর্তমানে পাঁচ টাকার কাগজের নোটের সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাংকার মনিরুল ইসলামের মতে, ধাতব মুদ্রার কয়েন জমা নেওয়ায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে প্রতিটা ব্যাংকের শাখায় দশহাজার টাকার মতো। পাঁচ টাকার ধাতব মুদ্রা সংরক্ষণ করতে । কিন্তু খুচরা কয়েন গুনতে অনেক সময় লাগে। এতে অন্য গ্রাহকদের সেবায় কিছুটা বিলম্ব হয়। আবার যে ব্যক্তি ব্যাংকে কয়েন জমা দেন, তিনিই আবার টাকা তোলার সময় কয়েন নিতে চান না। তা ছাড়া কয়েনে ব্যাংকের ভল্ট ভরে যায়। এ ক্ষেত্রে কাগজের নোটের ব্যবস্থাপনা অনেক সহজ। তাই অনেক সময় কয়েন জমা নেওয়া হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যাংকার জানান, পাঁচ টাকার নোট ছাপানো প্রায় বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে পাঁচ টাকার নোটের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মূলত বাজারে পাঁচ টাকার ধাতব মুদ্রার সরবরাহ বেশি থাকায় পাঁচ টাকার নোট ছাপানো তেমন হচ্ছে না। তা ছাড়া মানুষ ধাতব মুদ্রার ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে প্রায়। তারা শুধু নোট ব্যবহার করতে চায়। সে কারণেই পাঁচ টাকার নোটের সংকট দেখা দিয়েছে। কুমারখালী শাখার স্ট্যান্ডার ব্যাংকের ম্যানেজার কাজী ইনামুল হক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্দেশনা রয়েছে দেশের প্রতিটা শাখায় দশ হাজার টাকার ধাতব মুদ্রার পাঁচ টাকা সংরক্ষণ করতে হবে। এই মুহূর্তে পাঁচ টাকার নোট বা ধাতব মুদ্রার কোন সংকট নেই। তবে কিছু দিন যাবত আমারও পাঁচ টাকার নোট ও পাঁচ টাকার কয়েন কম পাচ্ছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page