1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

কুষ্টিয়ায় আঞ্চলিক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য ও প্রযুক্তি মেলার সেমিনারে বক্তারা : দেশের অর্থনীতি ও শিল্প বিকাশে হালকা প্রকৌশল খাতের অবদানকে গুরুত্ব দেয়া দরকার

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

 

 

এম এ কুদ্দুস ॥ কুষ্টিয়ায় চার দিনব্যাপি আঞ্চলিক লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পন্য ও প্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৪  ফেব্র“য়ারি থেকে শুরু হয়ে আজ ২৭ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত এ মেলা চলবে। মেলায় প্রায় ৩০টি স্টলে  ইঞ্জিনিয়ারিং বিভিন্ন পণ্য ও প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে গত রবিবার (২৫ ফেব্র“য়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার সময় কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমি সম্মেলন কক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির যৌথ উদ্যোগে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কুষ্টিয়া জেলা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু। এ সময় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক আবু হোসেন  খোকন, কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চীফ ইনস্ট্রাক্টর রুহুল আমিন, কুষ্টিয়া রেণউইক যজ্ঞেশ্বর এন্ড কোং(বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মাহমুদুল হক প্রমুখ। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাইওয়া-সেইপ প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। মোশারফ হোসেনের পরিচালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কুষ্টিয়া জেলা ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নুরুন্নবী। এ সময় স্থানীয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।  সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া খামার বাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের কৃষি খাতের পাশাপশি হালকা প্রকৌশল শিল্প খাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হতে চলেছে। তাই আর আমাদেরকে অন্য দেশের কাছে হাত পাততে হবে না। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রা অনুসরণ করে প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে। গত এক দশকে বাংলাদেশের জিডিপি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এতে শিল্প ও সেবা খাতের অবদান ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি উন্নত দেশের মর্যাদা লাভের জন্য দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কৃষিখাত থেকে শিল্প এবং সেবা খাতে রূপান্তর অতীব প্রয়োজন। হালকা প্রকৌশল শিল্প খাত স্থানীয় শিল্পকে ক্যাপিটাল মেশিনারী, স্পেয়ার পার্টস এবং কম্পোন্যান্টস সরবরাহ করার পাশপাশি মেরামত সেবা প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের প্রসার বৃদ্ধি ও বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর অংশীদারিত্বের উপর জোর দেয়া হয়েছে। এটা অনস্বীকার্য যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পের অগ্র-পশ্চাৎ সংযোগ বজায় রাখা এবং শিল্প প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ শ্রম-নিবিড় হালকা প্রকৌশল শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অর্থনীতি ও শিল্প বিকাশে হালকা প্রকৌশল খাতের অবদান বিবেচনা করে এ খাতের টেকসই এবং ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশকে গুরুত্ব দেয়া দরকার। অপরদিকে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি ও দৈনিক আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, যে কোন কোম্পানী একটি মাত্র প্রোডাক্ট গুনগত মান দিয়ে তৈরি করে তা সততার সাথে বাজারজাতকরণের লক্ষে দৃঢ় কল্পনা নিয়ে অল্প পয়সায় বিক্রি করলে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। যা এদেশে অনেক অনুকরনীয় কোম্পানী আছে। হালকা প্রকৌশল শিল্প মূলতঃ বেসিক এবং প্রচলিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিধায় এর উৎপাদনশীলতা, পণ্য ও সেবার গুণগতমানের কতিপয় সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ শিল্পের সার্বিক সমস্যার মধ্যে অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব, উন্নত প্রযুক্তির অভাব, সহজ শর্তে অর্থায়ন সুবিধার অপ্রতুলতা, প্রতিযোগী সক্ষম দক্ষ মানবসম্পদের অভাব, মানসম্পন্ন কাঁচামাল যোগানের অভাব এবং টেষ্টিং ও সার্টিফিকেশন সুবিধার অভাব রয়েছে। এ সমস্যাবলী সমাধানে একটি পৃথক নীতিমালা প্রয়োজন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল শিল্পের সুষম বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা যায়। এ শিল্প খাতের যাবতীয় বিষয়াদি সুচারুরূপে উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা সম্বলিত একটি হালকা প্রকৌশল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন অতীব জরুরি। অগ্র-পশ্চাৎ সংযোগ শিল্পের প্রসারের মাধ্যমে দেশের শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে হালকা প্রকৌশল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার এ খাতের টেকসই বিকাশে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদানে হালকা প্রকৌশল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করবে বলে আশা করি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com