1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

কুষ্টিয়ায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে যুবককে অপহরনের পর ৯ টুকরো করে হত্যা

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

 

নিজ সংবাদ ॥  কুষ্টিয়ায় অনলাইন ব্যবসার বিরোধের জেরে মিলন হোসেন (২৫) নামের নামে যুকককে অপহরনের পর নৃংশসভাবে ৯ টুকরো করে হত্যা করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং প্রধান এস কে সজিবের নেতৃত্বে তার ৫ সহযোগী মিলে মিলনকে পদ্মার চরে নিয়ে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে। আটকের পর তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ গতকাল শনিবার পদ্মার চরে অভিযান চালিয়ে বালির মধ্যে পুঁতে রাখা ৪টি ব্যাগ থেকে দেহের ৯টি অংশ উদ্ধার করে। ৫ ঘাতককে পুলিশ সাথে নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করে। নিহত মিলনের বাড়ি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পুর্ব বাহিরমাদি গ্রামে। তার পিতার নাম মওলা বক্স। পুলিশ, মিলনের স্ত্রী ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা জানান,‘ মিলন আউট সোর্সিং এর কাজ করতেন। গত ৩১ জানুয়ারী ব্যবসায়িক অংশীদার সজলের ফোন পেয়ে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ই-ব্লকের ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন মিলন হোসেন। পরে তার স্ত্রী মিমি খাতুন কুষ্টিয়া মডেল থানায় এ ব্যাপারে জিডি করেন। এরপর পুলিশ তদন্তে নেমে মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে জড়িত সন্দেহে সজলসহ ৩ জনকে আটক করে। আটককৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে মিলনকে হত্যা করে পদ্মা নদীর চরে পুঁতে রাখার কথা স্বীকার করে পুলিশের কাছে। পরে ঘটনায় আরও ২ জনকে আটকের পর শুক্রবার রাতে তাদের নিয়ে পদ্মা নদীর চরে মৃতদেহ উদ্ধারে যায় পুলিশ। ঘন কুয়াশার কারণে রাতে উদ্ধার সম্ভব না হলেও শনিবার সকালে মিলনের ৯ টুকরা মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানায়, অপহরনের পর মিলনকে নিয়ে পদ্মার চরে যায় এস কে সজিবসহ তার ৫ সহযোগী। সেখানে গিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। মিলনের ব্যবহৃত ফোনটি খুনিরা রেখে দেয়। মিলনের বাড়ি থেকে বারবার রিং দিলেও তারা রিসিভ করেনি। এরপর হত্যার পর মৃতদেহটি টুকরো টুকরো করা হয়। মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে আলাদা আলাদা করা হয়। এরপর বাজার করা ৪টি ব্যাগে ভরা হয়। সেগুলো বালুর মধ্যে পুঁতে রেখে শহরে চলে আসে তারা। সজলকে মিলনের স্ত্রী বারবার জিজ্ঞাসা করলেও সে কিছু জানে না বলে জানায়। আর এস কে সজিবসহ অন্যরা শহরেই ঘোরাফেরা করছিল। হত্যার পর স্বাভাবিক চলাফেরা করছিল। পুলিশ তাদেরকে শহর থেকে আটক করে হেফাজতে নেয়। শনিবার সকাল ১১টার পর মিলনের মরদেহ কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে পুলিশ। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মিলনের স্ত্রী মিমি খাতুন, সজলের বোনসহ অন্য স্বজনরা। তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মিলনের স্ত্রী মিমি খাতুন বলেন, গত রোজার ঈদের পর মিলনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। মিলন খুব ভদ্র প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। তিনি বলেন, নিখোঁজ হওয়ার পর তারা মিলনকে উদ্ধারে সজলের সহযোগিতা চেয়েছেন। তার হাতে পায়ে ধরেছেন। এমনকি তারা সজলকে টাকা দিতেও চেয়েছেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি। সজল এ বিষয়ে কিছুই জানে না বলে জানায়। এসকে সজিব ও সজল মিলে আমার স্বামীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে টুকরো টুকরো করেছে। তাদের বুকে কি কোন মায়া-দায়া নেই। খুব কষ্ট দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের কাছে কোটি টাকা চাইলেও আমরা দিয়ে দিতাম। কেন তারা হত্যা করলো? মিলনের বোন সেলিনা খাতুন বলেন, চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন মিলন। বড় আদরের এই ভাইকে এমন নৃশংসভাবে খুন হতে হবে এটা তারা বিশ্বাস করতে পারেছন না। খুনিদের কঠোর শাস্তি চান তারা। নিহতের শ্বশুর মহিবুল হক অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ প্রথমে মিলনকে উদ্ধারে সেভাবে কাজ করেনি। সময় মত চেষ্টা করলে হয়তো তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারত পুলিশ। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, চাঁদা আদায়ের জন্য অপহরণের পর এই হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তবে এ ঘটনার পিছনে আর কোন কারণ আছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আটক ৫ জনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন হতে পারে। মামলার পর রিমান্ড চাওয়া হবে আসামীদের।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com