1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

কুষ্টিয়ায় সরকারি কোষাগারে টাকা না দিয়ে ব্যবসা করছেন প্রভাবশালীরা

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৪ মে, ২০২৩

 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ায় বালু ও ধুলট মহল ইজারাবাবদ নির্ধারিত টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে কোন প্রকার কার্যাদেশ ছাড়াই কার্যক্রম শুরু করেছেন ইজারাদাররা। এতে সরকার প্রায় ২০কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হলেও সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা অনেকটা বিনা পূঁজিতেই ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছেন। গত বৈশাখ মাসে কুষ্টিয়ার মিরপুর ও কুমারখালী উপজেলার অন্তত ৬টি বালু এবং ধুলট মহাল ইজারা দেয় কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসন। যথাযথ প্রক্রিয়ায় টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে তাতে ওইসব বালু কিংবা ধুলট মহল থেকে রাজস্ব খাতে জমা হবার কথা প্রায় ২০কোটি টাকা। বৈশাখ থেকে বৈশাখ এই একবছরের জন্য উক্ত ইজারা প্রদান করা হলেও নীতিমালায় রয়েছে কার্যাদেশ গ্রহনের আগেই সমুদয় অর্থ সরকারী কোষাগারে যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রদান করতে হয়। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া না মেনে অর্থাৎ কোষাগারে টাকা জমা না দিয়েই ইজারাদাররা কোন প্রকার কার্যাদেশ ছাড়াই প্রশাসনের বিশেষ ইঙ্গিতে কার্যক্রম শুরু করেছেন। এতে একদিকে যেমন সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে মোটা অংকের ওই টাকা প্রাপ্তী ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাচ্ছে। কীভাবে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হচ্ছে তা নিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা-কল্পনা। জানা গেছে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই ইজারাদাররা বিনা টাকায় ব্যবসা করে আসছে। শুধু তাই নয়, কার্যাদেশ ছাড়া কার্যক্রম শুরু করেই ক্ষান্ত হয়নি,নির্দিষ্ট মৌজা থেকে বালু উত্তোলন না করে তাদের সুবিধামত জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করছে তারা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত বৈশাখ মাসের সপ্তাহ খানেক আগে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জয়নাবাদ-ছেঁউড়িয়া বালু মহাল প্রায় ৭কোটি টাকা, কাশিমপুর-হাবাশপুর-কয়া মৌজার বালু মহাল প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ, কুমারখালীর জিলাপীতলা বালুমহাল প্রায় ২কোটি টাকা, কুমারখালীর তেবাড়িয়া ৫৫লাখ টাকা, মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ধুলটমহাল সাড়ে ১৫ কোটি টাকা ইজারা দেয় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার ২৫% টাকা জমা দিলেও কার্যাদেশ পাওয়ার ৭দিনের মাথায় সমুদয় অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দিতে হয়। কিন্তু সেই টাকা জমা না দিয়ে কোন প্রকার কার্যাদেশ ছাড়াই বালু উত্তোলন কার্যক্রম শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা। এতে একদিকে যেমন সরকার প্রায় ২০কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্য দিকে ইজারাদাররা কোন প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে মিরপুর উপজেলার এক ব্যবসায়ী জানান জেলা প্রশাসন ইজারাদারকে কার্যাদেশ দেয়ার ৭দিনের মাথায় সমুদয় অর্থ প্রদান সাপেক্ষে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়ে থাকেন কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়া মানা হচ্ছেনা। ইতোপূর্বে এই একই প্রক্রিয়ায় ইজারদারকে কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদার কোষাগারে টাকা জমা না দিয়েই ব্যবসা সম্পন্ন করেছেন। এতে ওই ব্যবসায়ী লাভবান হলেও সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। যদিও টাকা ফেরত চেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাও করা হয়েছিল। প্রশাসন এবারও সেই একই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি আরো জানান প্রশাসন এমন ঝুঁকি এমনি এমনি নেয়নি। বিশেষ সুবিধার বিনিময়েই ঝুঁকি নিয়েছে। বালু মহাল কার্যাদেশ পাওয়া এক ইজারাদার জানান প্রশাসনের অনুমতিতেই আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রশাসন যেহেতু আমাদেরকে অনুমতি দিয়েছে তাতে আমরা কারো প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য নয়। এদিকে এবিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসককে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান বিষয়টি জটিল করে দেখার কিছু নেই। যথা সময়েই আমরা সমুদয় অর্থ ইজারাদারদের কাছ থেকে নিয়ে নিব। এক কোটি নয়, দু’কোটি নয়, প্রায় ২০কোটি টাকা রাজস্ব ঝুঁকিতে কুষ্টিয়া প্রশাসনের এমন খামখেয়ালিপনা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান খুলনা বিভাগীয় কমিশনার। তিনি জানান বিষয়টি যতি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com