1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:২৪ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় লকডাউন পালন হলেও শহরতলী ও গ্রামের চিত্র ভিন্ন

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ১৫৫ মোট ভিউ

নিজ সংবাদ ॥ লাগাতার কঠোর লকডাউনের ৮ম দিন অতিবাহিত হলো গতকাল সোমবার। লকডাউনে শহরের সড়কগুলোতে পুলিশী তৎপরতায় মানুষজনের চলাচল কম হলেও প্রয়োজন অপ্রয়োজনে মানুষ ঘরমুখো না হয়ে বের হচ্ছে বাইরে। ফলে লকডাউনের যে উদ্দেশ্যে তা কতখানি সফল আর কতখানী বিফলতা তা সময় বলে দিচ্ছে। করোনার থাবা কুষ্টিয়ায় পড়ার আগ মুহুর্তে রমজানের রোজার পর থেকেই ক্রমশ করোনা আক্রান্ত সংখ্যা ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সকল মহল যখন লকডাউনের  জোর আহবান জানায় ঠিক তখন জেলা প্রশাসক খোড়া অজুহাতে তাতে কর্ণপাত করেননি। আজ কঠোর লকডাউনের ঘোষনা দিয়েও করোনার কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারছে না। গতকাল সোমবারও ছিল জেলায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর সংখ্যা ৯জন। আক্রান্তের সংখ্যাও অনেক বেশি। দিন দিন জেলার করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। আবার বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী আসছে শার্টডাউন। লকডাউন আবার শার্ট ডাউন মিলে জনগনের মাঝে তেমন সাড়া ফেলতে পারছে না এই করোনার পরিবেশ। মানুষ প্রয়োজনে যেমন ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে যাচ্ছে আবার অপ্রয়োজনেও এক শ্রেনীর মানুষ ঘরের এক ঘেয়েমিতা কাটাতে বাইরে বের হচ্ছে। করোনার এই মুহুর্তে ঘর থেকে বাইরে বের না হওয়ায় আবার প্রয়োজনে বের হলেও মুখে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তবে মানুষের মাঝে মাস্ক ব্যবহারের প্রবনতা বেড়েছে নিঃসন্দেহে। সব স্থানেই মাস্ক ব্যবহার বৃদ্ধিও বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে সকলে দেখছে। কুষ্টিয়ায় লকডাউনের চিত্র ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ দেকা যাচ্ছে। শহরের লকডাউনের পরিবেশ এক রকমওে আবার শহরতলী এবং গ্রামের পরিবেশ আরো ভিন্নতর মনে হচ্ছে। শহরের সকাল ৯টা পর্যন্ত লাগামহীনভাবে মানুষ বিনা বাঁধায় চলাচল করতে পারছে তবে সকাল ৯টার পর থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি তৎপরতায় মানুষের চলাচলে স্বাভাবিক গতির ছন্দপতন হচ্ছে। তবে পুলিশ কঠোর দায়িত্ব পালন করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্তার অভিযোগ শোনা গেছে। রিকসা বা অটো রিকসা থেকে রোগীদের নামিয়ে দেয়া, বাজার থেকে দ্রব্যাদী নিয়ে বাসায় ফেরার পথে তা নামিয়ে দেয়া বা রিকসা  বা অটোকে সামনের দিকে না যেতে দেয়ার বিষয়টিকে ভাবিয়ে তুলেছে। এদিকে পুলিশ সুপারের প্রতি দিনের রুটিং ওয়ার্ক বিকেলের দিকে সঙ্গীয় কর্মকর্তাদের সাথে ৮/১০টি গাড়ির বহর নিয়ে শহর এবং শহরতলীতে দাঁপিয়ে বেড়ানোতেও মানুষজনের মাঝে কিছুটা হলেও ভীতি কাজ করছে। সন্ধার পর থেকে শহরের বিভিন্ন মোড়ের চায়ের দোকানগুলো এখন সরব রয়েছে। অনেক স্থানে চায়ের দোকানের পাশাপাশি বিভিন্ন ঠিকেদারী প্রতিষ্ঠানের অফিস ঘওে জমজমাট আড্ডার বিষয়টি লক্ষ্যনীয় হয়ে উঠেছে। শহরের ৬রাস্তা মোড়ের জিকে অফিসের সড়কের প্রবেশ মুখে কয়েকটি ঠিকেদার প্রতিষ্ঠান আর চায়ের দোকানকে ঘিরে রাত ১০টা অবধি সাধারন মানুষের সরগরম উপস্থিতি স্থানীয়দের মাঝে ভীতির সঞ্চার করেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত চাখোরদেরদের উপস্থিতি এখানে লক্ষ্য করা যায়।

লকডাউনে শহরতলী বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়কের আশে পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও অলি ও গলির মধ্যেকার দোকানপাট এবং চায়ের দোকানগুলো একেবারেই রাত অবধি খোলা থাকছে। সেসব দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশে পাশে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর লকডাউনে গ্রামের পরিবেশের কথা বললে প্রথমে বলতে হয় মাস্ক ব্যবহারের বালাই নেই। আবার কিছু মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও তাদের নানান অপবাদের কথা শুনতে হচ্ছে। কুষ্টিয়ার করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে শহর এবং গ্রামের মানুষ রয়েছে সমান সংখ্যক তাই শহর এবং গ্রামের পরিবেশকে ভিন্নভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। এখন সর্বত্র করোান হানা দিয়েছে আর সব স্থান থেকেই এক সাথে প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। গ্রামের চায়ের দোকান আর মোড়ে মোড়ে আড্ডার পরিবেশ এখন বিরাজমান। লকডাউনের এই মুহুর্তে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি সেই সাথে ঘর থেকে বের না হওয়ায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page