1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া শহরের হাউজিংয় এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত তরুণী ঝরার খুনিদের গ্রেফতার দাবি পরিবারের

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৯ জুলাই, ২০২১
  • ৩৯০ মোট ভিউ

 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া শহরের হাউজিংয় এলাকায় নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন আয়শা আক্তার ঝরা (৩০) নামে এক তরুনী। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। ঢাকার একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ জুলাই দিবাগত রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান। গত ১১ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাসার সামনে ঝরাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে দুর্বত্তরা। তবে মারার যাবার কয়েকদিন আগে ঝরা করোনা পজিটিভ হয়েছিলেন বলে তার পরিবারের লোকজন জানান। ঘটনার পরদিন ১২ জুন ঝরার মা লিপি খাতুন বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আয়শা আক্তার ঝরার বাবার বাড়ি সদর উপজেলার বিষ্ণুদিয়া গ্রামে। ঝরার স্বামী মারা যাবার পর তিনি একমাত্র ছেলে ও মাকে নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং ডি-ব্লকের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ঝরার মা লিপি খাতুন জানান, সদর উপজেলার শান্তিডাঙা গ্রামের আব্দুস সোবহানের ছেলে রাসেদুল ইসলাম রাসেদ পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে ঝরার কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন। পরে টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করে। এ টাকা আদায়ে ঝরা তার দাদা বিষ্ণুদিয়া গ্রামের বিপুল আহমেদে, চাচা একই গ্রামের আনিসুর রহমান বিকাশ, মামা লক্ষ্মীপুর গ্রামের মিজানুর রহমান মিজু, লক্ষীপুর গ্রামের জাকির হোসেনের কাছে সহযোগিতা চান। এই চারজনের মধ্যস্ততায় রাসেদ ৫০ টাকা ফেরতও দেন। বাকি টাকা ১১ জুন তারিখে দেবেন বলে অঙ্গীকার করেন। সেই অনুযায়ী গত ১১ জুন রাতে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ঝরাকে শহরের পুলিশ লাইন সংলগ্ন পুনাক রেষ্টুরেন্টে ডেকে নেন জাকির। ঝরা রাত ৮টার দিকে মা লিপি খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে ওই রেষ্টুরেন্টে আসলে রাসেদ লেনদেনের বিষয়টি স্ট্যাম্পে লিপিবদ্ধ করার দাবি জানান। তার দাবি মত স্ট্যাম্পে বিষয়টি লিপিবদ্ধ করার পর  ওই স্ট্যাম্পের মুল কপি কার কাছে থাকবে তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ঝরা চলে যায়। ঝরা রিক্সা নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার কিছুক্ষণ পর জাকির ঝরাকে ফোন করে জানান, রাসেদ স্ট্যাম্পে লেখাপড়া ছাড়াই টাকা ফেরেত দিতে রাজি হয়েছে। এ কথা শুনে ঝরা আবারো সেই রেষ্টুরেন্টে ফেরত যান। কিন্তু রাসেদ তখন টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। লিপি খাতুন জানান, তখন রাত প্রায় ১১টা বেজে যাওয়ায় তাদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য ঝরা দাদা বিপুল আহমেদকে অনুরোধ করেন। পরে বিপুল আহমেদ, জাকির ও মিজু রাত সাড়ে ১১টার দিকে গাড়িতে করে ঝরা ও তার মাকে বাসার সামনে নামিয়ে দেন। ঝরা এ সময় মেইন গেইটের কলিং বেল বাজাতেই সেখানে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা ৪-৫ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি পেছন থেকে রামদা দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকে। এ সময় ঝরার আর্তচিৎকার শুনে জাকির, মিজু ও বিপুল গাড়ী থেকে নেমে আসতেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। জাকির ও বিপুল তাৎক্ষণিক ঝরাকে গাড়ীতে করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ঝরার রক্তের দরকার পড়লে জাকির, মিজু ও বিপুল তা জোগাড় করে দেন। পরে ওই হাসপাতালে ঝরার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার সওরাওয়ার্দি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা। সেখান থেকে তাকে জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে তার প্রথম অস্ত্রপচার হয়। পরে পঙ্গু হাসপাতালে তার একটি পা কেটে ফেলে হয়।  সেখানে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বেসরকারী ইউনিভার্সেল  মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার করোনা শনাক্ত হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ জুলাই তিনি মারা যান। ঝরার মা লিপি খাতুন এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তার চাচা খন্দকার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ঝরার সঙ্গে রাসেদের টাকা নিয়ে বিরোধ ছাড়া আর কারো সাথে কোন ঝামেলা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ থাকার কারণে আমার গোষ্ঠির প্রধান চাচা বিপুল আহমেদকে ঝরার পাওয়ানা টাকা আদায়ে অনুরোধ করি।’ আনিসুর রহমান বিকাশ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে ঝরা ও রাশেদের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে ঝামেলা চলছিল, এটা আমি জানতাম। পরে আমার চাচা বিপুল আহমেদ আমাকে বলেন, ঝরা ও রাশেদের ঝামেলা মিটাতে হবে তুমি একটু এসো। তার কথা অনুযায়ী আমি পুনাক রেষ্টুরেন্টে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করি। রাসেদ প্রথম দফায় ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন। বাকি ১ লাখ টাকা ১১ জুন ফেরত দিতে রাজি হন। ওই তারিখে রাসেদ আমাদের ডেকে নেন। সেখানে পরে ঝরা ও তার মাকেও ডাকা হয়। আলোচনা শেষে রাসেদ জানান বিষয়টি একটি স্ট্যাম্পে লিখিত হতে হবে। পরে ওই রাতেই স্ট্যাম্প সংগ্রহ দুইপক্ষের কথা লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু স্ট্যাম্পের মূল কপি ঝরা ও রাসেদ দুজনেই দাবি করেন। এই নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে আলোচনা ভেস্তে যায়। পরে আমি সেখান থেকে বাসায় চলে যায়। কিছুক্ষণ পরেই মিজু আমাকে ফোন করে জানান, দ্রুত হাসপাতালে আসেন ঝরাকে সন্ত্রাসী কুপিয়ে আহত করেছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page