1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

খাদ্য সংকট মোকাবিলা, আইল : গিল্ছে আবাদি জমি 

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৩৩ মোট ভিউ

 

 

গৌতম কুমার রায় ॥ দিন দিন দেশে জমি কমছে, আবাদি জমি। জনসংখ্যা বাড়ছে। আর জমির মান বাড়ছে। হচ্ছে সোনার চেয়েও দামি। একখন্ড জমি আজ যে মালিকানা নিয়ে টিকে আছে, ক’বছর যেতে না যেতেই তা খন্ড-বিখন্ড হয়ে তার মালিকানা আরো বাড়ছে। আইল ভেঙে আবার আইল গড়তে হচ্ছে। এতে প্রভাব পড়ছে আবাদে। যেমন এক পিতার কাছে যে জমি এক মালিকানা নিয়ে টিকে ছিল, তা পিতার মৃত্যুর সাথে সাথে ক’ভাই আর ক’বোন মিলে ভাগ করতে গিয়ে খন্ড-বিখন্ড করে মালিকের সংখ্যা বাড়ছে। প্রত্যেক মালিক আবার সীমানা নির্ণয় করতে গিয়ে, সে জমির সীমানায় আইল করছে। এতে যত আইল বাড়ছে তত আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে। আইল বেড়ে যাওয়ায় ঐ সীমানার আবাদি জমিতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সার্বিক ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে দেশ এবং খাদ্যাভাবের এই মহা সংকটের সময়ে উৎপাদন ঘরে তুলতে না পারাটা নিছক বোকামি ছাড়া আর কিছুই না। একটি সূত্র মতে, দেশে এখন কৃষিজ আবাদি জমির পরিমাণ ৭১.৯২ লাখ হেক্টর। জমি বিশেষজ্ঞগণ বলছেন এই জমির মালিকানা নির্ধারণে সীমানা করতে গিয়ে আইলের পেটে যে জমি গেছে তার পরিমাণ মোট ঐ মোট জমির ২ শতকরা। সে হিসেবে আইলের ব্যবহার হয়েছে এমন জমি ১.৪৪ লাখ হেক্টর। যে জমি কিনা বছর বছর আবাদের বাইরে থাকে। আবার প্রতি বছর ওয়ারিশ সংখ্যা বৃদ্ধির কারনে জমিতে আইলের সংখ্যা আরও বাড়ছেই। এতে গরিব দেশে সীমিত সম্পদের উপরে এই প্রভাব অব্যাহত থাকলে অধিক জনসংখ্যার দেশে জনগনের আহার জুটবে কেমন করে ? আমাদের দেশের গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং জোতদার কৃষকদের মানসিকতা ও জমির উপর স্বত্ব নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে আইল তোলা আদৌ সম্ভব নয়। তবে বিকল্প  উপায়ে  সীমানা রেখা তৈরী করে আইলের জমিকে উৎপাদনে ফিরিয়ে  আনা গেলে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করা  অনেকটাই সম্ভব হবে বৈকি। যেভাবে ওয়ারিশগত কারনে সীমানা আাইল বাড়ছে। একটি নমুনা: কুষ্টিয়া জেলার একটি উপজেলার নাম কুমারখালি। এই উপজেলাতে-মৌজা ১৮৭ টি। ১৯৬২ সালের সেটেলমেন্ট’র এস এ জরিপে স্বত্বলিপি রেজিস্টার হয়েছিল ২২৪ টি।

১৯৭৪-১৯৯০ সালের আর এস জরিপে ঐ স্বত্বলিপি বেড়ে হয়েছে ৪২০ টি। জরিপের ভাষায় এই স্বত্বলিপি বা আর ও আর বৃদ্ধি পাওয়া অর্থ হলো জমির মালিক বেড়ে যাওয়া। এখন বলা চলে, এভাবে মালিক বৃদ্ধি পেলে জমি খন্ডিত হতেই থাকবে। আর জমি খন্ডিত হলে জমির আইল বাড়তেই থাকবে। আইল বাড়লে জমির একটা অংশ উৎপাদন বঞ্চিত হবেই।  কুমারখালি উপজেলা ভূমি অফিস হতে প্রাপ্ত নামজারির তথ্যে দেখা যায়, গত ২০১০-২০১১ বছরে ঐ অফিসে নামজারির রুজ্জুকৃত মামলার সংখ্যা ছিল ৬০৬২ টি। ২০১১-২০১২ বছরে তা রুজ্জু হয় ৫৮৮৬ টি। গেল ২০১২-২০১৩ বছরে ঐ মামলার সংখ্যা দাড়ায় ৬৯৮৩ টিতে। তবে বিগত সময়ের পরিসংখ্যান বলছে বছর বছর নামজারির সংখ্যা বাড়ছেই। কেননা জমির মালিকানা বদলে যাচ্ছে এবং তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং জমি ভাগ হচ্ছে। অর্থাৎ আইল বেড়ে জমির একটা অংশ আবাদ বঞ্চিত হয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঞ্চি জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনার যে স্বপ্ন, যে নির্দেশনা, আইলে কৃষি জমির এই উৎপাদন বিমূখতা  তাতে এক চ্যালেঞ্জ ছাড়া আর কি হতে পারে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে জমিতে আইল বেড়ে যাওয়ায় যেভাবে জমি কমছে এই অবস্থা থেকে  বিকল্প উপায় খুজে তা থেকে আমাদেরকে বেড়িয়ে আসা প্রয়োজন। আমাদের সামাজিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন আনা দরকার। কমিউনিটি বেইজ চাষাবাদ দেশে চালু করতে হবে। জমির সীমানা নির্ণয়ে গাছ লাগিয়ে বা তার টানা  দিয়ে  সম্পন্ন করা যায়। মনে রাখতে হবে, আইলের কারণে সেঁচ সুবিধা বাধা পায়। যে কারনে একই ফসলি জমির এক পাশে  ফসল ভালো হলেও অন্য পাশের জমিতে তা ভাল নাও হতে পারে। সরকারী উদ্যোগে চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে এক এক এলাকার জমির আইল তুলে সব জমিতে চাষ দিয়ে নির্ধারিত ফসল উৎপাদন করা যায়। অঞ্চলভেদে কৃষি উৎপাদন করা গেলে কোন ফসলের জন্য কৃষককে লোকসান গুনতে হবে না বা   আতঙ্কে থাকতে হয় না। এ ক্ষেত্রে এলাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব, চাহিদা, তাপমাত্রা, জলবায়ুর বিষয় বিবেচনায়  এনে ফসল উৎপাদনের এলাকা নির্দিষ্ট করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব মোটেও স্বস্তিতে নেই। প্রকৃতির প্রাণিকূল ভবিষ্যৎ এক আতঙ্ককে বহন করে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দা, যুদ্ধ-বিগ্রহ, পরিবেশ-প্রতিবেশ স্বকীয়তা হারিয়েছে,জলবায়ুর তান্ডবে আমাদের বসবাস,খাদ্য উৎপাদনে কপালে চিন্তার ভাজ পরেছে। যে জন্য বারবার নিজেদেরকে উৎপাদনে আসতে বলা হচ্ছে। আমদানি নয় আমাদের রিসোর্স ব্যবহারে জোর দেওয়ার আহ্বান করা হচ্ছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের সামর্থকে প্রতি ইঞ্চি জমিতে ব্যবহার করে উৎপাদনে আসতে বলেছেন। এই আহ্বান আমাদের ভবিষ্যৎ শঙ্কা মোকাবিলায় পথ দেখাচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রতি বছর দেশের মোট আবাদী জমির পরিমাণ কমে আসছে। ওয়ারিশ সূত্রে জমির বাড়তি মালিকানা নির্ণয় করাতে গিয়ে যেভাবে জামর একটা অংশকে উৎপাদন বঞ্চিত করে বন্ধা তৈরী করা হচ্ছে, তাতে সর্বপরি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য অতি অল্প পরিমান আবাদী জমির একটা অংশ এভাবেই উৎপাদন বিহীন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা বছর বছর তা বাড়ছেই। এ্ অবস্থার বিকল্প উপায় খোজা দরকার। তা নাহলে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ¯্রােত ধারায় একটা সময় আসবে আমাদের মাঠের জমিতে সীমানা চিহ্ন রেখাই থাকবে, আবাদী জমি হারিয়ে যাবে অনেক।  গবেষক, উদ্ভাবক,  পরিবেশ ব্যক্তিত্ব।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page