1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :
সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে কেউ টিকে থাকতে পারবেন না : কামারুল আরেফিন এমপি  মায়ের ভাষার অধিকার ও রাষ্ট্র্রভাষা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল বীর বাঙালি জাতির বীরত্বের গৌরবগাঁথা অধ্যায় : ডিসি এহেতেশাম রেজা ২১ কিমি দৌড়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ ইবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত মেহেরপুরে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস : কুষ্টিয়ায় সমকাল সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা কুমারখালীতে যথাযথ মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউ.এস.এ ইনকের মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন আলমডাঙ্গায় যথাযথ মর্যাদায় আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কালুখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ; কুষ্টিয়ায়  ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

 

 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মাত্র ১৮ টি বেড বরাদ্দ । কিন্তু প্রতিদিনই নতুন জেলা ব্যাপি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে । সেই কারণেই সদর হাসপাতালেও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা । যার ফলে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা । ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা সামনে আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তাপস কুমার পাল । কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বরাদ্দ ১৮ বেডের বিপরীতে রবিবার ১০ ই সেপ্টেম্বর সদর হাসপাতালে ৪৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন । বরাদ্দকৃত বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশী হাওয়ায় ১৫ জনকে পেয়িং ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । বাকী রোগীরা ডেঙ্গু ওয়ার্ডের বাইরের বারান্দায় এবং চিপায় চাপায় নিজিদের মত করে বেড পেতে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন । হাসপাতাল সূত্রে আরো জানা যায়, ৭ জুলাই ২০২৩ ইং থেকে গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর দুপুর ২ টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সেবা নিতে ৫৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন । যারা মধ্যে ৪৯৬ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ী ফিরে গেছেন । বর্তমানে আরো ৪২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন এবং ৪ জন চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন । চিকিৎসারত অবস্থায় মৃতদের মধ্যে গত আগস্ট মাসের ৭ তারিখে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন  মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরের মৃত ইলিয়াসের পুত্র হালিম (৬৫), সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ড উপজেলার সাইদ’র স্ত্রী বর্ষা (১৮) এবং  সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখে চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ছাতারপাড়া’র হান্নান’র স্ত্রী বিলকিস (৩৫) । এছাড়াও চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী অপর ব্যাক্তি নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি । এদিকে গতকাল রবিবার বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার খাজানগর চাষী ক্লাব পাড়ার ছেলে রশিদ ফকিরের ছেলে শাকিল (২৫) ডেঙ্গু রোগে আক্রন্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন । চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থেকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা নিতে আসা ইমারত হোসেন টিটন জানান, আমার জ¦র আসার পর হরিণাকুন্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই । ঐখানে তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পরে কর্তৃপক্ষ আমাকে ভালো চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায় । কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে আমি গত ছয় দিন চিকিৎসা নিচ্ছি । বর্তমানে অনেক সুস্থ বোধ করছি ।  কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শ্যামনগর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা জনি ইসলাম তিন আগে জ¦রে আক্রান্ত হয়ে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান চিকিৎসা নিতে । এরপর সেখান থেকে তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠনো হয় । কুষ্টিয়া সদর হাসাপাতালে এসে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে তার ডেঙ্গ সনাক্ত হয় । সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বর্তমানে তিনিও ভালো আছেন বলে জানান । মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত ছোট্ট শিশুর মা কাজল রেখা জানান ছেলেও জ¦র হলে তারা প্রথমে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান । এর দুই দিন পর বাচ্চার অবস্থা আরো খারাপ হলে কর্তৃপক্ষ ভালো চিকিৎসার জন্য আমাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠান । গত পাঁচ দিন কাজল রেখা’র শিশু কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং বর্তমানে তার বাচ্চা ভালো আছেন বলে জানান কাজগ রেখা । সরেজমিনে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বোগীর চাপ অতিরিক্ত হাওয়ার কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তার ও নার্সরা । বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় তিনগুণ হাওয়ায় নির্দিষ্ট ওয়ার্ডের বাইরেই রোগীরা তাদের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছেন । ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহারের নির্দেশনা থাকলেও বেশ কয়েকজন মশারি ব্যবহার ব্যাতিরেকেই নিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা । যার ফলে রোগী সাথে থাকা স্বজনেরা সহ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অনান্য রোগীরা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকছেন । এছাড়া ঠিক মত চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় খুঁজি রোগী এবং রোগীর স্বজনেরা । কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কর্মরত সেবিকা মানছুরা খাতুন জানান, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী অনেক চাপ । আমরা আমাদের সাধ্য মত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি । ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা হলো প্রচুর পরিমানে তরল খাবার  (যেমন: ফলের রস, গ্লুকোজ, ডাবের পানি) খাওয়া । জ¦র থাকলে নাপা দেওয়া হচ্ছে । বেশী জ¦র হলে নাপা সাপোজিটার দেওয়া হচ্ছে এবং ডাক্তারের দেওয়া নির্দেশনা অনুসারে অনান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে । এই বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপতালের আবাসিক ডাক্তার ডাঃ তাপস কুমার পাল বলেন, সামনে ডেঙ্গু রোগীর চাপ আরো বাড়বে । আমরা ইতিমধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অতিরিক্ত আরো ২২ টি বেডের ব্যবস্থা করেছি । আশা করি কোন সমস্যা হবে না । বর্তমানে প্রধান সমস্যা হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা অধিকাংশ রোগীই আতঙ্কিত, তাই তারা হাসপাতাল ছেড়ে যেতে চাচ্ছে না । বর্তমানে যে ৪২-৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী আছে তাদের মধ্যে ৪ থেকে ৫ জন হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেবার মত, বাকীদের অবস্থা ভালো হলেও তারা ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ীতে যেতে চাচ্ছে না ।

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com