1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

জীবননগরে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৪০ মোট ভিউ

 

জীবননগর প্রতিনিধি ॥ চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সার বিক্রেতাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। বিসিআইসি, বিএডিসি এবং খুচরা সার ডিলাররা সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। ন্যায্য মূল্যে সার না পেয়ে প্রতিনিয়ত বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। উপজেলা কৃষি অফিসে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মিলছেনা বলে দাবি কৃষকদের। জীবননগর উপজেলার রায়পুর বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খুচরা সার ব্যবসায়ী মো. আয়নাল হক ১১০০ টাকা মূল্যের প্র্রতিবস্তা ইউরিয়া সার ১২৫০ টাকা দরে এবং ৭৫০ টাকা মূল্যের প্র্রতিবস্তা পটাশ সার ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এছাড়া একই বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী কলম হোসেন, ফারুক হোসেন, ইমরান হোসেন এবং তালেব হোসেন ১১০০ টাকা মূল্যের প্র্রতিবস্তা ইউরিয়া সার ১৩৫০ টাকা দরে এবং ৭৫০ টাকা মূল্যের প্র্রতিবস্তা পটাশ সার ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। পরে মিনাজপুর বাজার এবং বাড়ান্দি বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ সার ব্যবসায়ী সরকারের বেধে দেওয়া মূল্যে সার বিক্রি করছেন না। কোনো অপিরিচিত মানুষ সারের দোকানে ইউরিয়া এবং পটাশ সার কিনতে গেলে তাকে বলা হচ্ছে সার নেই। পরক্ষণেই পরিচিত কৃষক গেলে তাদের কাছে অধিক মূল্যে সার বিক্রি করা হচ্ছে। এদিকে বিসিআইসি (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন) অনুমোদিত জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের জন্য ট্যাগ করা হক ট্রেডার্সে বিকেল ৬ টার সময় গিয়ে দোকান বন্ধ পাওয়া গেছে। ওই সময় সার কিনতে আসা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকরা জানান, অধিকাংশ সময় দোকান বন্ধ থাকে। কৃষকদের অভিযোগ হক ট্রেডার্স বেশিরভাগ সার রাতের আধারে অধিক মূল্যে খুচরা দোকানদারদের কাছে বিক্রি করে দেন। কৃষকরা যাতে সময় মতো জমিতে সার দিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে সরকারের বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) সারাদেশে ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার বিপণনের কাজটি করে থাকেন। সরকারি নিয়ম মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে ডিলার নিয়োগ দেওয়া আছে। ওইসব ডিলারের স্ব স্ব ইউনিয়নেই ব্যবসা পরিচালনা করার শর্তে তাদের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। অথচ পৌরসভার মধ্যেই অধিকাংশ সার ব্যবাসয়ীদের গোডাউন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা শহরের দত্তনগর সড়কের দু’পাশে একাধিক ইউনিয়নের সারের ডিলার রয়েছে। অথচ ওই ডিলারদের ইউনিয়নে গোডাউন রেখে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে সার বিক্রির নিয়ম রয়েছে। কৃষকদের দাবি, ডিলাররা অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য করছে। এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে, জীবননগরে সার ব্যবসায় কৃষি বিভাগের বিন্দুমাত্র তদারকি নেই। আর তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছে মতোই চালাচ্ছে নিজেদের ব্যবসা। সার ডিলারদের ক্যাশ মেমোর মাধ্যমে চাষীদের কাছে সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও বেশি দামে বিক্রির কারণে তা করছেন না ডিলাররা। এছাড়া বিএডিসি ও বিসিআইসির ডিলারদের পাশাপাশি খুচরা সার ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে অধিক দামে সার বিক্রি করলেও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে কৃষকদের পক্ষে কোন অভিযোগ কিংবা পর্যাপ্ত প্রমাণাদি নেই। প্র্রমাণস্বরূপ তারা দোকানের বিক্রি রশিদ বা প্রমাণপত্র চান। অভিযোগ রয়েছে, সার ডিলারদের কাছে ক্রেতাদের কেউ রসিদ চাইলে তাদেরকে সরকার নির্ধারিত দাম উল্লেখ করেই রশিদ দেওয়া হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তার কাছে সার বিক্রি করছেন না তারা। বলছেন, বরাদ্দের সার শেষ, এখন যা আছে বাইরে থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে হয়েছে। জীবননগর উপজেলার কৃষকরা তাদের জমিতে চলতি আমন মৌসুমে ইউরিয়া ও পটাশ সার দিতে না পেরে কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে হতাশাগ্র্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, সারের কৃত্তিম সংকট দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাদের। দোকানে সার কিনতে গেলে তাদের বলা হচ্ছে সার নেই। অনেক দোকানদার বলছেন, সার বেশি দামে কিনছি তাই বিক্রি করতে হচ্ছে বেশি দামে। কিন্তু নির্দিষ্ট দামে কৃষকরা সার কিনতে চাইলে বলা হচ্ছে সারের সংকট রয়েছে। কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, সার ডিলারদের কাছে সরকারি দরে ক্যাশ মেমোসহ সার কিনতে গেলে পটাশ ও ইউরিয়া সার নেই বলে জানিয়ে দেয়। আর বেশি দামে দিলেই পাওয়া যায় পর্যাপ্ত সার। ক্যাশ মেমো চাইলে কোনো ডিলার তা দিচ্ছেন না। রায়পুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাড়ান্দি গ্রামের কৃষক সুফি আলম বলেন, আমাদের এলাকায় সারের কোনো ডিলার আছে কিনা আমার জানা নেই। আমরা শহরের গোডাউন থেকে অধিক দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছি। একই কথা জানালেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক গোলাম রহমান। তিনি বলেন, আমরা প্রতি কেজি ইউরিয়া ২৭ টাকা এবং পটাশ ৩০ টাকা দরে কিনছি। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে জীবননগর উপজেলায় ৬ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। আর এর বিপরীতে সেপ্টেম্বর মাসে টিএসপি সার ২০০ মেট্রিক টন, পটাশ সার ২২৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫১১ মেট্রিক টন এবং ইউরিয়া সার ৯২০ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি অফিসের মতে সারের কোনো সঙ্কট থাকার কথা না। জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগ পেলে ওই সার ব্যবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল করা হবে। ইতোমধ্যে সরকারের বেধে দেওয়া মূল্যে সার বিক্রি করার জন্য উপজেলার বিসিআইসি ও বিএডিসি অনুমোদিত সার ডিলারসহ খুচরা সার বিক্রেতাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা হলো দেশের প্র্রাণ। সার ব্যবসায়ীরা যদি কৃষকদের জিম্মি করে বেশি দামে সার বিক্রি করে থাকে তাহলে ওই দোকানদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন থেকে নিয়মিত সারের বাজার মনিটরিং করা হবে। অধিক মূল্যে সার বিক্রিকারীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানা করা হবে। কোনোভাবেই কৃষিখাতকে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page