1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :
মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ আজ শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নানা প্রস্তুতি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের ভেড়ামারাবাসীর উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে : এমপি কামারুল কুষ্টিয়ায় মতিউর রহমান লাল্টুর ৬৯তম জন্মদিন পালন কুষ্টিয়া জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে টাকা দাবী; থানায় জিডি কুমারখালীতে পাবলিক লাইব্রেরীর আয়োজনে একুশের কবিতা পাঠের আসর দৌলতপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন কুষ্টিয়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় দৈনিক ঘোষণার ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মিরপুরে মানববন্ধন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ : এমপি রউফ

জয়তু আন্দোলনের বাজার, জয় হোক কুষ্টিয়াবাসীর

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৭ মে, ২০২৩

॥ ড. অখিল পোদ্দার ॥

বাড়িতে পিওন আসতেন, অনিয়মিত অসময়ে। বড় ভাইয়ের চাকরির সুবাদে চিঠির আনাগোনা বেড়েছিল। হঠাৎ একদিন-টাইপে ছাপা এনভেলপ এসেছিল। সে রাতে হারিকেনের আলোয় আমাদের ঠিকানা, বাবার নাম-পদবীর শব্দগুলো অনেকবার দেখেছিলাম। সেই থেকেÑছাপার অক্ষরে নিজের নামটা দেখার বড্ড ইচ্ছে আমার।
অন্তরগহীনের এই লোভ থেকেই পত্রিকার পাতায় নাম ছাপানোর চেষ্টা। আর সে তৃষ্ণা নিবারণ করেছিল আন্দোলনের বাজার। নাম-সুধার গ্লাস এগিয়ে দিয়েছিলেন পত্রিকাটির সম্পাদক মনজুর এহসান চৌধুরী।
বহু বছর বাদে এ পত্রিকায় আবার নিজ নামে ছাপা হবে লেখাÑতাই আনন্দ রঙ মেখেছে মনে-মননে। কারণ তদানীন্তন কুষ্টিয়াতে প্রথম অফসেটে ছাপা হয়েছিল এটি। অনেক সাংবাদিক কম্পিউটার নেড়েনুড়ে দেখলেন প্রথম। সুযোগ বুঝে রঙিনও হতো আন্দোলনের বাজার। সেসব লাল অক্ষরের গোটায়ফোটায় এক ধরণের রক্তক্ষরণও ছিল। ছিল তমো গুণের উল্লাস। রাজনৈতিক ঝগড়াঝাঁটির চেয়ে তাতে বিষয়বস্তু প্রাধান্য পেতো। সুতরাং আন্দোলনের বাজার তখন থেকেইÑ‘কালার লাইক এ ডেনজার সিগন্যাল।’
তখন আমি জনকণ্ঠ পত্রিকার ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় সংবাদদাতা। প্রেস ক্লাবের সেক্রেটারি। উদীচী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু পরিষদেরও সংগঠক। সেসব কাজের ভিঁড়ে সন্ধ্যাপরবর্তী সময়টুকু রীতিমতো উদযাপন করেছি আন্দোলনের বাজারের আবহে। সেখানে স্টাফ রিপোর্টার থেকে বিশেষ প্রতিনিধি। কতো-কতো স্টোরি লিড হয়েছে তার ঠিক নেই। স্মৃতির ভাঁড়ারে কতো শত গল্প জমাট, অনবদ্য এখনও। অন্যরা যা করতে সাহস পেতেন না, তা ছেপে দেখাতো আন্দোলনের বাজার।
ঢাউস জায়গা ছিল না। অল্পস্বল্প চেয়ারটেবিল আসবাব যা ছিল তা ঢাকার কিছু পত্রিকার চেয়ে ঢের বেশি। আন্দোলনের বাজার এর মধ্য থেকেই গোঁয়রগিরি করতো। আমি বেশ এনজয়ও করতাম সে পরিবেশকে। এ সবের একটি কারণ অবশ্যি খুঁজে পেয়েছি বেশ পরে ।
আজ থেকে ২৪৩ বছর আগে ১৭৮০ সালে একটি পত্রিকার জন্ম আজও ইতিহাস হয়ে আছে। তখনকার দাঙ্গাদখলদার ইংরেজদের ভাষায় সেটি ছাপা হতো। যার প্রকাশস্থান ছিল ভারতের রাজধানী কলকাতা। ব্রিটিশবাংলা তথা তখনকার ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি শাসিত কলকাতার এ পত্রিকাটি দক্ষিণ এশিয় উপমহাদেশের প্রথম সংবাদপত্র। নাম ‘হিকিস বেঙ্গল গেজেট।’ কালিকট বন্দর, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ও অন্যান্য বেনিয়াদের সুবিধার জন্য জেমস অগাস্টাস হিকি নিজেই পত্রিকাটি ছাপতেন। এ ঘটনার পর কলকাতা থেকে ৩১০ কিলোমিটার দূরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপমহাদেশের দু:সাহসিক ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি। ইংরেজদের দুঃশাসন আর নির্মমতার বিরুদ্ধে কলমে শান তুলেছিলেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। সন্ত্রাসী ইংরেজদের ভয়ে আখের মাঠে ছাপা হতো সে পত্রিকা-গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা। আর এ যুগে এসে কাঙালের প্রেস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অভয় দামামা বাজালেন আন্দোলনের বাজার সম্পাদক। হিকির পত্রিকা নবজাতক অবস্থাতে তার ইংরেজ সাহেব ভাই-ব্রাদাররাই মেরে ফেলে। গভর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস ও তাঁর বউকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করায় মুদ্রণযন্ত্র বাজেয়াপ্তও হয়েছিল। গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা নিরেট ঐতিহাসিক ঘটনা কিন্তু ধারাবাহিকতা বজায় না রাখার পাপে অন্বিষ্ট আমরা-কুষ্টিয়াবাসী। সেদিক থেকে আন্দোলনের বাজার হালফিল সতেজ সবুজ ছায়াবৃক্ষ।
তখনকার কুষ্টিয়াতে অস্ত্র সমর্পণ হতো। ব্রিক ফিল্ডে মানুষ পোড়ানো, গুলির বদলে জবাই, চামড়া বেচতে গরু চুরি-এমন আরও কতো শত ঘটনার আবরণ ছিল। শহরের সন্ধ্যেগুলোতে রবীন্দ্র সঙ্গীতের সুর মিশতো নীল মেঘের ছায়ায়। নজরুল জয়ন্তী পালন করতে এক দঙ্গল ছেলেমেয়ে চাঁদার রশিদ নিয়ে ছুটতেন দাতার দরবারে। পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সুকান্তর পদ্য মুখস্ত বলতো শিশুরা। শ্রদ্ধাভাজন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরীর বক্তব্য, অশোক সাহার গান, লালিম হকের মিষ্টি কথা শুনতে গায়ে গা লাগিয়ে ভিঁড় জমাতো। জেলা স্কুলের মাঠে বিজয় মেলায় মুক্তিযুদ্ধের গান করতেন টুনটুন বাউল। ক’দিন আগেও আন্দোলনের বাজার অফিসে সীমান্তের লোকজন আসতো বিচার দিতে। দৌলতপুরের সাধুসঙ্গ, সাইবেরিয়া আর চড়–ইবিলের মাছের বাদী বিবাদী আসতেন সন্ধ্যের আগে। তাঁরা সবাই নির্যাতিত। ধারণা-আন্দোলনের বাজার ঘটনাটি ছাপলেই আচারবিচার তাঁর পক্ষে যাবে। প্রেস রিলিজ হাতে এনজিওর মাঠকর্মী, জনসমাবেশে নেতাদের খবর, সাংস্কৃতিক জনযোদ্ধাদের উপস্থিতি আর আসা-যাওয়া চলতো গভীর রাত অব্দি। কাকে কতোটুকু কাভারেজ দিতে হবে তা সবিশেষ মনে রাখতেন সম্পাদক নিজে। মন ভালো থাকলে গিটার বাজিয়ে পাশের কক্ষে নিজের লেখা গানে সুরও ভাজতেন। মাঝেমধ্যে রান্নায় নাক গলাতেন মশলার ঝাঁঝ কোন মাংশে কতোটুকু। হঠাৎ চিৎকারে শুধরে দিতেন সাংবাদিকের ভুল। আমরা যারা দূরে আছিÑনিজের মতো নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত, শুধু তারাই জানি সেই সব দিনরাত্রির ভালো লাগা ভালোবাসার ক্ষণেক খুনসুটি। জয়তু আন্দোলনের বাজার। জয় হোক কুষ্টিয়ার মানুষের।
(লেখক: ড. অখিল পোদ্দার, প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশন বসধরষ: ঢ়ড়ফফবৎধশযরষ@মসধরষ.পড়স)

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com