1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

তেল উৎপাদন কমিয়ে মার্কিন ডলারকে পতনের যুদ্ধে সৌদির সাথে চীন

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৩

 

তাইন রিজভী ॥ রাশিয়ার ইউক্রেন অভিযান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যবস্থায় যে গণতান্ত্রিক বনাম একনায়কতান্ত্রিক মেরুকরণের জোট সংহত হতে চলেছে, তার একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর নেতৃত্ব। এবং সৌদি আরব সেখানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে জোট বেঁধে,মার্কিন মুদ্রা ব্যবস্থায় ধ্বস নামানোর সম্মুখ যোদ্ধা। মূলত মার্কিন মুদ্রা ব্যবস্থার পতন ঘটাতে সৌদি আরব তেলের উৎপাদন হ্রাস করছে এবং ওপেককে তেল উৎপাদন হ্রাসে সমন্বিত করছে। যেহেতু তেলের বাজারে ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে, সেক্ষেত্রে তেলের উৎপাদন হ্রাস করলে ডলারের বিপরীতে তেলের মূল্য বেড়ে যাবে অর্থাৎ তেলের বাজারে ডলারের দর পতন ঘটবে। তেলের বাজারে মার্কিন ডলারকে অস্থিতিশীল ও নিস্তেজ মুদ্রায় পরিণত করার মাধ্যমে বিশ্ব বাজার থেকে ডলারকে বিতাড়িত করাটাই হচ্ছে চীনের নেতৃত্বাধীন রুশ-সৌদি-ইরান জোটের সমন্বিত যুদ্ধকৌশল এবং সেক্ষেত্রে কাঙ্খিত সাফল্যই হতে পারে তাদের জন্য একটা নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গঠনের টার্নিং পয়েন্ট। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও তেলের বাজারে ডলারের দর পতন ঠেকাতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে সুদের হার বাড়াচ্ছে। তাতে করে ইউএস ট্রেজারি বন্ডে ডলারের বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে তেলের বাজারে তখন সংকুচিত মুদ্রা প্রবাহের সুফলে পুনরায় ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। সেকারনে তেল উৎপাদন হ্রাস করার পরেও স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই ডলারের বিপরীতে পুনরায় তেলের দরপতন ঘটেছে। বৈশ্বিক মুদ্রা ব্যবস্থা পরিবর্তনের এই নতুন যুদ্ধে, মার্কিন অর্থ ব্যবস্থা কে চাপে ফেলতে সৌদি আরব আবারও তেল উৎপাদন হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক যদি আবারও সুদ বাড়ানোর সক্ষমতা  রাখে,তবে সৌদি আরবের তেল উৎপাদন হ্রাস কৌশল এবারও ব্যর্থ হবে। পক্ষান্তরে সৌদি আরবের যদি বারংবার তেল উৎপাদন হ্রাস জনিত আর্থিক চাপ বহনের আরও সক্ষমতা থাকে তবে দেয়ালে পিঠ না ঠেকা পর্যন্ত,তারা সে চেষ্টা করবে। পক্ষান্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জি-সেভেন রাষ্ট্রগুলোও কিন্তু নির্ধারিত দামে রাশিয়ান তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষনা করে,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।   তবে এহেন আর্থ-জ্বালানী টালমাটাল পরিস্থিতিতে নিজেদের অর্থনীতির পতন ঠেকাতে- দেশে দেশে সরকারগুলো যদি বিস্তৃত পরিসরে জ্বালানি সাশ্রয়ের আপদকালীন পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হয়,তবে বিশ্বব্যাপী জিডিপি গ্রোথ কমে যাবে। অর্থাৎ মানুষের আর্থিক অবস্থার পতন ঘটবে। বিশেষত জ্বালানি এবং ডলারের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধির এই যুদ্ধ চলতে থাকলে,দেশে দেশে সরকারগুলো সংকোচন মূলক অর্থনীতিতে যেতে বাধ্য হবে। বিশেষত করোনাত্তোর ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে, যুদ্ধের বহুমাত্রিক পরীক্ষণে বরং বৈশ্বিক-মন্দা অনিয়ন্ত্রিত গতি পেয়ে গেলে সেটা কোন পক্ষেই পরিকল্পিত সুফল বইয়ের আনবে না। সেক্ষেত্রে  উল্লেখ্য- “ষোড়শ শতকে যখন প্রিন্টিং প্রেস আবিষ্কার হয়,তখন সবাই ভাবল যে রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটবে এবং বাইবেলের প্রসার ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটলো এবং চার্চের ক্ষমতা’ও লুপ্ত হলো,কিন্তু সবকিছুকে ছাড়িয়ে শিক্ষার বিস্তার ঘটল।”।  কিন্তু পরিস্থিতি চরমে গেলে তখন দেশে দেশে মানুষকে নিজ নিজ দায়িত্বে অর্থনৈতিক দুরবস্থা মোকাবেলায় হিমসিম খেতে হবে, এবং এটাই বাস্তবতা।  -তাইন রিজভী। ইমেইলঃ ঃ ধরহৎরুার@মসধরষ.পড়স

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com