1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

দৌলতপুরে আগুনে পুড়িয়ে তিনজনকে হত্যা মামলা পিবিআইতে স্থানান্তরের দাবি

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২২ মে, ২০২৩

 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বসতঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে দিনু মন্ডল, ফারুক ও আকতার মন্ডল নামে তিনজনের মৃত্যু হয়। আলোচিত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই প্রকাশ চন্দ্রের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে হত্যা মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন মামলার বাদী মোজাম মন্ডল। মামলার তদন্তভার পিবিআই এ স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে লিখিত অভিযোগে বাদী মোজাম মন্ডল লিখেছেন, গত ২৭ এপ্রিল চিলমারী বাজার সংলগ্ন রাস্তাকে কেন্দ্র করে মন্ডল বংশের ওপর খা ও সিকদার বংশের লোকজন বর্বরচিত, নারকীয়, পৈশাচিক ও অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার প্রায় একমাস অতিবাহিত হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এ যাবৎকাল মাত্র চারজন এজাহারভুক্ত আসামী গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা ২০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও সঠিক প্রতিবেদন না দেওয়ার কারণে গ্রেফতারকৃত সকল আসামীদের পরের দিন জামিনে মুক্ত হয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই প্রকাশ আলামত হিসাবে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি জব্দ করলেও অজ্ঞাত কারনে এজাহারে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৪/৫ ধারা ও অস্ত্র আইনের ১৯ ধারা সংযোজন করেননি। ফলে আসামীরা সহজেই জামিনে মুক্ত হয়। তাছাড়া পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে পুড়ানো অগ্নি দগ্ধ ভিকটিম ১ মে দুইজন এবং ৪ মে একজন মৃত্যুবরন করলেও যথা সময়ে ৩০২ ধারা সংযোজিত না করা এবং সমায়োচিত যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং বিস্ফোরক আইনের ধারা সংযোজন না করায় ১০ মে হাইকোর্টে থেকে আসামীরা জামিনে মুক্ত হয়। জামিনে মুক্ত হয়ে আসামীরা এলাকায় এসে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। সংঘঠিত ঘটনা দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত স্বাক্ষীদের ডেকে কোনো জবানবন্দী নেন নি। ১৫ মে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শনে আসলে উভয়ের সামনে বিষয়গুলি উত্থাপন করলে তদন্তকারী অফিসার জানান যে, ১৫ মে পর্যন্ত ধারা সংযোজন সংক্রান্ত কোনো আবেদন বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয় নাই। তখন উপস্থিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১৬ মে দিনের মধ্যে যাবতীয় আলামতসহ এজাহারে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৪/৫ ধারা ও অস্ত্র আইনের ১৯ ধারা সংযোজনের আবেদন আদালতে প্রেরণ করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর ১৭ মে জব্দ তালিকার একটি ফরোয়ারডিং আদালত প্রেরণ করেন। বিস্ফোরক দ্রব্যাদি জব্দ করেন ২৮ এপ্রিল কিন্তু জব্দ করা দেখান ২৯ এপ্রিল তারিখে। ১৬ মে তারিখে প্রেরিত জব্দ তালিকার সাথে আদালতের ফরোয়ারডিংয়ের মিল নাই। জব্দ তালিকায় ছয়টি ঢাল উল্লেখ থাকলেও ফরোয়ারডিং উল্লেখ করেনি। তাছাড়া রহস্যজনকভাবে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি জব্দ তালিকায় উল্লেখ থাকলেও বিস্ফোরক আইনের ধারা সংযোজন করেন নাই। তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বলেন যে, এ পর্যন্ত ১৪ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত আমাদের পরিবারের কোনো ভিকটিমের জবানবন্দি নেননি। যদি প্রকৃতভাবে জবানবন্দি নিতেন তাহলে তাদেরকে ঘটনাস্থলে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। এই মামলাটি দায়সারাভাবে তদন্ত করছে। তিনি যদি এই মামলাটি তদন্ত করেন তবে আমরা সঠিক বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হব। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কার্যকলাপে আমরা চরমভাবে হতাশায় ভুগছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের সাথে যোগসাজগে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ভিন্নখাতে প্রবাহিত হচ্ছে। সার্বিক কার্যক্রম আমাদের কাছে সন্দেহজনক মনে হওয়ায় মামলার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তে অভিজ্ঞ ইউনিট পিবিআই এর একজন সিনিয়র অফিসার দ্বারা সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। বাদী পক্ষের আইনজীবী আরিফুল ইসলাম রিপন বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দায়সারা ভাবে তদন্ত করছে। আসামীদের সাথে যোগসাজসে মামলার তদন্ত কার্যক্রম ভিন্নখাতে প্রবাহিত হচ্ছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তরিত করার দাবি জানাচ্ছি। নিহতদের পরিবারের লোকজন বলেন, রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খা ও শিকদার গ্রুপের শতাধিক লোকজন নির্মমভাবে মন্ডল বংশের লোকজনদের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে হামলা করে। বিভিন্ন অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মন্ডল বংশের প্রায় ২৫ জনকে গুরুতর আহত করে। তাদের দেয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফারুক, আকতার মন্ডল ও দিনু মন্ডল ঢাকায় মারা গেছে। নৃশংস হত্যাকা-ের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। খুনীদের ফাঁসি চাই। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই প্রকাশ চন্দ্র বলেন, চিলমারীতে প্রতিপক্ষের হামলায় তিনজন নিহতের ঘটনায় করা মামলাটি আইনানুযায়ী নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হচ্ছে। বিস্ফোরক দ্রব্য, রামদা, ঢাল, তলোয়ার, হাসুয়া (দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র), ঘরবাড়ি ভাংচুর ও পুড়ানো হয়েছে, টিন পুড়েছে, ঘর ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়েছে, সেখানকার ছাই সিজ করা হয়েছে। তিন ধরনের জব্দ তালিকা সিজ করেছি। কিছুকিছু আলামত ঢাকায় ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ চলছে। এক প্রশ্নের জবাবে এস আই প্রকাশ আরও বলেন, উনাদের অভিযোগ সত্য না। আসামি কোর্টে ওঠার আগেই আমি তিনিটি জব্দ তালিকা আদালতে জমা দিয়েছি। আসামির রিমান্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। রিমান্ড দেয়ার বিষয়টি আদালতের। জব্দ তালিকার কপি গুলো চার্জশিট জমা দেয়ার সময় মামলার মূল ডকেটের সাথে জমা দেয়া হয়। আসামিদের কয়েকজন কারাগারে আর বাকিরা উচ্চ আদালতের জামিনে আছেন। ঘটনা ঘটার দিন থেকে এখন পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ওই এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পুলিশ দিনরাত কাজ করছে।

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com