1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

নিউ সুপার মার্কেটে আগুন

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৩

 

ঢাকা অফিস ॥ রাজধানীর নিউ সুপার মার্কেটে অগ্নিকা- ঘটেছে। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এর আগে ভোর ৫টা ৪০ মিনিট থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুন এখনও পুরোপুরি নেভেনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি)  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   শনিবার (১৫ এপ্রিল) বেলা ১০টা ২০ মিনিটের দিকে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, ঢাকা নিউ সুপার মার্কেট (দক্ষিণ) ভবনের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের ৩০টি ইউনিটের সদস্যরা অগ্নিনির্বাপণে কাজ করছেন। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সেনা, নৌ, বিজিবি, র‌্যাব সদস্যরা।  শনিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বলছেন, বাতাসের কারণে বেশ ধোঁয়া হচ্ছে। এতে অন্ধকারে কাজ করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। ঈদের কেনাকাটা জমে ওঠায় নিউ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও মধ্যরাত পর্যন্ত দোকান খোলা রেখেছিলেন। সেহেরি খেয়ে যখনই ঘুমাতে যাবেন ঠিক তখনই খবর আসে আগুনের। ব্যবসায়ীরা দ্রুত এসে দোকানের মালামাল বের করার চেষ্টা করেন। তাদের ধারণা, আগুনে প্রায় দেড় হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  অগ্নিকা-ের সূত্রপাতের চার ঘণ্টা পর আগুনের শিখা আর দেখা না গেলেও এখনও ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে বিপণি বিতানটি। এই বিপণি বিতানের দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কেটের দোতলা ও তিন তলায় সবই পোশাকের দোকান। আগুন নেভাতে ভেতরে গিয়ে ধোঁয়ায় ফায়ার সার্ভিসের ১২ জন কর্মী এবং একজন স্বেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান ব্রিগেডিয়ার মইন। অগ্নিকা- শুরুর পর দোকান মালিক ও কর্মীরা ভেতরে ঢুকে মালামাল বের করা শুরু করলেও ধোঁয়ার কারণে এখন আর ভবনের ভেতরে কাউকে ঢুকে দেওয়া হচ্ছে না। যেসব দোকানকর্মী পোশাক উদ্ধারে ভেতরে ঢুকেছেন, তাদের সবাইকে বেরিয়ে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। আগুনে পুড়ে কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গভীর রাতে মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার পর ভেতরে কারও থাকার কথা না। আর মার্কেট খোলার আগেই ভোরে আগুন লাগে। মার্কেটের দ্বিতীয় তলা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান নিউ মার্কেট থানার ওসি শফিকুল গণি সাবু। কী কারণে আগুন লাগল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। দোতলা ও তিন তলায় থাকা অধিকাংশ দোকানের পোশাক পুড়েছে বলে ধারণা করা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্রও এখনও পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মইন বলেন, “আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত না করে বলা যাবে না। তবে তিনি বলেন, “এখন শুষ্ক মৌসুম চলছে, বাতাসে আর্দ্রতা অনেক কম। মার্কেট এবং দোকান সৌন্দর্য করার জন্য অনেক বড় বড় পাওয়ারের লাইট ব্যবহার করে থাকি। এসব কারণে অগ্নিকা- হতে পারে।” গাউছিয়া মার্কেট থেকে ঢাকা নিউ মার্কেট সংযোগ ফুটব্রিজটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছে এখন। সেই ভাঙার কাজের সময়ও আগুন লাগতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। তারা তা ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককেও জানিয়েছেন। রোজার ঈদের আগে নিউ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা নতুন পণ্য তুলেছিলেন দোকানে। আগুন লাগার পর ব্যবসায়ীদের হাহাকার শোনা যায় মার্কেটের সামনে। আগুনের খবর পেয়েই যেসব দোকানি আসতে পেরেছেন, তাদের মরিয়া হয়ে ঈদের আগে দোকানে তোলা কাপড় সরাতে দেখা গেছে। আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ২৮টি ইউনিট কাজ করছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী এবং বিজিবির সদস্যরাও। আগুন নেভানোর কাজটি নির্বিঘœ করতে বাইরে কাজ করছে পুলিশ। মিরপুর রোডসহ আশপাশের সড়কগুলোকে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। উৎসুক মানুষের ভিড়ে অগ্নি নির্বাপন ও উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে ভিড় সরাতে কাজ করছে পুলিশ। অগ্নিকা-ের পরে উৎসুক জনতার কারণে আগুন নির্বাপণে সমস্যার কথা তুলে ধরে ফায়ার সার্ভিসের ডিজি মইন বলেন, “ এই জনসমাগমের কারণে কাজে খুবই ব্যাঘাত ঘটে, ব্যাহত হয়। উৎসুক জনতা একটু যেন দূরে থাকেন, আমাদের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর সুযোগ দেন। ঈদের আগে ঢাকার পোশাকের অন্যতম বড় বিপণি কেন্দ্র বঙ্গবাজারে আগুনের ঘটনার রেশের মধ্যেই নিউ সুপার মার্কেটে বড় ধরনের এ অগ্নিকা-ের খবর এলো। ১১ দিন আগে এমনি এক সকালে লাগা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বঙ্গবাজারের টিন ও কাঠের তৈরি তিন তলা মার্কেট। লাগোয়া বিপণি বিতানগুলোও বাদ যায়নি ভয়াবহ সেই আগুন থেকে। তারপর গত বৃহস্পতিবার রাতে আগুনে পুরান ঢাকার নবাবপুরের ২০টি গুদাম পুড়ে যায়। বারবার আগুন লাগছে, এটা কোনো নাশকতা কি না, তা জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালবক ব্রিগেডিয়ার মইন। তিনি বলেন, “একের পর এক কেন আগুন লাগছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ করব তারা যেন বিষয়টি খতিয়ে করে দেখেন।” ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলোর বিষয়ে রোববার প্রেস ব্রিফিং করা হবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, “আগামীকাল ১টায় ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে একটা প্রেস ব্রিফিং করব, যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেট সম্পর্কে আমরা আপনাদের অবহিত করব।”

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com