1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

পরিষদে চেয়ারম্যান নাতির দাপট, জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ : ৫০ টাকার বদলে নেওয়া হচ্ছে ১৫০

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৪

 

 

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জন্মনিবন্ধন করতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চরসাদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভূয়া উদ্যোক্তা মিলন হোসেন (২৪) ও নিয়োগপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা নাসিম রেজার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে ওই পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেছের আলী খাঁ’র নির্দেশেই চলছে এমন অনিয়ম। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তোভোগী আবুল হোসেন মুকুল। তিনি চর সাদিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য (মেম্বর)। অভিযোগের অনুলিপি দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ( উপ সচিব) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। অভিযোগকারী আবুল হোসেন মুকুল জানান, সম্প্রতি তিনি বাজারের এক কম্পিউটার থেকে নিজ, তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্মদিনে নামের ভুল সংশোধনী আবেদন করেন। গত রোববার পরিষদে ৫ জনের জন্মনিবন্ধনের কপি আনতে গেলে প্রতিপিচ ৫০ টাকার বদলে ১৫০ টাকা করে ৭৫০ টাকা দাবি করে ভূয়া উদ্যোক্তা মিলন এবং নিয়োগকৃত উদ্যোক্তা নাছিম রেজা। তিনি ৩০০ টাকা দিয়েও জন্মনিবন্ধন না পেয়ে ফিরে গেছেন। সেজন্য যথাসময়ে বাচ্চাদের বিদ্যালয়ের জন্মনিবন্ধনের কপি দিতে পারেননি। তিনি বিচার চেয়ে ডিসির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাঁর  ভাষ্য, মিলন চেয়ারম্যানের নাতি ছেলে। সেই দাপটে চেয়ারম্যানের নির্দেশে মানুষকে জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। তিনি সুষ্ঠু বিচার চান। জানা গেছে, চর সাদিপুর পরিষদে নিয়োগকৃত উদ্যোক্তা নাছিম রেজা ও মিম খাতুন। মেছের আলী খাঁ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে নিয়োগকৃত উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে তাঁর নাতি ছেলে মিলনকে দিয়ে অবৈধভাবে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করাচ্ছেন। ওয়েবসাইডের গোপন পাসওয়ার্ডও থাকে মিলনের কাছে। আরেক অভিযোগ সাদিপুর গ্রামের মো: স্বপন হোসেন। তিনি জানান, গত বুধবার তাঁর জন্ম নিবন্ধন কার্ড অনলাইন করে ২৫০ টাকা নিয়েছে মিলন। সেই আবেদনে নামের বানান ভুল হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার এটি সমাধান করতে গিয়ে তিনি আরো ২৫০ টাকা দিয়েছেন মিলনকে। সাবেক ইউপি সদস্য মুকুলের কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ স্বীকার করে উদ্যোক্তা নাছিম রেজা ফোনে জানান, তিনি নিয়োগপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা হলেও কাজ করেন চেয়ারম্যানের নাতি ছেলে মিলন। আপনি মিলনের সাথে কথা বলেন। পরিষদের সচিব সোহেল রানা জানান, শিশুদের জন্মনিবন্ধনের জন্য ২৫ টাকা আর বড়দের জন্য ৫০ টাকা সরকার নির্ধারিত ফি। কিন্তু অন্যান্যে কাজের চাপে জন্য জন্মনিবন্ধনের কাজ করে উদ্যোক্তারা। ওদিকের কি হচ্ছে তিনি তা জানেন না। অভিযোগ অস্বীকার করে ভূয়া উদ্যোক্তা মিলন হোসেন জানান, তিনি পরিষদে বসে শুধু আবেদনের কাজ করেন। সেজন্য ১০০ টাকা করে নেন তিনি। সরকারি ফি কত?  আপনি কি উদ্যোক্তা?  এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আপনি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান মেছের আলী খাঁ ফোনে জানান, মুকুল মেম্বর ব্যক্তিগত সুবিধা না পেয়ে মিথ্যে দোষারোপ করছে। উদ্যোক্তাদের বেতন দেওয়া হয়না। সেজন্য জন্মনিবন্ধনে ১০০ টাকা করে নেন। মিলন তাঁর নাতি ছেলে। তিনি এসব নিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। ইউএনও মো. মাহবুবুল হক জানান, তিনি অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছেন। জেলা প্রশাসক স্যারের কাছ থেকে নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। জেলা প্রশাসক মো. এহেতাম রেজা জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com