1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :
জিম্বাবুয়ে সিরিজের শুরুতে থাকবেন না সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা কাপে জিনাতের স্বর্ণ জয় বাংলাদেশের স্পিন বিভাগে পার্থক্য তৈরি করতে চান মুশতাক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রপতির পাকিস্তান সফর দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রথম ধাপের উপজেলা ভোট : ৭ চেয়ারম্যান ও ৯ ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমিরের বৈঠক: কাতারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহায়তা চায় বাংলাদেশ ফের তাপমাত্রা বাড়ার আভাস দেশি-বিদেশি চক্র নির্বাচিত সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে : কাদের প্রধানমন্ত্রী ও কাতার আমিরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ১০ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই

পেঁপে একটি স্বল্পমেয়াদি ফল, অল্প জায়গাতেই চাষ করা যায়

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

 

কৃষি প্রতিবেদক ॥ পেঁপে আমাদের দেশে একটি অন্যতম উপকারী ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় পেঁপের অবস্থান অন্যতম। এটি কাঁচা ও পাকা দুভাবেই খাওয়া যায়। কাঁচা অবস্থায় সবজি ও পাকা অবস্থায় ফল হিসেবে খাওয়া হয় পেঁপে। আর এটি পাওয়া যায় সারা বছরই। পুষ্টিমানে সমৃদ্ধ ফলটি মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। পেঁপে একটি স্বল্পমেয়াদি ফল, অল্প জায়গাতেই পেঁপে চাষ করা যায়। বাড়ির আঙিনায় অল্পকিছু গাছ লাগিয়ে সারা বছর সবজি ও ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে কাঁচা পেঁপে ভাজি ও ডাল দিয়ে নানা রকম তরকারি খাওয়া হয়ে থাকে। এমনকি এটি বিভিন্ন মাংসেও দিয়ে রান্না করা হয়। এ ছাড়া কাঁচা পেঁপের হালুয়া আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। এত সুস্বাদু খাবার হওয়ার পাশাপাশি কাঁচা  পেঁপের রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। তাই বিশেষজ্ঞরা একে সুপারফুড হিসেবেও আখ্যায়িত করে থাকেন। শরীরকে সুস্থ রাখতে ও শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করার পাশাপাশি এটি জ্বর নিরাময়ে, পেটের সমস্যা দূর করতে, গ্যাস্ট্রিক এবং বদহজমেও অনেক উপকারী। কাঁচা পেঁপেতে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম থাকে। এতে কেমোপেইন, প্যাপিন, পাইপাইন ও সাইমোপ্যাপিনের মতো উপাদান থাকে। এগুলো কার্বোহাইড্রেট ও  প্রোটিন চর্বি দূর করতে সাহায্য করে। এটি পেটের জন্য অনেকটা ওষুধের মতো কাজ করে থাকে। কাঁচা পেঁপে কোলনের জন্য এবং পেটের পচন প্রকিয়ার জন্য অনেক ভালো। এটি পেটে গিয়ে অনেকটা ঝাড়ুর মতো করে পেটকে পরিষ্কার করে  ফেলে। আর এতে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য, পাইলস, ডায়রিয়া ও গ্যাসের সমস্যা নিরাময়ে অনেক কার্যকরী। পেঁপের উপকারিতা সম্পর্কে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। পেঁপে কাঁচা বা পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পেঁপে ত্বক ও চুলের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। এ ছাড়াও পেঁপেতে থাকে প্যাপেইন নামক এনজাইম। যা খাদ্যের বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। হৃদরোগ এবং উচ্চ  কোলেস্টেরল রোগীদের  পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে পেঁপে শুধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়, বরং ক্ষতির কারণও হতে পারে। বয়স্কদের পাশাপাশি ছোটদের ক্ষেত্রে পেঁপে ক্ষতিকর হতে পারে। জেনে নিন পেঁপে  খেলে শারীরিক যেসব সমস্যা হতে পারে- চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে, এক বছরের কম বয়সি শিশুদের পেঁপে খাওয়ানো উচিত নয়। পেঁপেতে অনেক ফাইবার থাকে, যা  ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে পেঁপে ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায় নারীদের পেঁপে খাওয়া এড়ানোর পরামর্শ দেন। পেঁপের বীজ, শিকড় এবং পাতা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর। এমনকি গর্ভপাত ঘটাতে পারে। যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে তাদের জন্য পেঁপে ক্ষতিকর। পেঁপেতে উপস্থিত একটি এনজাইমকে অ্যালার্জেন বলে। এটি অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা যেমন হাঁপানির মতো সমস্যা বাড়তে পারে। হজমের সমস্যা বাড়ায় পেঁপে।  কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাধারণত পেঁপে খেতে বলা হয়। তবে অতিরিক্ত  খেলে এতে উপস্থিতি পেটে জ্বালাপোড়া ভাব এবং ব্যথা হতে পারে। ডায়াবেটিস  রোগীর জন্যও পেঁপে ক্ষতিকর হতে পারে। পেঁপে এক ধরনের সবজি। আবার পাকা  পেঁপে সুস্বাদু ফল। দ্বিমুখী গুণের অধিকারী পেঁপে চাষ করে আর্থিকভাবেও সচ্ছলতা লাভ করা যায়। পেঁপে উৎপাদনের জন্য উঁচু ও মাঝারি জমি ভালো। উপযুক্ত পরিচর্যার মাধ্যমে প্রায় সব ধরনের মাটিতেই পেঁপে চাষ করা যায়। প্রতি সারিতে ২ মিটার দূরত্বে চারা রোপণ করলে ১ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৫০০ গাছের জন্য ৭ হাজার ৫০০ চারার প্রয়োজন। নতুন বীজ হলে ১৪০-১৬০ গ্রাম বীজ দিয়ে প্রয়োজনীয় চারা উৎপাদন করা যায়। পলিথিন ব্যাগে চারা তৈরি করলে রোপণের পর চারা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৫-১০  সেন্টিমিটার আকারের ব্যাগে সমপরিমাণ বালি, মাটি ও পচা গোবরের মিশ্রণ দিয়ে ব্যাগের তলায় ২-৩টি ছিদ্র করতে হবে। তারপর নতুন সংগৃহীত বীজ হলে ১টি এবং পুরাতন হলে ২-৩টি বপন করতে হবে। একটি ব্যাগে একের অধিক চারা রাখা উচিত নয়। চারা লাগানোর পর নতুন পাতা এলে ইউরিয়া ও এমপি সার ৫০ গ্রাম করে প্রতি একমাস অন্তর প্রয়োগ করতে হবে। ফুল এলে এ মাত্রা দ্বিগুণ করা হয়।  শেষ ফল সংগ্রহের একমাস আগেও সার প্রয়োগ করতে হবে। পচা গোবর, টিএসপি, জিপসাম, বোরাক্স এবং জিংক সালফেট গর্ত তৈরির সময় প্রয়োগ করতে হবে। দেশে বিভিন্ন জাতের পেঁপে চাষ করা হয়ে থাকে। পেঁপের সব থেকে প্রচলিত জাতগুলো হলো- রাচি, রেড লেডি, সুইট  লেডি, শাহী পেঁপে, যশোরী, বলুস্টেম,  ছোট পেঁপে, কাশিমপুরী, হাইব্রিডসহ প্রভৃতি জাতসমূহ। পেঁপে চাষের জন্য উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমি ভালো। পেঁপে গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। পেঁপের জন্য  সেচ সুবিধাযুক্ত এবং জলাবদ্ধতা মুক্ত। পেঁপে চাষের জমি কয়েকবার চাষ দিয়ে মাটি ঝুরঝুরা করে মই দিয়ে তৈরি করতে হবে। জমিতে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য বেড পদ্ধতি অবলম্বন করা অতি উত্তম হয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com