1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১০ অপরাহ্ন

পেঁয়াজের গ্রীষ্মকালীন জাতে এবার স্বনির্ভর হবে বাংলাদেশ

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
  • ৭৪ মোট ভিউ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ কৃষক পর্যায়ে সফলতা আসায় বারি পেঁয়াজ-৫ এ নতুন স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি, গ্রীষ্মকালের এই জাতটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে আগামী তিন বছরেই পেঁয়াজে স্বনির্ভর হবে দেশ। শীতের ফসল হলেও এখন দেশে গীষ্মকালেও চাষ হবে পেঁয়াজ। নতুন এই সম্ভাবনা তৈরি করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মসলা বিজ্ঞানীরা। উদ্ভাবন করেছেন পেঁয়াজের গ্রীষ্মকালীন জাত বারি পেঁয়াজ-৫। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানীরা জানান, বাংলাদেশ শিগগিরই পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। গবেষকরা প্রথমবারের মতো কয়েকটি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এতদিন বাংলাদেশে কেবল শীতকালীন পেঁয়াজের আবাদ করত। নতুন জাতের উচ্চফলনশীল জাতের পেঁয়াজের আবাদ বাড়লে বাংলাদেশ পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। বারি-৫ এবং ৬ উচ্চফলনশীল পেঁয়াজ হেক্টরপ্রতি ১৮ টনের বেশি ফলনে সক্ষম। নতুন এই জাতের পেঁয়াজ আবাদ করছেন, মাগুরা সদর ও শ্রীপুর উপজেলার কৃষকরা। তারা জানান, কম জীবনকালের এই জাতের বীজ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে স্থানীয় মসলা গবেষণা কেন্দ্র। নতুন এই জাতে ফলন বেশি হওয়ায় খুশি উৎপাদকরা। বলছেন, স্বাদ ও ঝাঁজ দেশীয় পেঁয়াজের মতোই। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, কৃষক পর্যায়ে সফলতা মেলায় পেঁয়াজের নতুন এই জাত সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
সাধারণ পেঁয়াজের তুলনায় বারি-৫ জাতের জীবনকাল ২৫ দিন কম। তবে ফলন হয় দ্বিগুণ। রান্নাবান্নায় পেঁয়াজ ব্যবহারের ইতিহাস বহুপ্রাচীন। রান্নাঘরের একটি অতি প্রয়োজনীয় উপকরণ পেঁয়াজ। স্বাদের বৈচিত্র্য আনতে পেঁয়াজের জুড়ি নেই। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে দেশের চরাঞ্চলে পেঁয়াজের আবাদ বাড়ানো ও যেসব এলাকায় পেঁয়াজ ভালো হয়, সেসব এলাকায় উৎপাদন বাড়ানোর মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী তিন বছরেই পেঁয়াজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বাংলাদেশ। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষায়িত কোল্ডস্টোরেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) গবেষক আফজাল হোসেন বলেন, পেঁয়াজ চাষি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য, মৌসুমে পেঁয়াজের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা রাখা, কোল্ডস্টোরেজ বাড়িয়ে সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি এবং পেঁয়াজ বীজের সরবরাহ বাড়ানো হলে আগামী দুই বছরে পেঁয়াজ উৎপাদনে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে, ২০১৪ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধির হার গড়ে ১০ শতাংশ। এফএও বলছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে। ২০১৯ সালে পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, গত দুই বছর ভালো দাম পাওয়ায় দেশের কৃষকরা পেঁয়াজ আবাদ বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত মৌসুমে দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় আড়াই লাখ টন। এই হিসাবে দুই বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়বে পাঁচ লাখ টন। তখন মোট উৎপাদিত পেঁয়াজের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ লাখ টনের বেশি। দুই বছর পর চাহিদা বেড়ে সর্বোচ্চ ২৯ লাখ টন হতে পারে। দেশের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেলে মাত্র তিন বছরেই পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বাংলাদেশ। দুই বছর পর চাইলে বাংলাদেশ পেঁয়াজ রপ্তানিও করতে পারবে। এ বিষয়ে সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, দেশি পেঁয়াজের বীজের বড় সংকট আছে। এক কেজি পেঁয়াজের বীজে দুই বিঘা জমিতে চাষ করা হয়। একেক বিঘায় গড়ে ৪০ মণ দেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। দেশি পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে চাহিদা বেড়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজের উৎপাদন তিন লাখ টন বাড়বে। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষাবাদ বাড়াতে হবে। মার্চ মাসে রোপণ করে জুন-জুলাই মাসে অথবা আগস্ট মাসে রোপণ করে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এসব পেঁয়াজের ফসল পাওয়া যায়। তিনি পেঁয়াজসহ কৃষিপণ্যের আগাম মূল্য নির্ধারণে একটি জাতীয় প্রাইস কমিশন গঠনের দাবি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page