1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

ফখরুলের বক্তব্য বিএনপির স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে : কাদের

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৫ মে, ২০২৩

 

ঢাকা অফিস ॥ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার হিসাব তুলতে গিয়ে নিজের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানকেই সুস্পষ্ট করেছেন। আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এই ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য বিএনপির স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে কেউ আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করতে চাইলে তারাই দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’ শুক্রবার (৫ মে) এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য ‘হাস্যকর ও বিভ্রান্তিকর’ উল্লেখ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ মে) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাবেক মন্ত্রী সুনীল গুপ্তের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি পুরনো দল। কিন্তু এই দলের যিনি প্রতিষ্ঠাতা, তাকেও তারা বাদ দিয়ে দিয়েছেন। কারণ তার চিন্তা-চেতনার সঙ্গে পরবর্তী আওয়ামী লীগের কোনও মিল ছিল না। আজ যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত আছেন, তাদের অধিকাংশই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এখন যারা স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হিসেবে আমাদের দিকে আঙুল তুলতে চান, তাদের প্রশ্ন করতে চাই, আপনারা কি বলতে পারবেন আপনাদের মধ্যে কারা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন?’ এর জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ এই জনপদের সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের পথপ্রদর্শক। আওয়ামী লীগ মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন শুধু নয়, এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামেও নেতৃত্বদানকারী সংগঠন। জাতির পিতার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য যে সরকার আইনগত বৈধতা ও স্বীকৃতি অর্জন করে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার বন্দরে পৌঁছে দিয়েছিল, সেই সরকার ছিল ১৯৭০ সালে নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত সরকার তথা আওয়ামী লীগ সরকার।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের সংগঠন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার হিসাব তুলতে গিয়ে নিজের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানকেই সুস্পষ্ট করেছেন। ব্যক্তিস্বার্থে ও ক্ষমতার লোভে আদর্শচ্যুত কতিপয় দালাল, খুনি ও স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এই ধরনের অবমাননাকর বক্তব্য তাদের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া কিছু নয়।’    স্বাধীনতা ও এর ইতিহাসের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ওৎপ্রোতভাবে জড়িত উল্লেখ করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাস। এ দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের ইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে যদি কেউ আওয়ামী লীগকে বিচ্ছিন্ন করতে চায়, তাহলে তারাই এ দেশের জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের প্রতি শতভাগ নিষ্ঠা রেখে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণই আওয়ামী লীগের প্রধান লক্ষ্য।’ বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বিভেদের কথা বলছেন! এতে আমাদের আফসোস হয়। জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাংলার হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুদ্ধ করে এ দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছে। জাতির পিতাকে হত্যার পর খুনি-ঘাতক চক্র স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি ভাবধারায় দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র চেতনাকে ভূ-লুণ্ঠিত করে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রাজনৈতিক বৈধতা দিয়ে বিভেদের গোড়াপত্তন করে সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতাবিরোধী, বঙ্গবন্ধুর খুনি চক্র, ভুঁইফোড়, দালাল রাজনীতিবিদ ও কালোবাজারিদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সৃষ্টি হয় বিএনপি। তখন এ দেশের মুক্তিযোদ্ধারা অবর্ণনীয় নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হন। মুক্তিযোদ্ধারা তখন নিজেদের পরিচয় দিতেও ভয় পেতো। তথাকথিত সেনা অভ্যুত্থানের মিথ্যা অভিযোগে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর শত শত মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার এবং শত শত মুক্তিযোদ্ধা সৈনিককে ফাঁসি দিয়ে ও ফায়ারিং স্কোয়াডে নৃশংসভাবে হত্যা করে জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপির মুখাবয়বে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নির্যাতনের কলঙ্কের কালিমা রয়েছে। সেই কলঙ্কের কালিমা এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির সঙ্গে তাদের সহ-অবস্থানের ঘটনা আড়াল করতেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আওয়ামী লীগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন।’ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামো বিষাক্ত নয়, বরং বিষমুক্ত স্বদেশ বিনির্মাণের জন্যই বিরামহীনভাবে কাজ করে আসছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার। বন্দুকের নলের মুখে অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী নিষ্ঠুর স্বৈরাচার জিয়াউর রহমানের হাতে জন্ম নেওয়া বিএনপি দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে রাষ্ট্র কাঠামোকে বিষাক্ত করে গেছে এবং তার প্রতিক্রিয়া ও ক্ষত এখনও সমাজ-রাষ্ট্র বয়ে বেড়াচ্ছে। বিএনপি রাজনীতির নামে রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বত্রই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী আদর্শ এবং স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে প্রতিষ্ঠিত ও লালন-পালন করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি একটি বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। সেই বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল উন্নত-সমৃদ্ধ নিরাপদ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com