1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন

ফুল যতই ফুটুক যদি পরাগায়ন করতে পলিনেটর না আসে তাহলে কৃষকের মাথায় হাত

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৭ মোট ভিউ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ ফুল সৌন্দর্য, ভালোবাসা ও পবিত্রতার প্রতীক। প্রিয়জনের জন্য সর্বজন স্বীকৃত সবচেয়ে ভালো উপহার হলো ফুল। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের পাপড়ি থেকে পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুগন্ধ তৈরি করা হয়। সেই সুগন্ধি সরাসরি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিশ্বের নামকরা প্রসাধনী কোম্পানিগুলো প্রসাধন সামগ্রী তৈরি করতে (পারফিউম, ক্রিম, সাবান ও লোশন) ফুলের পাপড়ি থেকে প্রাপ্ত সুগন্ধি ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়, ফুল ফোটে বলেই আমরা খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের জন্য কাঁচামাল পেয়ে থাকি এবং এই ফুলের মধ্যে যে সব পলিনেটর পরাগযোগ ঘটায় তাদের অবদান ও দয়া প্রাণিকুলের জন্য অপরিসীম।
সুধী পাঠক এই ফুল ও পরাগায়ন নিয়েই আজ কথা বলতে চাই। শীত মৌসুমে মাঠের যে দিকেই তাকানো যায় শুধু হলুদ রঙের ছড়াছড়ি। আবার ফাগুনে প্রকৃতিতে যেন ফুল ফোটার উৎসব লেগে যায়। তখন চারিদিকের পরিবেশ ফুলের সৌরভে নতুন সাজে সেজে উঠে। শীতে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে উঠে। ফুল যতই ফুটুক যদি পরাগায়ন করতে পলিনেটর (এক্ষেত্রে মৌমাছি) না আসে তাহলে কৃষকের মাথায় হাত। পরাগায়ন না ঘটলে সরিষার উৎপাদন যেমন কমে যাবে তেমনি বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে মধুর উৎপাদনও কমে যাবে। যদি সঠিক পরাগায়ন না ঘটে তাহলে পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে এটা নিশ্চিত। আজকাল মাঠে ক্ষতিকর পোকা দমনের জন্য কীটনাশকের যত্রতত্র ব্যবহার ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। ফলে খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়ার সমূহসম্ভাবনা আছে। সুতরাং কীটনাশক ব্যবহারে সাবধানতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি।
এবার আসা যাক কি কারণে ফুলের সৌরভ ছড়ায় এবং সেই সৌরভের কারণে পলিনেটরের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। যেসব কেমিকেল ব্যাপকভাবে সুবাস ছড়ায় তাদের মধ্যে অনেক ভিন্নতা আছে। জেসমিনের স্বাতন্ত্রসূচক সুবাসের কারণ হলো মিথাইল জেসমোনেট যা সেল মেমব্রেন যৌগের মেটাবলিজমের ফলে উৎপন্ন হয়। সেল মেমব্রেনের প্রকৃতি প্রত্যয়গত গঠন ফুলের স্বাতন্ত্র সূচক সুগন্ধি প্রদান করে। এ সবকিছুর উদ্দেশ্য শুধু আমাকে আপনাকে এর সুভাস উপভোগ করানোর জন্য নয় কিংবা আপনার প্রিয়জনের জন্যও নয়, এ শুধু তাদের পলিনেটরদের মনোরঞ্জনের জন্য। যেন সঠিক পরাগযোগ ঘটে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। সঙ্গে তো মধুর উৎপাদন আছেই। এটা পৃথিবীতে খাদ্য চাহিদা পূরণের একটা বিশেষ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া।
ফুলের সুবাস বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন রকমের হয়, কিছু ফুলের পরাগ সুবাসিত হয়। পরাগের তৈলাক্ত আবরণ নিজস্ব সুবাসের যৌগ বহন করে- যা প্রজাতি ভেদে আলাদা আলাদা হয়। পাপড়ির বিভিন্ন অংশ বা গর্ভকেশর অনেক সময় বিভিন্ন পরিমাণের সুবাস যৌগ উৎপন্ন করে। উদাহরণস্বরূপ গোলাপ পরাগের কথা উল্লেখ করা যায়। এজন্যই সৌন্দর্য প্রিয় মানুষ বাথটাব বা গোসলের পানিতে গোলাপের পাপড়ি ও পরাগ ছড়িয়ে রাখে যেন গোসলের সময় সারা শরীর সুবাসিত হয়। কিছু ফুলের সুবাস খুবই হালকা হয়। এরা সাধারণত ভোরবেলা অথবা বৃষ্টিস্নাত হওয়ার পর সুবাস ছড়ায়। যেমন মধুমঞ্জুরি বা রেঙ্গুনক্রিপার। আপনি খেয়াল করে দেখবেন সারাদিন কোনো সুবাস নেই কিন্তু ভোরে বা বৃষ্টির ছোঁয়া পেলেই মৃদু সুগন্ধে চারিপাশ ভরিয়ে দেয়। সাধারণত পিঁপড়া অথবা টুনটুনি পাখি কর্তৃক এদের পরাগযোগ ঘটে। এখানেও চমৎকার কম্বিনেশন টুনটুনি পাখি খুবই লাজুক স্বভাবের, তাই এরা মানুষের কোলাহল পছন্দ করে না। ভোরবেলা যখন মানুষের কোলাহল থাকে না তখন টুনটুনি ও মধুমঞ্জুরি কানে কানে ফিস ফিস করে প্রেমালাপ সেরে নেয়। বৃষ্টির পর বাগানের আশপাশে ভ্রমণ করলে আদ্র বাতাসের জন্য ফুলের সুবাস তীব্র হয়। কারণ সুবাস যৌগগুলো সহজেই আদ্রতাকে ভর করে আপনার নাকের কাছে হাজির হয়। ফুল এছাড়াও আর্দ্র অবস্থার অধীনে আরো সুবাসিত যৌগের মুক্তি দেয়। কারণ বৃষ্টির পরে কিছু পলিনেটর যেমন ফড়িং গ্রাসহোপার এরা ঘুরাফেরা করে আর সুযোগ বুঝে ফুল সুন্দরী তার সৌরভ বেশি করে ছড়ায় যেন উল্লিখিত পলিনেটর দ্বারা পরাগযোগ ঘটে।
লেখক ঃ আজহারুল ইসলাম, উদ্ভিদ ও প্রকৃতি বিষয়ক লেখক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page