1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :
জিম্বাবুয়ে সিরিজের শুরুতে থাকবেন না সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা কাপে জিনাতের স্বর্ণ জয় বাংলাদেশের স্পিন বিভাগে পার্থক্য তৈরি করতে চান মুশতাক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রপতির পাকিস্তান সফর দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রথম ধাপের উপজেলা ভোট : ৭ চেয়ারম্যান ও ৯ ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমিরের বৈঠক: কাতারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহায়তা চায় বাংলাদেশ ফের তাপমাত্রা বাড়ার আভাস দেশি-বিদেশি চক্র নির্বাচিত সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে : কাদের প্রধানমন্ত্রী ও কাতার আমিরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ১০ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই

বঙ্গবন্ধুর কারণেই আমরা আজ স্বাধীন : ডিসি সাইদুল ইসলাম

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৩

 

 

 

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে মুজিবনগর দিবস পালন করা হয়েছে । গতকাল সোমবার সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে কুষ্টিয়া কালেক্টটরেট চত্ত্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালনের কর্যক্রম । বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করেন জেলা প্রশাসন কুষ্টিয়া, জেলা পুলিশ কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ জেলা ইউনিট কমান্ড কুষ্টিয়া, সিভিল সার্জন কার্যালয় কুষ্টিয়া, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কুষ্টিয়,  জেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয় কুষ্টিয়া, গণপূর্ত বিভাগ কুষ্টিয়, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়া, জেলা শিক্ষা অফিস কুষ্টিয়া এবং দিশা কুষ্টিয়া’র কর্মকর্তা ও কর্মচারী বৃন্দ । পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সকাল ১১ টায় ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসন কর্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (স্থানীয় সরকার ও প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন শাখা) সিফাতুন নাহার এর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম । উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার খাইরুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক, উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) শারমিন আখতার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু, কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক আন্দোলনের বাজারের সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু, দৈনিক আরশীনগর পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম বিপ্লব, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আ স ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, জেলা মহিলালীগের সভাপতি জেবুন নিসা সবুজ, জেলা আনছার ও ভিডিপি কর্যালয়ের  জেলা কমান্ড্যান্ট সোহেলুর রহমান, কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের সরকারী পরিচালক জানে আলম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল, জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক এ, এইচ, এম, সায়ফুর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরে সফুরা ফেরদৌস, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক ড. হায়াত মাহমুদ, জেলা সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুস সালাম তরফদার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইশতিয়াক ইকবাল হিমেল, সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার ডাঃ তাপস কুমার পাল এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নাসরিন বানু, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আ. ন. ম. আবুজর গিফারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) তাহমিনা আক্তার রেইনা, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (আর এম শাখা এবং এল এ শাখা) শেখ মেহেদী ইসলাম, সহকারী কমিশনার জিল্লুর রহমান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ( রাজস্ব শাখা) আব্দুল হাই সিদ্দিকী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা এবং জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা ) কাজী শারমিন নেওয়াজ, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা) তানভীর হায়দার, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা ও আইসিটি শাখা) স্বরূপ মুহুরী, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (রেকর্ডরুম শাখা ও ই-সেবা শাখা) ঈষিতা আক্তার সহ জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী বৃন্দ । বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারত উপমাহাদেশের লোকজন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ^াসী ছিলো । এখানে প্রাচুর্য ছিলো, অর্থ সম্পদ ছিলো । সেই সময়ে টাকায় আট মণ চাউল পাওয়া যেত । সেই সময় মানুষ খুব সহজ সরল ছিলো, একে অপরকে বিশ^াস করতো । অথচ ইউরোপ আমেরিকা সেই সময়ে কত যুদ্ধ কছে তার সংখ্যা হিসাব করে বলা কঠিন । তারই ধারাবহিকতায় ১৬০৮ সালে ভারত বর্ষে প্রথম ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনীর আগমন ঘটে । এর পর তারা ভারতবর্ষে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করে । ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা কালে তারা বুঝতে পারে এই এলাকার লোকজন খুব সহজ সরল । এক পর্যায়ে এই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পনী নিজেদের ফায়দা লুটতে এবং স্বার্থ হাসিল করতে এদেশে জাতিতে জাতিতে দ্বন্দ ও বিভেদ বাধিয়ে দেয় । পরিশেষে ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী মীর জাফরের মাধ্যমের ষড়যন্ত্র করে পলাশী যদ্ধের মাধ্যমে এদেশের মানুষের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নেয় । এরপর ইংরেজরা ১৯৪৭ সালের ১৪ ই এবং ১৫ ই আগস্ট এই দেশ ছেড়ে যাওয়ায় আগে দেশকে হিন্দুস্থান ও পাকিস্থান নামকরন করে দুই ভাগে বিভক্ত করে যায় । কিন্তু থখনও কি সত্যিকারের স্বাধীনতা আমরা পেয়েছিলাম । দেশ ভাগের পর পাকিস্থানীরা আরো বেশী আমাদের শোষন করতে লাগলো । এদেশের মানুষকে তারা মানুষই মনে করতো না । তারা এদেশের মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলো । তারা আমাদের উপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলো । অনেক আন্দোলন সংগ্রামের পর ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে ছয় দফা দাবি পেশ করা হয় । ছয়দফা আন্দোলনে ভয় পেয়ে পাকিস্থানী শাসকগোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু’র বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দিয়েছিলো । আন্দোলনের কারণে পাকিস্থানী শাসকগোষ্ঠী আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে পিছু হটলে ১৯৬৯ সালে শুরু হয় গণ অভ্যুত্থান এবং যা পরবর্তিতে স্বাধীনতা সংগ্রামে রুপ নেয় ।  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের দেওয়া ৭ ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন এর প্রেক্ষিতেই ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মুজিবনগরে গঠন করা হয় বাংলাদেশে প্রথম সরকার এবং  ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা পাই কাঙ্খিত স্বাধীনতা । বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না । বঙ্গবন্ধুর কারণেই আজ আমরা স্বাধীনতা ভোগ করছি । সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, আজকের এই বিশেষ এবং ঐতিহাসিক দিনে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে, আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাৎবরণকারী ৩০ লক্ষ শহীদদের, আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সম্ভ্রম হারানো দুই লক্ষ মা বোনদের । আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেত কে এবং ১৯৭৫ সালের কাল রাতে শাহাদৎবরনকারী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকল শহীদদের  সহ সকল মুক্তিযোদ্ধাদের । জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আরোও বলেন, বাংলাদেশের স্বাদীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৭ই এপ্রিল অনন্যতম দিন । মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক রুপ পায় এই দিনে । মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১০ ই এপ্রিল । কিন্তু শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয় ১৭ই এপ্রিল । মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহনের পরে  ুমুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার প্রচেষ্টার পাশাপাশি বাংলার জনগনকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য আহ্বান কাজ করেছে । যার ফলে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তি সংগ্রামের পরে ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর চুড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় । যা সম্ভব হয় বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ট নেতৃত্বের কারনে । বঙ্গবন্ধুর কারণেই আমরা আজ স্বাধীন ।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com