1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :
সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে কেউ টিকে থাকতে পারবেন না : কামারুল আরেফিন এমপি  মায়ের ভাষার অধিকার ও রাষ্ট্র্রভাষা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল বীর বাঙালি জাতির বীরত্বের গৌরবগাঁথা অধ্যায় : ডিসি এহেতেশাম রেজা ২১ কিমি দৌড়ে ভাষা শহীদদের স্মরণ ইবিতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত মেহেরপুরে অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস : কুষ্টিয়ায় সমকাল সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতা কুমারখালীতে যথাযথ মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউ.এস.এ ইনকের মহান একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন আলমডাঙ্গায় যথাযথ মর্যাদায় আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস পালিত কালুখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরির গুরুত্ব ও আদর্শ ধারণ করে সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে : ডিসি সাইদুল ইসলাম

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৮ মে, ২০২৩

 

নিজ সংবাদ ॥ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন পালন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল রবিবার সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্ত্বরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয় । স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক আরিফ-উজ জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজগর আলী, শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা,  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোছাঃ শারমিন আখতার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাড. আ.স.ম আক্তারুজ্জামান মাসুম, কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতের  কৌঁসুলি (পিপি) ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রফিকুল ইসলাম টুকুসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ।  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই যে পদক পেয়েছিলেন, কেন  পেয়েছে, কি জন্য পেয়েছে, কেন একজন মানুষকে পদক দেওয়া হয়। আসলে ১৯৭২ সালে ঘোষণার পর ১৯৭৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদকটি তাঁকে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। আসলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শের কারণেই আমার মনে হয় এই পদকটি তুলে দেওয়া হয়েছিলো । মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। তারপর তাকে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করানো হয়েছিলো, কবর খুঁড়ে, কবরের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু একটি কথাই বলেছিলেন, আমি কোন ভয়ে ভীত নই, আমার দেশের মানুষ যে স্বাধীনতা সংগ্রামে নেমেছে, আমি যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকবো আমি সেই সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাবো। আর আমাকে যদি কোনোভাবেই মৃত্যুবরণ করতে হয়, তাহলে ওই বাঙালিদের কাছে আমার লাশটি আপনারা পৌঁছে দিবেন। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানি হানাদাররা বিভিন্নভাবে লালায়িত করে এবং তাকে নীতিগ্রস্থ করার জন্য অনেক প্রস্তাব দিয়েছিলো। কিন্তু সে সেদিনকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কিন্তু তার নীতি ও আদর্শকে বিসর্জন দেন নাই। যারই কারণে জুলিও কুরি পুরস্কারের জন্য সিলেকশন করা হয়েছিলো বলে আমার মনে হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিব তাঁর নীতি বিসর্জন দিয়ে কোন আপোস করেন নাই। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আজকে রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে আজকে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিকভাবে সামাজিকভাবে রাজনৈতিকভাবে আজকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে পরিচয় দান করেছেন। বিশেষ অতিথি কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন- জুলিও কুরি শান্তি পদক আমাদের জন্য গর্বের ও সম্মানের। কারণ বিশ্ব শান্তি পরিষদ এর স্বীকৃতি দিয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ২৯০ দিন পাকিস্তানি কারাগারে বন্দী ছিলেন সেখান থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী বাংলাদেশে আগমন করেন এবং এরপর ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর শান্তি পদকের জন্য মনোনীত হন। তাঁর স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৩ সালের ২৩ মে তার হাতে শান্তি পদকটি তুলে দেন তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র। মূলত সম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাস যুদ্ধ করে আমরা পাকিস্তানিদের হটাতে পেরেছি, আজ তারই কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।  বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন- আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি পদক পাওয়ার ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ প্রশাসন হোক বা বাইরের হোক, সবাইকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে জাতীয় চার নেতা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে সেই সময় আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করে সকল যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। অথচ কত বড় দূর্ভাগা আমরা তারাও এই দেশের মাটিতে সব থেকে নিরাপদ যায়গা জেলখানার মধ্যে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শান্তির দূত, হিসাবে সেই সময়ে ওআইসির সম্মেলনে গিয়েছিলেন। তিনি মুসলিম দেশগুলোকে একত্রিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেখানে গিয়ে বাংলায় ভাষণ দিয়েছিলেন। ওআইসিতে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন ধর্নাঢ্য দেশ তেলের খনি পেয়েছেন, তেল বিক্রি করে মানুষ মারার যন্ত্র না কিনে মানুষ বাঁচানোর ব্যবস্থা করেন। মানুষ সেবাই বড় ধর্ম। হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ সবাই ভাই ভাই। আজগর আলী বলেন-মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে একত্রিত করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে এবং সবাইকে সংঘটিত করে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন  উপলক্ষ্যে আলোচনা  সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন- সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রাপ্তির আজকে ৫০ বছর। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, আমরা স্বাধীনতা পায় এবং তার ঠিক দুই বছর পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জুলিও কুরি শান্তি পদক পান। এটি স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রনায়েকের প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতি কেন দেওয়া হয়েছিলো ? বঙ্গবন্ধুর যে জীবন দর্শন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং শান্তির জন্য তার যে সংগ্রাম সেটি বিবেচনা করেই এই জুলিও কুরি পদক দেওয়া হয়। আমরা জানি এবং শুনেছি ১৯৭২ সালে সর্বসস্মতভাবে বঙ্গবন্ধুকে এই জলিওকুরি শান্তির পদকটির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং ১৯৭৩ সালে ২৩-এ মে তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুকে এই পদক পরিয়ে দেন। তখন রমেশ চন্দ্র বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলার নয়, বঙ্গবন্ধু সারা বিশ্বের। তিনি বিশ্ববন্ধু। সেসময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন এই পদকটি কোনো ব্যক্তি বিশেষন নয়, এই পদক মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদের, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরসেনানীদের, এই পদবী বাংলার মানুষের জন্য। সে কিন্তু এই পদবীর স্বীকৃতি একা নেয়নি। সাথে সাথে তিনি বলেছেন যে এই পদবী বাংলার মানুষের জন্য।  জেলা প্রশাসক সাইদুল ইসলাম আরো বলেন, পাশাপাশি আমরা যদি এটি চিন্তা করি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে,  তখন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি কি বলেছিলেন ? তিনি বলেছিলেন সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে বৈরিতা নয়। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে একটা কথাই বলব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরির গুরুত্ব ও আদর্শ ধারণ করে একটা সোনার বাংলাদেশ গড়তে হবে। অনুষ্ঠান শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে বিনামূল্যে জুলিও কুরি স্মারক ডাক টিকেট ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com