1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :

বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়ে আউশ আবাদে মাঠে কৃষক

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৩

 

কৃষি প্রতিবেদক ॥ আউশ শব্দের অর্থ আগাম। বাংলা আশু শব্দ থেকে আউশ শব্দের উৎপত্তি। আউশ মানে আশু ধান। আশি থেকে ১২০ দিনের ভেতর এ ধান ঘরে তোলা যায়। আশু মানে দ্রুত ফসল উৎপন্ন হওয়ার বিচারে এই ধানের এমন নামকরণ হয়েছে। ‘খনার বচনে আছে- আউশ ধানের চাষ, লাগে তিন মাস’। ফাঁক ফাঁক করে লাগালে গোছা মোটা হয় এবং ফলনও  বেশি হয়। আরো সহজ কথায় আউশে আমন বোরোর মতো যতœ নিলে বাম্পার ফলন হয়। কথায় আছে, জ্যৈষ্ঠে খরা ধানে ভরা। অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠ মাসে একটু বৃষ্টি পেলেই আউশের জমি সবুজ ধানে ভরে যায়। আউশের উৎপাদন বাড়াতে ৫৭ কোটি টাকার সরকারি প্রণোদনা  পেয়ে কমোড় বেঁধে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা।

জলমগ্ন জমিতে ধান চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন আউশচাষিরা। খাদ্য সংকট কাটাতে কৃষকের ঘামঝরা পরিশ্রম আর সরকারের দেওয়া কৃষি প্রণোদনায় আউশ চাষে নবদিগন্ত উন্মোচন হয়েছে। সারাদেশে রেকর্ড পরিমাণ আউশের আবাদ বেড়েছে ২ লাখ হেক্টর জমি। আউশ চাষাবাদ পুরোটাই বৃষ্টি নির্ভর। ফলে এ ধান উৎপাদনের সেচ খরচ সাশ্রয় হয়। তাছাড়া উচ্চফলনশীল জাতের ধান চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়। আউশ ধানের বীজবপনের উপযুক্ত সময় ১৫ থেকে ৩০ চৈত্র।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ও রাশিয়া- ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি ইঞ্চি জমিতে ফসল ফলাতে নিরলসভাবে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে করোনাভাইরাসের দুর্যোগের মাঝেও লক্ষ্যমাত্রার অধিক বোরো ফসল সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন আউশ ও আমন উৎপাদন বাড়ানো চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে আউশ ধানের বীজ, সার, সেচসহ বিভিন্ন প্রণোদনা কৃষকের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে আউশের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ৫৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার প্রণোদনা দিয়েছে। দেশের ১০ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এ প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছেন। উচ্চফলনশীল আউশ ধানের উৎপাদন বাড়াতে এ প্রণোদনার আওতায় একজন কৃষক এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার বিনামূল্যে পেয়েছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা এবং বীজ ও চারা খাত থেকে এ প্রণোদনা প্রদান করা হয়। এর আগে বোরো চাষে ১৭০ কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। এরমধ্যে  বোরোর আবাদের জন্য ২৭ লাখ কৃষক বিনামূল্যে বীজ ও সার পেয়েছেন। এ ছাড়াও উচ্চফলনশীল ধান আবাদে ১২ লাখ কৃষক পেয়েছেন ৮২ কোটি বিশেষ প্রণোদনা।

আউশ বৃষ্টি নির্ভর ধান। জাত ভেদে আউশ ধানের জীবনকালে খানিকটা ভিন্নতা থাকলেও বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এর আবাদ করতে হয়। মে-জুনের বৃষ্টিকে অবলম্বন করে আউশের বীজ সরাসরি মাঠে বুনে দেওয়া হয়, নয়তো রোপণ করতে হয় চারা। আউশ ধান চৈত্র-বৈশাখে বুনে আষাঢ়-শ্রাবণে কাটা যায়। বাংলাদেশের তিনটি কৃষি মৌসুম। যেমন: রবি (নভেম্বর-এপ্রিল), খরিফ-১ (এপ্রিল-জুলাই) এবং খরিফ-২ (জুলাই-নভেম্বর)। এই তিন মৌসুমে তিন প্রকার ধানের আবাদ হয়। রবি মৌসুমে বোরো ধান। খরিফ-১ মৌসুমে আউশ ধান। খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধান। সনাতন কাল থেকে এ দেশের পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখে আমন ধান ছিল প্রধান ফসল। এরপরে ছিল বৃষ্টি নির্ভর আউশ ধান।

আউশ ধানের উৎপাদন বোরোর তুলনায় কিছুটা কম। তারপরও আউশ ধানকে অগ্রাধিকার  দেওয়া উচিত। কারণ আউশ ধান চাষের জন্য সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এক গবেষণায়  দেখা গেছে, স্থানীয় জাতের আউশ ধানের জাত যেমন- ভইরা, কালা মানিক, শঙ্কপটি ও সাইটা ধানের জাতগুলো নতুন উদ্ভাবিত আউশ ধানের জাতের চেয়ে বেশি ফলন দেয়। স্থানীয় আউশ ধানের জাতগুলো ভালোভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করতে পারে। অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহীর স্থানীয় জাত, ভইরা, কালা মানিক, এবং শঙ্কপটী হেক্টরপ্রতি ৪.১ টন ধান ফলন দিয়েছে। অন্যদিকে, ব্রি ধান-২৬ হেক্টরপ্রতি ৩ টন ফলন দিয়েছে। ব্রিধান-৪৮ এবং ব্রিধান-৫৫ সেচ ছাড়া হেক্টরপ্রতি ২ টন ফলন দিয়েছে। আউশ মৌসুমে  রেকর্ড পরিমাণ ফলন দিয়েছে উচ্চ ফলনশীল স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন খরা সহিষ্ণু আউশ ধানের নতুন চারটি জাত। জাতগুলো হেক্টরপ্রতি বোরো মৌসুমের মতো ফলন দিতে সক্ষম। এ জাত ছড়িয়ে দিয়ে আউশ মৌসুমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

লেখক ঃ ইমরান সিদ্দিকী

 

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com