1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২, ১০:০৪ অপরাহ্ন

মহামারীর বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা বিশেষজ্ঞদের

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১
  • ১৩৩ মোট ভিউ

ঢাকা অফিস ॥ টিকা রপ্তানিতে ভারত সরকারের স্থগিতাদেশের কারণে করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াই ভেস্তে গিয়ে পরিস্থিতি শুরুর অবস্থায় চলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞরা। রয়টার্সেও এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার জোট কোভ্যাক্সের টিকার ঘাটতি পূরণে ধনী রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে না এলে পরিস্থিতি মহামারীর শুরুর অবস্থানে ফিরে যেতে পারে। দরিদ্র দেশগুলোর জন্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদক প্রতিষ্ঠান সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার (এসআইআই) মাধ্যমে অ্যাস্ট্রাজেনেকা-অক্সফোর্ডের কোভিশিল্ড টিকা পাওয়ার ভরসায় ছিল কোভ্যাক্স। কিন্তু গত মাসে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিতে ভারত টিকা রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দিলে পরিকল্পনার চেয়ে ১০ কোটি ডোজ টিকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ টিকার বিপুল মজুত গড়ে তোলা ধনী রাষ্ট্রগুলোর এখন তাদের বড় পরিসরে মজুত থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টিকা বিনিময় করা উচিত। তা না হলে মহামারী দীর্ঘায়িত হবে। কারণ বিশ্ব এখনও ভাইরাসটির সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও এর অভিযোজন ঠেকাতে লড়াই করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা অক্সফামের স্বাস্থ্য নীতি ব্যবস্থাপক অ্যানা ম্যারিয়ট বলেন, ‘এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। টিকার উৎপাদন ও সরবরাহে হাতেগোনা ওষুধ কোম্পানির একক নিয়ন্ত্রণ ও কোভ্যাক্সের মাধ্যমে দাতব্য কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল বর্তমান উদ্যোগ ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। এর ফলে মানুষ মারা যাচ্ছে।’ তার মতো অনেকেই বলছেন, উন্নত দেশ ও অঞ্চলগুলোর উচিত তাদের ‘বাগাড়ম্বর’ ফলপ্রসূ করা এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে টিকার মজুদ ভাগাভাগি করা। রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ভারত টিকা রপ্তানিতে স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়াচ্ছে, যার অর্থ হচ্ছে সেদেশ থেকে অক্টোবরের আগে বড় আকারে রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হবে না। সেরাম ইনস্টিটিউটের ওপর অতি নির্ভরশীলতা কোভ্যাক্সকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মনে করেন ওয়েলকাম গ্লোবাল হেলথ ট্রাস্টের আন্তর্জাতিক নীতি ব্যবস্থাপক উইল হল। তিনি বলেন, রপ্তানিতে ভারতের স্থগিতাদেশ বাড়ানোর ফলে এখন ধনী দেশগুলোর টিকার ভা-ার ভাগাভাগি করার বিষয়টি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। ছয় মাসের মধ্যে নয়, এক মাসের মধ্যেও নয়, বরং এখনই তা করা উচিত। এই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, বৈশ্বিকভাবে ভাইরাসটিকে দ্রুত পরাস্ত করতে না পারলে পরিস্থতি আগের জায়গায় চলে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ, এটি যত ছড়াবে তত অভিযোজনের সুযোগ বাড়বে। এক পর্যায়ে এমন পরিস্থিতি হতে পারে, যখন টিকা বা চিকিৎসা- কোনোটাই কাজে আসবে না।নভেল করোনাভাইরাসের একটি খুবই উচ্চ সংক্রামক ধরন ভারতে সনাক্ত হওয়ার পর এখন অনেকগুলো দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।কোভ্যাক্সের লক্ষ্য হচ্ছে তাদের এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া ৯০টিরও বেশি নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশের কমপক্ষে ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনা, যা মূলত দাতব্য সহায়তা হিসেবে পাওয়া। এই উদ্যোগ এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটি ডোজ টিকা বিতরণ করেছে মূলত আফ্রিকার দেশগুলোতে যার বেশিরভাগই অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকা। কোভ্যাক্সের যৌথ নেতৃত্বে থাকা গ্যাভি টিকা জোটের একজন মুখপাত্র বলেন, সরবরাহ ঘাটতি পোষাতে তারা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।রয়টার্সকে তিনি বলেন, যেসব দেশের নাগরিকেরা প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে তাদের জন্য দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করায় গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। বিভিন্ন বিকল্প উৎস থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের চাহিদা পূরণের জন্য ডোজ বিনিময় করা দরকার। যুক্তরাষ্ট্র বুধবার জানিয়েছে জুনের শেষ নাগাদ তারা ফাইজার, মডার্না ও জনসন অ্যান্ড জনসনের দুই কোটি ডোজ টিকা বিনিময় করবে, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সরবরাহ করা হবে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে। এর বাইরে বাইডেন প্রশাসন আরও ছয় কোটি ডোজ টিকা অন্যান্য দেশে সরবরাহ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্য কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিস এ সপ্তাহে জানিয়েছেন, কোভ্যাক্সের মাধ্যমে তারা এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে টিকা সরবরাহ বাড়াতে কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত ইইউর সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে এক কোটি ১১ লাখ ডোজ টিকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে ৯০ লাখ দেওয়া হবে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে।গত সপ্তাহে ইউনিসেফের যুক্তরাজ্য কার্যালয়ের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে ব্রিটেনে সব প্রাপ্তবয়স্ককে টিকা দেওয়া হয়ে গেলে তাদের হাতে পাঁচ কোটি ডোজ টিকা উদ্বৃত্ত থাকবে যা গরীব দেশগুলোর জনগণকে দেওয়া সম্ভব। গ্যাভির মুখপাত্র বলেন, সেরাম ইনস্টিটিউটের ওপর কোভ্যাক্সের নির্ভরশীলতার বড় কারণ হলো মূলত এর বিপুল উৎপাদন সক্ষমতা, কম দামে টিকা সরবরাহের সামর্থ্য এবং দ্রুততার সঙ্গে লাখ লাখ ডোজ টিকা উৎপাদনের আশ্বাস। কোভ্যাক্সের পরিকল্পনা ছিলো এর পোর্টফোলিও ১০ থেকে ১২টি টিকার বৈচিত্র্য দিয়ে সাজানো কিন্তু বছরের শুরুতে অনুমোদিত টিকার সংখ্যা ছিলো খুবই কম এবং ধীরে ধীরে বাজারে আসছে। আমাদের কাছে খুবই কম বিকল্প ছিলো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page