1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

মাহে রমজান : আত্মার উন্নতি, ইহলৌকিক কল্যাণ এবং পারলৌকিক মুক্তিই রোজা

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৩

 

 

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ আত্মার উন্নতি, ইহলৌকিক কল্যাণ এবং পারলৌকিক মুক্তির জন্য রোজা মুসলিম জীবনে আসে রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে। রোজা মানুষকে আত্মসংযম ও পরিশুদ্ধির মাধ্যমে দেশের আদর্শ ও পরিপূর্ণ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। রমজান মাসকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ১০ম দিন রহমত, ২য় ১০ম দিন বরকত এবং শেষের ১০ম দিন মাগফেরাত। ইতিমধ্যে রহমত আমাদের থেকে বিদায় নিয়েছে। গতকাল বিদায় নিয়েছে বরকত। আজ থেকে শেষ ১০ রোজায় মাগফেরাতের সময় অতিবাহিত হবে। হযরত মুসা (আ:) এর উপর নাযিলকৃত ‘তাওরাত’ গ্রন্থে রোজাকে ‘হাত্ব’ বলা হয়েছে। হযরত ঈসা (আ:) এর উপর নাযিলকৃত ‘ইঞ্জিল’ গ্রন্থে রোজাকে ‘ত্বাব’ বলা হয়েছে। হযরত দাউদ (আ:) এর উপর অবতীর্ণ ‘যাবুর’ গ্রন্থে রোজাকে ‘কোরবাত’ বলা হয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর উপর নাযিলকৃত ‘পবিত্র কুরআনে’ রোজাকে ‘সিয়াম’ বলা হয়েছে। হযরত দাউদ (আ:) একদিন অন্তর অন্তর রোজা পালন করতেন। বাইবেলের বর্ণনা মতে, যীশুখ্রীষ্ট রোজা পালন করতেন এবং তার অনুসারীদেরও তা পালনের নির্দেশ দিতেন। আর তাই খ্রীষ্টানগণ বছরে ৪০ দিন উপবাসব্রত পালন করে। তবে পূর্ববর্তী উম্মতদের উপর ফরজকৃত রোজার বিধান এবং আমাদের আদায়কৃত রোজার বিধানের মধ্যে তিনটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে : ১। রাসূল (স:) মদীনায় হিজরতের পরে প্রতিমাসে তিনটি রোজা (এ রোজা ফরজ ছিল না) এবং আশুরার রোজা রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে যখন ‘তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে’ আয়াত অবতীর্ণ হলো তখন পূর্বের নিয়ম রহিত হয়ে যায়। ২। প্রথম দিকে বিধান ছিল যে, যে চাইবে রোজা রাখবে, আর যে চাইবে না  সে রোজার পরিবর্তে মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াবে। কিন্তু যখন অবতীর্ণ হলো ‘যে ব্যাক্তি এ মাসের সাক্ষাত পাবে তার জন্য এই সম্পূর্ণ মাসটিতে রোজা রাখা অপরিহার্য’ (বাকারা-১৮৫) তখন পূর্ববর্তী বিধান রহিত বা বাতিল হয়ে গেল। অবশ্য এই বিধানটি রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাযিল হবার এক বছর পরে অবতীর্ণ হয়। কিন্তু রোগী, মুসাফির, গর্ভবর্তী মহিলা বা দুগ্ধপোষ্য শিশুর মাতা এবং রোজা রাখার ক্ষমতা নেই এমন সব বৃদ্ধের জন্য এ সুযোগটি আগের মত বহাল রাখা হয়। ৩। পূর্বে এশার নামাজ এবং রাতের খাবারের পরে ঘুমিয়ে যাবার সাথে সাথে রোজার বিধান অর্থাৎ খাবার খাওয়া ও সহবাস করার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ না থাকলেও লোকেরা এমনটি করা অবৈধ মনে করত। মাহে রমযানে  রোজা রাখার তাৎপর্য অপরিসীম। কেননা রাসূল (স:) বলেছেন: মানুষের প্রত্যেকটি কাজের ফল আল্লাহর দরবারে কিছু না কিছু বৃদ্ধি পায়; একটি নেক কাজের ফল দশগুণ হতে সাতশত গুণ পর্যন্ত বেশী হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহ বলেন : রোজাকে এর মধ্যে গণ্য করা হবে না। কেননা রোজা খাছ করে কেবল আমারই জন্য রাখা হয়। আর আমিই এর প্রতিফল দেব। রোজার মূল উদ্দেশ্য তাকওয়া ভিত্তিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া। আর তাকওয়া শব্দটির অর্থ বেঁচে থাকা, নিষ্কৃতি পাওয়া, মুক্তিলাভ করা প্রভৃতি। তাকওয়া অর্জন করার মূল অর্থ হচ্ছে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচরণ করতে গিয়ে মুমিন আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচার জন্য যে চেষ্টা-সাধনা করে এবং শাস্তিযোগ্য কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে। আর তার এই কার্যক্রমই তাকওয়া নামে অভিহিত হবার যোগ্য। এই তাকওয়ার অধিকারী বান্দার পরিচয় আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারার ২নং এবং ১৭৭নং আয়াতে দিতে গিয়ে বলেছেন: (১) তারা গায়েবের (যে বিষয় প্রত্যক্ষ জ্ঞান নেই, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (২) সালাত কায়েম করে (৩) আল্লাহর দেয়া রিযিক  থেকে খরচ করে (৪) শেষ নবী মুহাম্মদ (স) এবং তার পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের উপর নাযিলকৃত কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে (৫) আখেরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে (৬) ওয়াদা পূরণ করে (৭) ব্যক্তিগত অসুবিধায়, বিপদ মুসিবতে এবং সত্যের সংগ্রামে বাতিলের সাথে প্রত্যেক সংঘাত মুহূর্তে সবর বা ধৈর্য্য অবলম্বন করে। তাকওয়া ভিত্তিক জীবন যাপন করলে আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে অফুরন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পবিত্র কুরআনের অনেক আয়াতেই এই পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহপাক পবিত্র কুরআনের সূরা তালাকে ২ থেকে ৫নং আয়াতে বলেছেন। যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নেবে- ১। দুনিয়ার বিপদ আপদ থেকে তাদের বাঁচানো হবে। ২। দুনিয়াতে এমন জায়গা থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করে দেয় হবে যা তারা কল্পনাও করতে পারবে না। ৩। জীবনের সব কাজগুলোকে সহজ করে দেয়া হবে। ৪। জীবনের সকল গুনাহগুলো থেকে নিস্কৃতি  দেয়া হবে। ৫। কিয়ামতের কঠিন ময়দানে তাকে একটি বিরাট প্রতিদান বা উত্তম প্রতিদান দেয়া হবে।

সুতরাং আমাদের সবার কুরআন নাযিলের এই মহিমান্বিত মাস মাহে রমযানকে আত্মগঠন ও তাকওয়া অর্জনের মাস হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আর ইবাদতের বাইরের কাঠামো ও আনুষ্ঠানিকতাকেই আমরা অনেকে ইবাদত মনে করি; বরং প্রতিটি ইবাদতের আসল ভাবধারা ও মূল উদ্দেশ্যের দিকেই আমাদের বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তবেই মুসলমানদের প্রতিটি কাজের মধ্যে স্বত:স্ফুর্তভাবে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য ফুটে উঠবে। আর এই রমযান মাসের রোজা আল্লাহপাকের পক্ষ  থেকে এক অফুরন্ত নেয়ামত। আমরা যেন রমযান মাসের রোজাগুলো যথাযথভাবে আদায় করে মহান রবের নৈকট্যলাভ করতে পারি। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে  সেই তাওফিক দান করুক। আ-মী-ন।

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com