1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

মিরপুরে স্বামীর লাশের পাশেই স্ত্রীর রাতভর অপেক্ষা!

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১
  • ১৫৭ মোট ভিউ

 

 

জহুরুল ইসলাম ॥ করোনায় মারা গেছেন বলে মৃতদেহ সৎকারে শ্মশানে এলেন না  কেউ। রাতভর স্বামীর মরদেহ পাহারা দেয়ার পর স্থানীয় মুসলিমদের সহায়তায়  শেষে সকালে মাটিচাপা দিলেন স্ত্রী। এ ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার। মৃত করোনা রোগির নাম প্রফুল্ল কর্মকার। বাড়ি মিরপুর পৌরসভার হরিতলা এলাকায়। অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ যখন মিরপুর উপজেলা শ্মশানে পৌঁছায় তখন শনিবার মধ্যরাত পেরিয়ে শুরু হয়েছে রবিবারের প্রথম প্রহর। সে সময় শ্মশানের দায়িত্বে থাকা  লোকজন নিজ নিজ বাড়িতে গভীর ঘুমে। শ্মশান গেটে তাই তালা। মৃতের স্ত্রী কল্পনা কর্মকার সঙ্গে থাকা সন্তানকে পাঠালেন শ্মশানের দায়িত্বশীলদের একজনের বাড়িতে। কিন্তু সেই দায়িত্বশীল জানিয়ে দেন তারা করোনা রোগীর সৎকার করতে পারবেন না। পরে তিনি প্রফুল্ল কর্মকারের ছেলের হাতে শ্মশানের গেটের চাবিটি ধরিয়ে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করেন। এদিকে, ওই রাতে শ্মশানে আর লোকজন না থাকায় শ্মশানে লাশটি নামানো সম্ভব হয়নি। খানিকবাদে মরদেহ পাশের গোপালপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় নামিয়ে ফেরত যায় অ্যাম্বুলেন্স। ফেরত যান সাথে থাকা অন্যান্যরাও। গভীর রাতে সবাই ফেরত গেলেও ফেরত যাননি একজন। তিনি প্রফুল্ল কর্মকারের স্ত্রী কল্পনা কর্মকার। স্বামীর মরদেহ নিয়ে সৎকারের উদ্দেশ্যে কল্পনা একাই পার করেন রাতের বাকি অংশ। এদিকে, সকাল অবধি অপেক্ষার পরও মরদেহ সৎকারে শ্মশান কমিটি বা নিজ আত্মীয়-স্বজনের সাহায্য না পেয়ে কয়েকজন মুসলিম ব্যক্তির সহায়তায় ওই মরদেহ  মাটি চাপা দেন কল্পনা।  এলাকাবাসী জানায়, শনিবার রাতে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান প্রফুল্ল কর্মকার (৭০)।  এ ব্যাপারে মৃত প্রফুল্ল কর্মকারের স্ত্রী কল্পনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় কাউন্সিলর জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রফুল্ল কর্মকারের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা করোনা আক্রান্ত। সে কারণে তার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ সৎকার করতে পারেননি। তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউও মরদেহটির সৎকার করার জন্য এগিয়ে আসেননি। পরে সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি জানালে তিনি স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনের সহায়তায় তাকে সমাহিত করার ব্যবস্থা করেন। মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, বিষয়টি জানার পরপরই পৌর মেয়র ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবহিত করেন। তারা স্থানীয়  লোকজনকে দিয়ে সমাহিত করার কাজটি সম্পন্ন করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page