1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

রমজানুল মোবারক: তাকওয়া রমজানের গুরুত্বপুর্ন শিক্ষা

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রমজানুল মোবারকের আজ ৮ম দিবস। এ মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দেয়ার উদ্দেশ্য হিসেবে কুরআন মজিদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেন তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ অর্থাৎ রমজানে সিয়াম পালনের মাধ্যমে মুমিন বান্দারা তাকওয়ার গুণ অর্জন করতে পারেন। আর তাকওয়ার বদৌলতে মানুষ সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী হয় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট। রমজানের মাসের মুল শিক্ষায় সারা দিন না খেয়ে ষড়রিপুকে দমনের মধ্য দিয়ে প্রকৃত খোদাভিতি অর্জন। আর সেই খোদাভিতিই হচ্ছে তাকওয়া। এই পবিত্র জিনিষটিকে মানুষ পুর্নাঙ্গভাবে রপ্ত করতে পেরেছে সেই সফলকামী।
সূরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা এরশাদ করেন, হে মানুষেরা, নিশ্চয় আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন নর ও একজন নারী থেকে এবং তোমাদেরকে জাতি ও গোষ্ঠীতে বিভক্ত করেছি এ জন্য যে তোমরা পরস্পর পরিচিত হবে। নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে মুত্তাকি, সেই আল্লাহর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত। এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদার মাপকাঠি তার তাকওয়া। যার চরিত্রে তাকওয়ার মাত্রা যেমন, আল্লাহতায়ালার কাছে তার মর্যাদাও তেমন। তাকওয়া শব্দের অর্থ সাবধানতা ও সংযম। মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকাই তাকওয়ার অর্থ বলে বর্ণনা করা হয়। তবে মন্দ কাজ বর্জন যেমন জরুরী, তেমনি ভালো কাজগুলো করাও তাকওয়ার অন্তর্গত। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের সমষ্টিই তাকওয়া। সাধারণভাবে তাকওয়া শব্দের অর্থ করা হয় আল্লাহর ভয়। মহান রাব্বুল আলামিনের সামনে একদিন সবাইকে হাজির হতে হবে। সে দিন দুনিয়াবি জীবনের প্রতিটি কথা, কাজ ও আচরণের হিসাব দিতে হবে। এই বিশ্বাস ও ভয়ই মানুষকে সাবধানী ও সংযমী করে তোলে। তাকওয়ার মর্ম বর্ণনায় হজরত উবাই ইবনে কা‘ব রাজিয়াল্লাহু আনহুর একটি উক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। হজরত ওমর ফারুক রাজিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে তাকওয়ার মর্ম বর্ণনার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, আমিরুল মুমেনিন, আপনি কি কখনো কাঁটা ঝোপের মধ্যদিয়ে পথ চলেছেন? সেখানে যেমন আপনাকে সবসময় সাবধানে নিজের শরীর ও কাপড় রক্ষা করে চলতে হয়, তাকওয়া ঠিক তেমনি সাবধানী আচরণ ও জীবনযাপনের নাম। বস্তুত আল্লাহর কাছে বান্দার জবাবদিহিতার অনুভূতিই তাকওয়া। ইসলামি শরিয়তে বান্দার করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। তেমনি এসবের গুরুত্ব ও মাত্রার পর্যায়ক্রম নির্ণীত আছে। করণীয়গুলোকে আবশ্যকতার মাত্রার পর্যায়ভেদ অনুযায়ী ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত ও মুস্তাহাব পরিভাষায় প্রকাশ করা হয়। আর বর্জনীয়গুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় হারাম, মাকরুহ তাহরিমি, মাকরুহ তানজিহি ইত্যাদি পরিভাষা। কর্তব্য পালন ও বর্জনীয় পরিহারের মাত্রা অনুযায়ী তাকওয়ার স্তর বিন্যস্ত করা হয়। মুসলিম মনীষীরা তাকওয়ার তিনটি স্তর বর্ণনা করেনÑ প্রাথমিক, মধ্যম ও উচ্চ। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য যা অবশ্য পালনীয় অর্থাৎ ফরজ ও ওয়াজিব, তা পালন করা এবং যা অবশ্য বর্জনীয় অর্থাৎ হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি, তা বর্জন করা তাকওয়ার প্রাথমিক পর্যায়। তাকওয়ার নূন্যতম পর্যায় হারাম ও মাকরুহ তাহরিমি বর্জন এবং ফরজ ও ওয়াজিব আদায় করা। কারো মধ্যে কমপক্ষে এতটুকু থাকলেও তিনি মুত্তাকি। বলা যায় একজন মুমিনের জন্য তাকওয়ার এই স্তরটি আবশ্যিক। নিম্নতম এই তাকওয়া নাজাতের জন্যও শর্ত। ফরজ ও ওয়াজিবের পাশাপাশি সুন্নত গুলো পালন এবং হারাম ও মাকরুহ তাহরিমির পাশাপাশি মাকরুহ তানজিহ বর্জন তাকওয়ার মধ্যম স্তর। আর মুস্তাহাবগুলো পালনে এবং সন্দেহজনক কাজগুলো বর্জনে সচেষ্ট থাকা তাকওয়ার সর্বোচ্চ স্তর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে এই রমজানের রোজার মাধ্যমে পুর্ণরূপে তাকওয়া অর্জনের সক্ষমতা দিন। আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com