1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

রমজানুল মোবারক : রোজাদার ব্যক্তির স্বাস্থ্য সচেতন থাকা জরুরী

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩

 

 

আ.ফ.ম নুরুল কাদের ॥ রমজান শব্দের মূল ধাতুগত অর্থ জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করা। অর্থাৎ রমজান মানুষের কৃ-প্রবৃত্তিকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয়, মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে; তাকে পূর্ণ মানুষে পরিণত করে। ফলে সে মানুষটি অন্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে, অন্যের প্রয়োজনকে নিজের প্রয়োজনের ওপর অগ্রাধিকার দেয়। অন্যের সুখের আশায় নিজের  ভোগকে সঙ্কুচিত করে। অসহায়, নিঃস্ব শ্রেণীর মধ্যে নিজের উপার্জিত অর্থ বিলিয়ে দেয়।  রোজার মাধ্যমে একজন মানুষ ক্ষুধার কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখে। আল্লাহ রোজা ফরজ করলেন মুত্তাকি হওয়ার জন্য, ক্ষুধার কষ্ট বোঝার জন্য, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। অসহায়, নিঃস্ব শ্রেণীর প্রতি বাস্তব সহমর্মিতা প্রকাশের জন্য। যথার্থ রোজা কুপ্রবৃত্তিকে দমন করে, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটায়। এভাবে রোজা আমাদের আত্মাকে সুস্থ ও পবিত্র করে। রোজা আমাদের আত্মাকেই কেবল সুস্থ করে না, আমাদের শরীরকেও সুস্থ রাখে এবং দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সারা বছর শরীরে যে ক্ষতিকর চর্বি জমে,  রোজা সে চর্বিকে নষ্ট করে দেয়। রোজা রক্তের ক্ষতিকর চিনির পরিমাণ হ্রাস করে,  কোলেস্টেরল কমায়। দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে ও ত্বকের লাবণ্যতা ফিরিয়ে আনতে  রোজা সাহায্য করে। দীর্ঘ ১১ মাস পর এক মাসের নিয়মতান্ত্রিক ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য সংযম  গোটা দেহ ও পৌষ্টিকতন্ত্রের ‘সার্ভিসিং’-এর কাজ করে। এভাবে আমাদের দেহ ও  পৌষ্টিকতন্ত্রের অধিকাংশ সমস্যা রোজার মাধ্যমে দূর হয়। গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা মাঝে মাঝে তাদের সমস্যার কথা বলেন। তবে তাদের সমস্যার পেছনে রোগ এবং রোজা যতটা দায়ী. তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী তাদের অসংযত জীবনাচার ও খাদ্যাভ্যাস। গ্যাস্ট্রিকের রোগীরা এবং সাধারণ রোজাদাররা যদি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলেন তবে অনেক সুস্থ থাকতে পারবেন এবং অধিক পরিমাণ কাজ করতে ও ইবাদতে মনোযোগী হতে পারবেন।

রোজায় সুস্থ থাকার চিকিৎসকের কিছু পরামর্শ :

১। সেহরিতে মাছ-গোশতের পাশাপাশি অবশ্যই তাজা শাকসবজি খাবেন। অনেকেই  সেহরিতে ভাজিভুজি পছন্দ করেন। এতে পেটে গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে। কম তেলযুক্ত মাছ- গোশত ও ঝোল তরকারি দিনের বেলায় দেহকোষের সজীবতা রক্ষা করতে সাহায্য করবে। ২। পর্যাপ্ত পানি পান করবেন। বিশেষ করে সেহরি আগে খেলে সেহরির শেষ প্রান্তে এক গ্লাস পানি পান করবেন। ৩। খাদ্যতালিকায় খাঁটি দুধ এবং দেশী কলা রাখলে উপকার পাবেন। ৪। ইফতারিতে খুব বেশি ভাজাপোড়া পরিহার করুন। ছোলাবুট ভাজি আমাদের ইফতার সংস্কৃতির সাথে একাকার হয়ে গেছে। তারপরও বলছি, যদি তা পরিহার করতে পারেন বা কমাতে পারেন তবে পেটের সমস্যাপীড়িত লোকেরা দ্রুত কল্যাণ পাবেন। অবশ্য ভেজানো  সেদ্ধ ছোলা, টমেটোকুচি, ধনেপাতা ও সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে খেলে ক্ষতি অনেক কম হবে এবং খেতেও খারাপ লাগবে না। ৫।  দোকানে তৈরি ইফতারি যথাসম্ভব পরিহার করুন। ৬। ইফতারিতে শরবত, লাচ্ছি শরবত, চিঁড়া ভেজানো শরবত, ফিরনি এগুলো গ্রহণ করলে  দেহকোষ দ্রুত সজীব হবে এবং সহজেই ক্লান্তি কেটে যাবে। ৭। তীব্র ঝাল পরিহার করা একান্ত কর্তব্য। ৮। ভূরিভোজন করে ইফতারি করবেন না। রাতের খাবার খেতে বেশি বিলম্ব করবেন না। অন্যথায় সেহরিতে  ক্ষুধামন্দা ও অরুচি সৃষ্টি হতে পারে। ৯। পরিমাণে খুব  বেশি এবং পুষ্টিকর খাবার খেয়ে অনেকে শরীরের কষ্ট কমাতে চান। মনে রাখতে হবে,  রোজায় কিছু কষ্ট হবেই। এ কষ্ট স্বীকার করা ঈমানের পরীক্ষা। যিনি এ কষ্টের ভয়ে রোজা পরিহার করলেন তিনি মহান আল্লাহর একটা ফরজ হুকুম অমান্য করলেন। আর যিনি এ কষ্ট দুর করার জন্য গলা পর্যন্ত খেলেন তিনি অহেতুক কষ্ট করলেন এবং তা তাতে নানা ধরনের  পেটের পীড়ায় ভোগাতে পারে। তাই পরিমিত খাবার খেয়েই রোজায় অধিক সুস্থ থাকা যায়। এটা অভিজ্ঞতা প্রসূত সত্য। ১০। ইফতারিতে কিছু ফল রাখতে পারেন। এটা যে বিদেশী দামি ফল হতে হবে তা জরুরি নয়, বরং মৌসুমি দেশী ফলই শরীরের জন্য বেশি ফলদায়ক। ১১। সেহরির পর অল্প ঘুম বা বিশ্রাম খাবার হজমে সাহায্য করে। আপনি ফজরের নামাজের পরও ঘণ্টাখানেক ঘুমিয়ে নিতে পারেন। ১২। কোনো কারণে আমাশয় বা কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খুব বেশি বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ১৩। অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ পরিহার করুন। ঝগড়াঝাঁটি করবেন না, উত্তেজিত হবেন না। এতে আপনার রোজাও হবে ত্র“টিমুক্ত, অন্য দিকে আপনি ক্লান্তি হবেন কম।

উপরিউক্ত আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে আপনি রমজানে সুস্থ থাকবেন, প্রানবন্ত থাকবেনÑ যা আপনাকে আপন পেশায় ও ইবাদতে উৎসাহ জোগাবে। শরীর খারাপ থাকলে,  পেটে পীড়া থাকলে, পেটে গ্যাস হলে তা আপনাকে সহজেই ক্লান্ত করে ছাড়বে। কাজেই সুস্থ থাকার জন্য, সর্বোত্তম ইবাদতে মনোনিবেশের জন্য সুস্থ থাকার নিয়মগুলোকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি দীর্ঘ সময় অজু ধরে রাখতে পারবেন। পবিত্র অবস্থায় থাকাও একটা ইবাদত। রোজা পালনকালীন চিকিৎসকের এই পরামর্শ আমাদের সুন্দর পরিবেশ রোজা পালনের সহায়ক হতে পারে।-আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com