1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :
জিম্বাবুয়ে সিরিজের শুরুতে থাকবেন না সাকিব দক্ষিণ আফ্রিকায় ম্যান্ডেলা কাপে জিনাতের স্বর্ণ জয় বাংলাদেশের স্পিন বিভাগে পার্থক্য তৈরি করতে চান মুশতাক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রপতির পাকিস্তান সফর দেশের ইতিহাসে রেকর্ড ১৬ হাজার ২৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রথম ধাপের উপজেলা ভোট : ৭ চেয়ারম্যান ও ৯ ভাইস চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আমিরের বৈঠক: কাতারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহায়তা চায় বাংলাদেশ ফের তাপমাত্রা বাড়ার আভাস দেশি-বিদেশি চক্র নির্বাচিত সরকারকে হটানোর চক্রান্ত করছে : কাদের প্রধানমন্ত্রী ও কাতার আমিরের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, ১০ চুক্তি-সমঝোতা স্মারক সই

রিজার্ভ নিয়ে এত দুশ্চিন্তার কারণ নেই: প্রধানমন্ত্রী

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৫ মে, ২০২৩

 

ঢাকা অফিস ॥ বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ এখন যে পর্যায়ে আছে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তিনি বলেছেন, “আমাদের সেইটুকু থাকা দরকার, যদি কোনো আপৎকালীন সময় হয়, যেমন এই ঝড় ঝঞ্ঝা– এরকম ক্ষেত্রে, আমাদের খাদ কিনতে যদি ঘাটতি দেখা দেয়, সেই খাদ্য কেনার মত, অর্থাৎ তিন মাসের খাদ্য কেনার মত ডলারটা যেন আমাদের হাতে থাকে। ওইটা নিয়েই রিজার্ভের জন্য চিন্তা। এছাড়া রিজার্ভের এত চিন্তা না।” জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে রিজার্ভ ও ডলার সঙ্কট নিয়ে কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ডলার সঙ্কট এখন ?পুরো বিশ্বব্যাপী, এটা শুধু বাংলাদেশে না। “প্রথম গেল করোনা অতিমারী, আর তারপর ইউক্রেইন-রাশিয়া যুদ্ধ, আর সেই যুদ্ধের সাথে স্যাংশন, কাউন্টার স্যাংশন। যার ফলে আজকে সারা বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি যেভাবে বেড়ে গেছেৃ। দ্বিতীয় হচ্ছে পরিবহন, পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেছে, যার কারণে ডলার সঙ্কটটা এখন সমগ্র বিশ্বেই রয়ে গেছে। শেখ হাসিনা বলেন, “করোনা অতিমারীর মধ্যে যেটা হয়েছিল যে আমদানি রপ্তানি বন্ধ, বিদেশে যাতায়াত বন্ধ, সবকিছু বন্ধ থাকাতে খরচও আমাদের কম ছিল, ভ্যাকসিন কিনতেই যা ডলার লেগেছিল, বাকি আমরা খুল ভালোভাবে একটা রিজার্ভ রাখতে পেরেছিলাম। “কিন্তু এরপর যখন আবার অর্থনীতি উন্মুক্ত হল, স্বাভাবিকভাবেই সেই সুযোগটা থাকেনি, ডলার খরচ হচ্ছে এবং হবে। তার থেকেও বড় কথা, মানুষকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিচ্ছি, গ্যাস দিয়ে এখানে ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে, বিনিয়োগ হচ্ছে, উৎপাদন বাড়ছে। “কাজেই ডলারের ওপর চাপ পড়বে, তবে সেই চাপটাৃ আমরা একটা কথা বলি, আমরা তো আগেও সরকারে এসেছি, যখন ৯৬ সালে এসেছিলাম, তখন কতটুকু ছিল আমাদের রিজার্ভ? জাতির পিতা যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়তে শুরু করেন, তখন তো এক পয়সাও রিজার্ভ ছিল না। আমরা কি চলি নাই, আমরা কি এগোতে পারিনি?” ডলার আর রিজার্ভ নিয়ে বেশি বেশি কথা বলতে বলতেই সবার মাথায় ‘ওই রিজার্ভই ঢুকে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আমাদের রিজার্ভ এখনও যা আছে, তাতে অন্তত এটুকু বলতে পারি, আমাদের এখনও কোনো সঙ্কট এভাবে নাই। তবে হ্যাঁ, আমরা সব সময় চেষ্টা করি, যে রিজার্ভটা যেন আমাদের ধরে থাকে, সেদিকে।” ২০০৬ সালে যখন আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে, সেই সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “যখন বিএনপি ক্ষমতায়, তখন রিজার্ভ কত ছিল? ০.৭৪৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার, মানে এক বিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম। আর এখন আমাদের আছে ৩১.২২ বিলিয়ন ডলার। কাজেই এটা নিয়ে দুশ্চিন্তর খুব বেশি একটা কারণ নেই। “যে কারণে আমরা বলছি যে আমাদের দেশের যত অনাবাদি জমি, তাতে ফসল ফলাব, নিজের খাবার খাব, অন্যের ওপর আর নির্ভরশীল হব না। কারো কাছে হাত পেতে চলব না। কারো কাছে ভিক্ষা আনব না। নিজের উৎপাদন করে আমরা নিজেরাই চলব। আমাদের খাবারের অভাব হবে না।” যে কোনো দুর্যোগ মোকাবেলার সরকারের প্রস্তুতি থাকে জানিয়ে রসিকতা করে শেখ হাসিনা বলেন, “এমনই প্রস্তুতি নিলাম যে ঘূর্ণিঝড় চলেই গেল, আঘাত হানতেই সাহস পেল না। তবে আবার আসবে। একটা নিয়ম আছে, একটার পর পরই আরেকটা আসে, সেজন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।” কীসের জন্য ডাকতে যাবো: সংলাপ ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী  দেশে আন্দোলনরত বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়টি আবারও নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আলোচনায় কীসের জন্য ডাকতে যাবো? তাদের ডিমান্ডই তো ঠিক নাই। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখার সময় বাইরে অনেক লোক বিক্ষোভ করছিল। তখন তাদের ডেকে কথা বলতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তার স্পিস রাইটারের এই বক্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হয়, এটি ঠিক কিনা। জবাবে মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক অভিব্যক্তি জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে প্রশ্ন করা হয়, এটি ঠিক থাকলে বাংলাদেশেও অনেক মানুষ রোদের মধ্যে কষ্ট, রাস্তায় নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। তারাও কষ্ট করছে। আপনি কি ওদের (যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভকারীরা) মতো এদেরও (বাংলাদেশে তাদের অংশ) আলোচনায় ডাকবেন? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, কাদেরকে? সেই উত্তরটা পরে দিচ্ছি। আলোচনায় কীসের জন্য ডাকতে যাবো? তাদের ডিমান্ডই তো ঠিক নাই। যুক্তরাজ্যে যারা ছিলেন তখন বৃষ্টি নেমেছিল। আমি ভাবলাম বাংলাদেশের প্রবাসী তারা বৃষ্টিতে ভিজবে তার চেয়ে তাদের ডাকি, কী বলতে চায় শুনি। এখন ঢাকায় বা বাংলাদেশে যারা, তাদের যদি বৃষ্টিতে ভেজা শখের মধ্যে থাকে তারা থাকুক। স্যাংশনের ভয়ে বসে থাকবো কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের কী কারণে স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) দেবে? যাদের দিয়ে (র‌্যাব) আমরা সন্ত্রাস দমন করলাম, জঙ্গিবাদ দমন করলাম। হলি আর্টিজানের পর বাংলাদেশে আর তেমন কোনও বড় ঘটনা ঘটেনি। কারণ, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি এবং আরও কিছু ভালো কাজ করেছে। যার ফলে আর কিছু তেমন হয়নি। এরপরও স্যাংশন কেন? সেটাই আমাদের প্রশ্ন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি তো অর্থ মন্ত্রণালয়কে, কেনাকাটার বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়কে বলে দিয়েছি। এখন থেকে আমাদের শর্ত থাকবে, যারা আমাদের স্যাংশন দেবে তাদের থেকে আমরা কোনও কিছু কেনাকাটা করবো না। পরিষ্কার কথা। এখানে ভয়ের কী আছে? যেটা নিয়ে সমস্যা হয় সেটা আমরা উৎপাদন করে সমাধান করতে পারি। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী যেখানে মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যের অভাব, উন্নত দেশে খাবার কেনা সীমিত করে দেওয়া হচ্ছে, যারা বড়লোক তাদের অসুবিধা নাই, সাধারণ মানুষের তো অনেক অসুবিধা হচ্ছে। সেদিক থেকে আমরা তো আমাদের মানুষকে প্রণোদনা দিয়েছি। রোজার সময় তো মানুষের হাহাকার শোনা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোজার সময় আমরা মানুষকে যথেষ্ট সাহায্য করেছি। আমাদের নেতাকর্মীরা করেছে। তো আমাদের দুশ্চিন্তার কী আছে? কথা নাই, বার্তা নাই, স্যাংশনের ভয় দেখাবে! আমরা ভয় পেয়ে বসে থাকবো কেন? আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। যারা আমাদের সপ্তম নৌবহরের ভয় দেখিয়েছিল, আমরা সেটি পার করে বিজয় অর্জন করেছি। সেটি ভুললে চলবে না, আত্মবিশ্বাস নিয়ে চলতে হবে। আমাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, এটা সেটা শুনতে হয়। আমাদের দেশেরই কিছু মানুষই দেশের বদনাম করে। তারা যে দুর্নীতিসহ কত অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সেগুলো আমাদের সাংবাদিকরা খুঁজে বের করে না। সাংবাদিকরা খুঁজলে অনেক তথ্য পাবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com