1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

শিক্ষকের অবহেলায় স্বপ্ন ভাঙ্গতে বসেছিল রাফির, বাঁচালেন ইউএনও

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৩

 

নিজ সংবাদ ॥ এসএসসি পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন মো. রাহাত আল রাফি। রোববার তাঁর পরীক্ষা। কিন্তুু বিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তাঁর নিবন্ধনের টাকা জমা হয়নি। আসেনি তাঁর প্রবেশপত্রও। শিক্ষকরা তাকে সামনের বছর পরীক্ষা দেওয়া পরামর্শ দেন। তবে রাফি তাঁর সমস্যাটি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ইউএনও বিতান কুমার মন্ডলকে জানান। খবর পেয়ে ইউএনও মাত্র ৫ ঘণ্টায় রাফির প্রবেশপত্রের ব্যবস্থা করে দেন। রাফি উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কারিগরি বিভাগের ছাত্র ও কোমরকান্দি গ্রামের কৃষক মো. আলফাজ মালিথার ছেলে। তিনি ঢাকা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী। তাঁর রোল নং -৫৮৭৩৩৬, রেজিস্ট্রেশন নং – ২৭০১১৫৩৫১৯। শনিবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে রাফির হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেন পরীক্ষর কেন্দ্র সচিব ও আলাউদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম। এসময় তাঁর মা মোছা. মুসলিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষার আগের দিন প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে বেজায় খুঁশি মা ও ছেলে। আবেগ – আপ্লুত হয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইউএনওর প্রতি। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছেন রাফির নিবন্ধনের টাকা জমা না হওয়ায় প্রবেশপত্র আসেনি। বিষয়টি তাঁরা খেয়াল করেননি। আর শিক্ষার্থী বলছেন, তিনি দুই হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে তাঁর নিবন্ধন সম্পন্ন করেছিলেন। এবিষয়ে ওই পরীক্ষার্থী মো. রাহাত আলী রাফি জানান, তিনি দুই হাজার ৮০০ টাকা দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন, কিন্তু শিক্ষকরা তাকে টাকা জমার রশিদ দিছিল না। গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে প্রবেশপত্র আনতে গেলে শিক্ষকরা তাকে জানান তাঁর নিবন্ধন হয়নি। সেজন্য তাঁর প্রবেশপথও আসেনি। উপায় জানতে চাইলে শিক্ষকরা তাকে আগামী বছর পরীক্ষা দেওয়ার পরামর্শ দেন। শিক্ষকদের কথা শুনে তিনি হতাশ হয়ে বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানালে বাড়ির লোকজনও তাকে আগামী বছর পরীক্ষার কথা জানান। তিনি আরো জানান, বাড়ির লোকদের কথা শুনে তিনি আরো ভেঙে পড়েছিলেন। পরে গত শুক্রবার বিকেলে ইউএনও স্যারকে তিনি মুঠোফোনে তাঁর সমস্যাটি জানালে শনিবার দুপুরে তিনি প্রবেশপথটি হাতে পেয়েছেন। রাফি বলেন, এবছর পরীক্ষা দিতে পারবেন তা তিনি ভাবতেও পারেন নি। স্বপ্নের মতো প্রবেশপথটি হাতে পেয়ে তিনি খুব খুশি ও আন্দিত। ইউএনওকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। ছেলের আনন্দ দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে কেঁদে দিয়ে তাঁর মা মুসলিমা খাতুন বলেন, ইউএনও স্যার না থাকলে তাঁর ছেলের পরীক্ষা দেওয়া হতোনা। ইউএনওর উপকার কথা বলার ভাষা হারিয়েফেলেছেন তিনি। এবিষয়ে খোরশেদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক ( ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সম্প্রতি তিনি প্রধান শিক্ষকের দাঁয়িত্ব নিয়েছেন। নিবন্ধন ছিলো আগের প্রধান শিক্ষকের সময়ে। তাঁর ভাষ্য, নিবন্ধনের টাকা জমা না হওয়ায় প্রবেশপত্র আসেনি। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মাজেদ বলেন, কেরানির ভুলে হয়তো টাকা জমা হয়নি। তিনি সেসময় খেয়াল করেননি। তবে আজ ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে ওই ছাত্র প্রবেশপত্র পেয়েছেন। ইউএনও বিতান কুমার মন্ডল বলেন, ‘ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিষয়টি জানার পরে ডিসি স্যার ও এডিসি শিক্ষা স্যারের সহযোগীতায় রাতেই সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছিল। আজ তাঁর হাতে প্রবেশপত্রটি তুলে দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, এসএসসি পরীক্ষা ছাত্রজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এধরনের বাঁধা একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভাঙার একটি বড় কারণ হতে পারতো। সেজন্য উপজেলা প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে কাজটি করার চেষ্টা করেছে। তবে এতো সহজে করতে পারবেন তা তাঁর বিশ্বাস হচ্ছিল না।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com