1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শিরোনাম :
মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলা নির্বাচনে চুড়ান্ত প্রার্থী প্রকাশ চ্যাপম্যান ঝড়ে সমতায় নিউজিল্যান্ড অবিচারের শিকার হয়েছে বার্সা: জাভি মোস্তাফিজ ভাইয়ের প্রতিটা বল দেখি: শরিফুল ইসরায়েলি সেনা ব্যাটালিয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হবেন ২০ লক্ষাধিক দরিদ্র মানুষ : আগামী বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা থাইল্যান্ড যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সই হবে ৫ চুক্তি-সমঝোতা আরো ৩ দিনের সতর্কবার্তা বাড়তে পারে তাপমাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী কুমারখালীতে বৃষ্টির আশায় ইস্তিসকার নামাজ আদায়

শুধু ৩২ নয়, ৩২শ পার করুক আন্দোলনের বাজার!

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৭ মে, ২০২৩

 

॥ তারিকুল হক তারিক ॥

আন্দোলনের বাজার। এটি একটি পত্রিকায় শুধু নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠানও বটে। প্রতিষ্ঠান এজন্যেই বলছি যে, এখান থেকে গত ৩২ বছরে অনেক সাংবাদিক তৈরী হয়েছে। যারা এখন দেশের বিভিন্ন শীর্ষ গনমাধ্যমের গুরুত্বপুর্ণ পদে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আন্দোলনের বাজার-এই নামটির সাথে বা এই পত্রিকাটি জন্মের সাথে আমার যে সম্পর্ক তা হল একটি শিশু জন্মের সময় আতুর ঘরে দায়-মা যে ভূমিকা পালন করেন আমার সম্পর্কটাও সেরকমই। এটির জন্মদাতা মনজুর এহসান চৌধুরী বা মিঠু চৌধুরী, যে নামেই ডাকি। যিনি ২৫ বৈশাখ বিশ^কবি বরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তিতে আন্দোলনের বাজারের জন্ম দেন। যিনি আমার সাংবাদিকতার গুরু। যিনি আমাকে সংবাদের ইন্ট্রো লেখা শিখিয়েছেন। যিনি আমাকে কি ভাবে একটি সংবাদের চম্বুক অংশটি সামনে এবং লেস ইমপটেন্ট অংশটি পেছনে রাখতে হয় সেটি শিখিয়েছেন।

৩২ বছর আগে জন্ম নেয়া এই পত্রিকাটি আজ শুধু কুষ্টিয়াতেই নয়, খুলনা বিভাগের প্রচন্ড শক্তিশালী একটি গণমাধ্যম। ভাবতে অবাকই লাগে, সেই ১৯৯১ সালে হাটি হাটি পা পা করে পত্রিকাটির পথ চলা শুরু হলেও আজ সে পুর্ণ যৌবন অতিক্রম করেছে। শুরু থেকে এই পত্রিকার ক্ষুরধার লেখনীর কারণে সমাজের বিভিন্ন অসৎ ব্যক্তিদের কাছা খুলে গেছে। বাস্তবতার কারণে কয়েক বছর আগে পত্রিকার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এসেছে। আমার অত্যন্ত স্নেহের আনিসুজ্জামান ডাবলু আমাদের কয়েকজনের হাতে গড়া সেই পত্রিকার এখন সম্পাদক ও প্রকাশক। ডাবলু এখনো মিঠু চৌধুরীর সেই ক্ষুরধার লেখনীর ধারা অব্যহত রেখেছে।

আন্দোলনের বাজার যে হাউস থেকে প্রকাশিত হয়, সেই হাউস থেকে আগে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হত। যেটি কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রথম পত্রিকা। তার নাম ইস্পাত। সাপ্তাহিক ইস্পাত। আন্দোলনের বাজারের জনক মনজুর এহসান চৌধুরীর বাবা কুষ্টিয়ার প্রতিথযশা সাংবাদিক ওয়ালিউল বারী চৌধুরী সেটি প্রকাশ করতেন। ১৯৮৬ সালের আমি যখন ক্লাস এইটে পড়তাম তখন আমি ওই পত্রিকাটির সাথে সাংবাদিকতা শুরু করি। স্কুল শেষে বিকেলে মাঝেমধ্যে আমি ইস্পাতে যেতাম। ছুটির দিনে সকালে যেতাম। ওয়ালিউল বারী চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে তার ছেলে মনজুর এহসান চৌধুরী মাঝে মধ্যে ইস্পাতে বসতেন এবং বিভিন্ন সংবাদ এডিট করতেন। সেখান থেকেই মনজুর এহসান চৌধুরী ওরফে মিঠু চৌধুরীর সাথে আমার সখ্য। তখন জানতে পারলাম সাংবাদিকতার বাইরেও সম্পর্কে তিনি আমার নানা হন। সেসময় সেখানে তৎকালীন জাতীয় দৈনিকের তারকা সাংবাদিক খবরের সনৎ নন্দী, অবজারভারের জামান আক্তার বুলবুল, নবঅভিযানের বকুল চৌধুরী, দিনকালের হাসানুল কবির নাজির, নিউনেশনের গালিব ভাই এবং জনতার ফুয়াদ হোসেন নামে একজন আসতেন এবং দারুন আড্ডা হত। সেই আড্ডায় আমিই সবচেয়ে তরুন। আড্ডায় অনেক সময় কেউ কেউ আমার সামনে সব কথা বলতে চাইতেন না আমি ছোট বলে। আমার খুব ষ্পষ্ট মনে আছে তখন সনত দা বা মিঠু নানা বলতেন, কিসের ছোট মানুষ! তার লিখা দেখেন না? তার সামনেই সব বলতে হবে। না হলে ও শিখবে কি করে। ওই সময় ইস্পাতের বাইরে শহরের এনএস রোডে খাজা ফার্মেসি বলে বিলুপ্ত একটি ফার্মেসিতে বসেও আমাদের আড্ডা হত। এরই মধ্যে আমি ১৯৮৮তে এসএসসি পাশ করে ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হলাম। কলেজ আর ইস্পাতে সাংবাদিকতা এক সাথে চলতে লাগল। আমি এই শহরে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন দেখতে দেখতে ১৯৯০ এর গনঅভ্যুত্থান ও দেখলাম।

৯০ এর ডিসেম্বরে এরশাদের পতনের পর একদিন মিঠু চৌধুরী বললেন আমি একটা দৈনিক কাগজ করতে চাই। যেটা হবে সব মানুষের প্রতিদিনের পত্রিকা। যে কথা সেই কাজ। তিনি ডিসি অফিসে আবেদন করলেন এবং সেসময় তিনিসহ আমি, হালিমুজামান, নাজির ভাই এবং বকুল চৌধুরী মিলে আন্দোলনের বাজার পত্রিকার ডিক্লারেশনের জন্যে ডিসি অফিস ও এসপি অফিসে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিলাম। তার আগে আমার খুব কাছের বন্ধু কবি কাজল তালুকদারকে মিঠু চৌধুরী ইস্পাত অফিসে ডাকলেন এবং আন্দোলনের বাজারের একটি লোগো করতে বললেন। কাজল স্বল্প সময়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত সম্বলিত আন্দোলনের বাজার লিখে আনলেন। চৌধুরী সেটি পছন্দ করলেন এবং সেই আন্দোলনের বাজার লোগোটি এখনো ব্যবহার হচ্ছে। আজ এই লিখার সময় মনটা খুবই ভারাক্রান্ত। আমার সেই বন্ধু কবি কাজল তালুকদার অসুস্থ হয়ে এক বছরের বেশি সময় আগে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। এরপর ১৯৯১ সালে ঢাকা থেকে নতুন ধারার একটি দৈনিক পত্রিকা আজকের কাগজের প্রকাশনা শুরু হলে মিঠু চৌধুরী আমাকে ওই পত্রিকায় কুষ্টিয়া জেলা রিপোর্টারের দায়িত্ব নিতে বললেন এবং আমি সেখানে সংবাদ পাঠাতে শুরু করলাম। আমার পাঠানো সংবাদ ছাপাও হতে শুরু করল। এরই মধ্যে সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান তার দলবল নিয়ে আজকের কাগজের থেকে বের হয়ে ১৯৯২ সালের শুরুর দিকে ভোরের কাগজ শুরু করলেন। সেসময় দুটি পত্রিকা থেকেই আমাকে ঢাকায় ডাকা হল। তখন মিঠু চৌধুরী আমাকে বললেন, ঢাকায় যাও এবং দুটি অফিসের মিটিং এই এটেন্ড করবা এবং তোমার বুদ্ধি দিয়ে বুঝবা কোনটা ভালো হবে সেখানে তুমি নিজেকে মেলে ধরবা। আমি ঢাকা গেলাম এবং জিগাতলা মোড়ে আজকের কাগজের অফিসে এবং ময়মনসিংহ রোড শাহবাগে ভোরের কাগজের অফিসে গেলাম। শেষ মেষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করে আমি ভোরের কাগজেই সেট হলাম। এরপর আমি ঢাকা থেকে ফিরে এসে মিঠু নানাকে ঘটনা বললে তিনি খুবই খুশি হলেন এবং আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেনক্ষিণই তিন আমাকে বললেন, আরেকটা খুশির খবর আছে Ñ আন্দোলনের বাজারের ডিক্লারেশন কনফারম হয়েছে। আমরা ২৫ বৈশাখেই প্রকাশনা শুরু করব। ইতিমধ্যে ভোরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি হিসেবে আমি কাজ শুরু করে দিয়েছি। নতুন দায়িত্ব পড়ল ষ্টাফ রিপোর্টার আন্দোলনের বাজার।

স্মৃতি হাতড়ে মনে পড়ে গেলো আন্দোলনের বাজার পত্রিকার প্রথম দিনের আগের রাতের কথা। আমরা দিনে বিভিন্ন রিপোর্ট করে সন্ধ্যার আগেই জমা দিলাম। মিঠু নানা সেগুলি এডিট করে কম্পোজ করতে দিলেন শামসুল, সুজিত বাবু ও সেলিমের উপর। কম্পোজ শেষে মধ্যরাতে মিঠু চৌধুরী কাগজের ডামি করলেন। তখন অফিসে সম্পাদক মিঠু চৌধুরী আর রিপোর্টার আমি ছাড়া আর কেউই নেই। শামসুল-সেলিম ডামি অনুযায়ী পেজ মেকআপ করলেন। এরপর ভোর রাতে মিঠু চৌধুরী প্র“ফ দেখে বাসায় চলে গেলেন। আমাকে বলে গেলেন সকাল ৬টার দিকে ছাপা শেষ হলে পত্রিকার ষ্টল সংবাদ বিতরনীসহ কয়েকটি স্থানে পৌছে দিয়ে তার পরে আমার ছুটি। আমার খুব মনে আছে ৩২ বছর আগে আন্দোলনের বাজার পত্রিকার বান্ডিল বাধা প্রথম সংখ্যাটি সকাল ৭টার দিকে আমি বাইসাইকেলে করে সংবাদ বিতরনীসহ (এখন যেটা বই মেলা নামে পরিচিত) কয়েকটি পত্রিকা ষ্টলে পৌছে দিয়ে তারপর বাড়িতে গেলাম। প্রায় মাসখানেক আমি এরকম দায়িত্ব পালনের পর লোকবল নিয়োগ হলে প্রতি সকালে ষ্টলে পত্রিকা পৌছানোর দায়িত্ব থেকে আমি অব্যহতি পাই। ওই যে শুরুতেই বলেছিলাম- মনজুর এহসান চৌধুরী আন্দোলনের বাজারের জন্ম দিলেও আমি ছিলাম দায় মা। ৩২ বছর আগের সেই প্রথম কয়েক মাসের আন্দোলনের বাজারের সাথে আমার সম্পর্কের কথা মনে হওয়ায় আমার দু চোখে আনন্দ অশ্র“ বয়ে যাচ্ছে! আমার মনে হচ্ছে এই লেখাটি যখন আমার গুরু আন্দোলনের বাজারের জনক মনজুর এহসান চৌধুরী বা মিঠু চৌধুরী দেখবেন তখন তিনি বলবেন- এই পত্রিকার পেছনে তো তোর আরো অনেক কষ্টকর স্মৃতি রয়েছে সেগুলি কেন লিখলি না! ওই ঘটনাটা কেন লিখলি না! পাঠকদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাতে চাই না। আজ ৬ মে ২৩ বৈশাখ সকালে আন্দোলনের বাজারের বর্তমান সম্পাদক স্নেহের ডাবলু আজ রাতের মধ্যেই একটি লেখা দিতে বললে তার অনুরোধে আমার এই সামান্য স্মৃতি কথা।

শুরু থেকে একনাগাড়ে ১০ বছরেরও বেশি সময় আমি আন্দোলনের বাজারের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলাম। আমার পরেও আদিত্য শাহীন, শৈবাল অদিত্য, সঞ্জয় চাকীসহ আরো অনেকে আন্দোলনের বাজারের সাথে যুক্ত থেকেছে। তারা আমার থেকেও আরো অনেক ভালো ভালো রিপোর্ট করেছে। এখন তারও বর্তমানে দেশের শীর্ষ গনমাধ্যমের শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত। তাদের সকলো জন্যে শুভকামনাসহ আন্দোলনের বাজারের জন্যে শুধু ৩২ বছরের শুভকামনা নয়, আমি শুভকামনা করছি আন্দোলনের বাজার যেনো ৩২শ বছর একইভাবে সব মানুষের প্রতিদিনের পত্রিকা হিসেবে বেঁচে থাকে।

শেষে দুটি ঘটনার উল্লেখ করে এই লেখাটি শেষ করতে চাই।

এক। আমি যখন কলেজের ফাষ্ট ইয়ারে সাংবাদিক হিসেবে শহরে অনেকই তখন আমাকে চিনে। আমিও লেখাপড়া সিকেই তুলে সংবাদের পেছনেই ছুটতে লাগলাম। ফলাফল ইন্টার ফাইনালে ডাব্বা। আব্বা তো চরম ক্ষেপে গেলেন। পরের বার ফরম ফিলাপের টাকা দিলেন না। সময় আর একদিন বাকি। কোন উপায় নেই। সারাক্ষন সংবাদের পেঠনে ছুটি। কিন্তু কোন বেতন ভাতা নেই। তারপরেও এমন এক নেশায় মত্ত হয়ে গেলাম। পড়তে বসলেই সংবাদ কিভাবে লিখব সেটা মাথায় চলে আসে। আবার প্রতি মধ্যরাত পর্যন্ত আন্দোলনের বাজারে থাকি। ডামি শেষ করে তারপরে ফেরা। মধ্যরাতের পর শহরের মজমপুর থেকে রিক্সায় বারখাদায় বাড়ি ফিরে চুপিচুপি ঘরে ঢুকে পড়ি। একদিন রাত ২টার দিকে দেখি আব্বা পুকুর পাড়ে চুপটি করে বসে। আমি ভেবেছি আব্বা আমাকে দেখেনি। আমি চুপি সারে ঘরে ঢুকে দরজা লাগাতেই আব্বা সুন্দর করে ডাকলেন-তারিক কি ঘুম? কখন আসছিস? আমি বল্লাম আব্বা সেই রাত ১০টার পরপরই আসছি। তখন তিনি বললেন- দরজা খোল। তখন আমি তো বেশ বুঝতে পারছি এখন কি হবে। প্রথমত অনেক রাতে ফেরা। দ্বিতীয়ত মিথ্যা বলা। কোনরকমে কাপড় চেঞ্জ করেই দরজা খুলতেই আব্বা তাল পাখার ডান্টি দিয়ে মার শুরু করলেন। সেই এক মার….।

দুই। প্রায় রাতেই আমি দুইটার দিকে বাড়ি ফিরতাম। তখন একমাত্র রিক্সা ছাড়া কোন গতি নেই। তখন শীতের সময়। একরাতে আমি মজমপুর থেকে রিক্সায় উঠে বাড়ি যাবার পথে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি। বুঝতে পারিনি। আমি রিক্সায় ঘুমিয়েই চার কিলোমিটার পথ চলে গেছি। হটাৎ আযানের ধ্বনি কানে এলে জেগে দেখি রিক্সায় বসে আছি। আর রিক্সা চালক বাজারের নাইটগার্ডের সাথে শীতে আগুন পোহাচ্ছে। আমি বললাম ডাকো নায় কেন? সে বলে আপনি ঘুমাচ্ছেন। আমিও আগুন পোহাচ্ছি। তাই ডাকিনি। আবারো শুভকামনা আন্দোলনের বাজারের জন্যে এবং আন্দোলনের বাজারের সকল পাঠকের জন্যে।

লেখক ঃ ষ্টাফ রিপের্টার, কালের কন্ঠ।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com