1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫১ পূর্বাহ্ন

সবজি ফসলের ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ দমনে করণীয়

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ, ২০২২
  • ৮৫ মোট ভিউ

কৃষি প্রতিবেদক ॥ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সবজি ফসলের ঢলে পড়া রোগের প্রকোপ পরিলতি হচ্ছে। এ রোগটি দেখা দিলে দ্রুত সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং বুঝে ওঠার আগের জমির ফসল বিনষ্ট হয়। এ কারণে অনেক সময় চাষি ভাইয়েরা শঙ্কিত হয়ে পড়েন। টমেটো, বেগুন, মরিচ, আলুসহ প্রায় সব সবজি ফসলে ব্যাক্টেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ দেখা দেয়। এ রোগের আক্রমণে শুরুতে গাছের উপরের দিকের কিছু পাতা নেতিয়ে পড়ে, দুয়েক দিনের মধ্যে পুরো গাছটি ঢলে পড়ে ও মারা যায়। এ রোগে গাছের শিকড়, মূল, কান্ড বা অন্য কোথাও কোনো পচন দেখা দেয় না। সাধারণত গাছের বাড়ন্ত অবস্থায় যখন ফুল ফল আসতে শুরু করে তখন রোগের আক্রমণ প্রকট হয়। আক্রান্ত গাছের কান্ড কেটে আঙুল দিয়ে চাপ দিলে তরল আঠালো পদার্থ (ব্যাক্টেরিয়া) বের হয়। এখানে উল্লেখ্য, ছত্রাকজনিত ঢলে পড়া রোগে গাছের অংশবিশেষ বা কয়েকটি ডাল ঢলে পড়ে এবং আক্রান্ত গাছটি ধীরে ধীরে মারা যায়। কিন্তু ব্যাকটেরিয়জনিত ঢলে পড়া রোগে পুরো গাছটি ঢলে পড়ে ও গাছটি খুব দ্রুত মারা যায়।
রালস্টোনিয়া নামক মাটিবাহিত ব্যাক্টেরিয়ার আক্রমণে এই রোগ হয়। এ রোগের জীবাণু মাটিতে থাকে এবং সেচের পানির মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ও নতুন গাছে আক্রমণ করে। সাধারণত মাটিতে এবং মাটির তাপমাত্রা বেশি হলে রোগের আক্রমণ বেশি হয়। জমিতে ইউরিয়া সার বেশি দিলে এবং এমপি সার কম দিলে কিংবা মাটিতে নেমাটোড বা কৃমি থাকলে ঢলে পড়া রোগ বেশি হয়। কৃমি গাছের শিকড়ে ক্ষত তৈরি করে, এই ক্ষত স্থান দিয়ে ব্যাক্টেরিয়া গাছের ভেতর প্রবেশ করে কান্ডের ভেতর পানি চলাচলের পথকে বন্ধ করে দেয়। অনেকটা মানুষের হার্টের
ব্লকের মতো। ফলে পানি গাছের শিকড় থেকে উপরে যেতে পারে না এবং গাছ ঢলে পড়ে বা নেতিয়ে পড়ে। দুয়েক দিনের মাঝে গাছটি মারা যায়।
তিনটি কারণে এ রোগটি দমন বেশ কষ্টসাধ্য। প্রথমত, রোগের জীবাণু মাটিতে সুরতিভাবে থাকে। দ্বিতীয়ত, জীবাণু গাছের কান্ডের ভেতর থাকায় বালাইনাশকের সরাসরি সংস্পর্শে আসে না। তৃতীয়ত, বাজারে কার্যকর ব্যাক্টেরিয়ানাশক নেই। তাই এই রোগ দমনে প্রতিকার অপেক্ষা প্রতিরোধ শ্রেয়। টমেটো ও বেগুনের ক্ষেত্রে কাটাবেগুন বা তিতবেগুন গাছের রুট স্টকের উপর কাড়িত জাতের সায়ন দিয়ে কেফ্ট বা ভি গ্রাফটিং বা জোড়কলম করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কারণ এসব জংলি জাতের বেগুন গাছগুলো ঢলেপড়া রোগ প্রতিরোধী। কলমের ক্ষেত্রে সফলতার জন্য দক্ষতার প্রয়োজন হলেও এতে কোনো প্রকার বালাইনাশক ছাড়াই এ রোগ থেকে ফসলকে রক্ষা করা যায়।
জমিতে রোগের আক্রমণ দেখা দিলে প্লাবন সেচ দেয়া যাবে না, শুধু গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে। ইউরিয়া সার কম দিতে হবে। আক্রান্ত গাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। আক্রান্ত স্থানের মাটি সরিয়ে ফেলে, নতুন মাটি দিয়ে নতুন করে গাছ লাগাতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যাক্টেরিয়ানাশক বাজারে এসেছে। এগুলো হলো বিসমার্থিওজল গ্র“পের ব্যাকট্রোল-ব্যাকট্রোবার্ন-অটোব্যাক- এগুলো ২ গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে ও গাছের গোড়ায় ¯েপ্র করতে হবে। এছাড়াও কাসুগামাইসিন গ্র“পের কাসুমিন-কায়সার; ভ্যালিডামাইসিন গ্র“পের ভ্যালিড- সিনোপা-নির্ভয়-সিনোম এগুলো অনুমোদিত মাত্রায় প্রয়োগ করা যেতে পারে। ট্রাই ব্যাসিক কপার সালফেট গ্র“পের কিউপ্রোড়্যাট ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি হারে মিশিয়ে বা স্ট্রেপ্টোমাইসিন সালফেট ও টেট্রাসাইকিন হাইড্রোকোরাইড গ্র“পের ক্রোসিন প্রতি লিটার পানিতে ০.৮ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার গাছের গোড়ায় ¯েপ্র করতে হবে। এছাড়াও বাজারে বিদ্যমান ¯েপ্রপ্টোমাইসিন সালফেট গ্র“পের ব্যাক্টেরিয়ানাশক আন্টিব্যাক-ডাইব্যাক্টেরিয়া-বাহা-এগুলো ০.৫ মিলি হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ২-৩ বার প্রয়োগ করলে সুফল পাওয়া যায়।
এ রোগ দমনের জন্য ক্রমাগত একই গ্র“পের বালাইনাশক ব্যবহার না করে একাধিক গ্র“পের ওষুধ পর্যাক্রমে ব্যবহার করতে হবে এবং রোগের তীব্রতা অনুসারে ৫-৭ দিন অন্তর অন্তর ৩-৪ বার প্রয়োগ করতে হবে। কপার গ্র“পের একটি ছত্রাকনাশক এবং যে কোনো একটি ব্যাক্টেরিয়ানাশক পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করা ভালো।
ক্রোসিন-এজি ১০ এসপি ও কিউপ্রোড়্যাট ৩৪৫ এসসি ওষুধ দুইটি পর্যায়ক্রমে ব্যবহার করলে সুফল পাওয়া যায়। এন্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। মনে রাখতে হবে, যে কোনো বালাইনাশকই ক্ষতিকর বিষ; এগুলো অবশ্যয় অনুমোদিত মাত্রায় যথাযথ নিয়মে প্রয়োগ করতে হবে। বালাইনাশক ¯েপ্র করার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
লেখক ঃ ম প্রফেসর আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ, চেয়ারম্যান, উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page