1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন

সময়টা এখন শীতের শাকসবজি উৎপাদনের

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ১০ মোট ভিউ

 

কৃষি প্রতিবেদক ॥ বাংলা পঞ্জিকা মতে এখন মাঘ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে। মাঠে মাঠে হাড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশার দাপট চলছে। প্রকৃতির বৈরী আচরণ তোয়াক্কা না করে বাংলার কৃষকরা বোরো ও রবিশস্য আবাদে মাঠে কাজ করছেন। সময়টা এখন শীতের শাকসবজি উৎপাদনের। মাঠে বেশি ফলন পেতে শীতকালীন শাকসবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, ওলকপি, শালগম, গাজর, শিম, লাউ, কুমড়া, মটরশুঁটি এসবের নিয়মিত যতœ নিতে হবে। উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে জৈবসার, জৈব বালাইনাশক,  ফেরোমন ফাঁদ সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বালাই দমন করতে হবে। শীতকালে মাটিতে রস কমে যায় বলে সবজি ক্ষেতে চাহিদামাফিক সেচ দিতে হবে। বোরো ধান  রোপণের উত্তম সময় এখন। ইতোমধ্যে ৩০ শতাংশ ধান রোপণ হয়েছে। কেউ বা ক্ষেতে চাষ দিচ্ছেন আবার কেউ কেউ চারা রোপণ শেষ করেছেন। বোরো ধান রোপণের জন্য উপরি সার প্রয়োগ করতে হয়। ধানের চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন পর প্রথম কিস্তির সার, ৩০ থেকে ৪০ দিন পর দ্বিতীয় কিস্তি এবং ৫০ থেকে ৫৫ দিন পর শেষ কিস্তি হিসেবে ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করতে হবে। বোরো ধানে নিয়মিত সেচ প্রদান, আগাছা দমন, বালাই ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য পরিচর্যা করতে হবে। বোরো বীজতলা কোল্ড ইনজুরি থেকে বাঁচাতে রাতে ঢেকে রাখতে হবে। রোগ ও পোকা থেকে ধান গাছকে বাঁচাতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, আন্তঃপরিচর্যা, যান্ত্রিক দমন, উপকারী পোকা সংরক্ষণ, ক্ষেতে ডালপালা পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা, আলোর ফাঁদ এসবের মাধ্যমে ধানক্ষেত বালাই মুক্ত করতে হবে। এভাবে রোগ ও পোকার আক্রমণ প্রতিহত করা না গেলে শেষ উপায় হিসেবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক বালাইনাশক, সঠিক সময়ে, সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। এখন গম চাষের সময়। গমের জমিতে  যেখানে ঘনচারা রয়েছে তা পাতলা করে দিতে হবে। গম গাছ থেকে যদি শিষ বেড় হয় বা গম গাছের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ দিন হয় তবে জরুরিভাবে গমক্ষেতে একটি সেচ দিতে হবে। এতে গমের ফলন বৃদ্ধি পাবে। ভালো ফলনের জন্য দানা গঠনের সময় আরেকবার সেচ দিতে হবে। গম ক্ষেতে ইঁদুর দমন করতে হবে। শীতের এ সময় দেশের অনেক এলাকায় ভুট্টা আবাদ করা হয়। ভুট্টাক্ষেতে গাছের গোড়ার মাটি তুলে দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যান্য কারণে এ সময় ভুট্টা ফসলে আর্মিওয়ার্ম, ফল আর্মিওয়ার্ম ইত্যাদি পোকার আক্রমণ  দেখা যায়। আক্রান্ত গাছ থেকে লার্ভাগুলো হাত দ্বারা সংগ্রহ করে নষ্ট করে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে বালাইনাশক প্রয়োগ করতে হবে। এখন নতুন আলু উঠার সময়। আলু ফসলে নাবি ধসা রোগ দেখা দিতে পারে। সে কারণে ¯েপ্রয়িং শিডিউল মেনে চলতে হবে। মড়ক রোগ দমনে দেরি না করে ২ গ্রাম এক্সট্রামিল অথবা ডাইথেন এম ৪৫ অথবা সিকিউর অথবা  মেলুডি ডুও প্রতি লিটার পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিয়মিত ¯েপ্র করতে হবে। মড়ক লাগা জমিতে  সেচ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তাছাড়া আলু ফসলে মালচিং, সেচ প্রয়োগ, আগাছা দমনের কাজগুলোও করতে হবে। আলু গাছের বয়স ৮০ দিন হলে মাটির সমান করে গাছ কেটে দিতে হবে এবং ১০ দিন পর আলু তুলে ফেলতে হবে। খুব সহজে ও কম খরচে আলু উত্তোলন করতে পটেটো ডিগার যন্ত্র ব্যবহার করা যায়। ক্ষতির হার ১ শতাংশের নিচে এবং শ্রমিক ৫০ শতাংশ সাশ্রয় হয়। আলু তোলার পর ভালো করে শুকিয়ে বাছাই করতে হবে এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে। মাঠজুড়ে এখন রবিশস্য। মসুর, ছোলা, মটর, মাসকালাই, মুগ, তিসি এ সময় পাকে। সরিষা, তিসি বেশি পাকলে রোদের তাপে ফেটে গিয়ে বীজ পড়ে  যেতে পারে, তাই এগুলো ৮০ ভাগ পাকলেই সংগ্রহের ব্যবস্থা নিতে হবে। ডাল ফসলের  ক্ষেত্রে গাছ গোড়াসহ না উঠিয়ে মাটি থেকে কয়েক ইঞ্চি রেখে ফসল সংগ্রহ করতে হবে। এতে জমির উর্বরতা এবং নাইট্রোজেন সরবরাহ বাড়বে। এ সময় চরাঞ্চলে পেঁয়াজের সঙ্গে বিলে সাথী ফসল হিসেবে বাদাম চাষ করতে পারেন। শীতের সময় পুকুরে পানি কমে দূষিত হয়ে যায় বলে শীতকালে মাছের বিশেষ যতœ নিতে হবে। কার্প ও শিংজাতীয় মাছে উদর  ফোলা রোগ দেখা দেয়। মাছের ক্ষতরোগ যাতে না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। আর এ  রোগের প্রতিকারে প্রতি কেজি খাদ্যের সঙ্গে ১০০ মিলিগ্রাম টেরামাইসিন পরপর ৭ দিন খাওয়াতে হবে। মাছ চাষ বিষয়ে যে কোনো পরামর্শের জন্য কাছের উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। শীতকালে পোল্ট্রিতে অপুষ্টি, রানীক্ষেত, ফাউল টাইফয়েড, পেটে পানি জমা এসব সমস্যা দেখা যায়। মোরগ-মুরগির অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে প্রাণচিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, কে ও ফলিক এসিড সরবরাহ করতে হবে। শীতের তীব্রতা বেশি হলে পোল্ট্রি শেডে অবশ্যই মোটা চটের পর্দা লাগাতে হবে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শীতে গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। গোড়ার মাটি আলগা করে দিতে হবে এবং আগাছামুক্ত রাখতে হবে। সাধারণত এ সময় আমগাছে মুকুল আসে।

লেখক ঃ কৃষিবিদ আজিজুল ইসলাম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page