1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আশঙ্কাজনক হারে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও সেবার জন্য প্রস্তুত নয় হাসপাতালগুলো করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৮৯৭ চন্দ্রিমা ব্যাডমিন্টন ক্লাবের সভাপতি জাকির, সম্পাদক মুন্সী তরিকুল বুয়েটে ভর্তির সুযোগ পেয়ে কোথায় পড়বে জানেনা আবরার ফাহাদের ছোট ভাই কুষ্টিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের সময় পানিতে ডুবে যুবকের মৃত্যু রথে চাঁদার টাকা না দেয়ায় দোকান ভাংচুর ও উচ্ছেদ বিচ্ছু বাহিনীর দৌলতপুরে পদ্মা নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার পোড়াদহে খুলনা রেলওয়ে জেলার ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা মহানবী (সঃ) ও তার সহধর্মীনিকে কুটক্তি করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ রোটারি ক্লাব অব কুষ্টিয়া সেন্ট্রালের সভাপতির দায়িত্বভার নিলেন প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম

সার থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম কমিয়েছি

  • সর্বশেষ আপডেট : বুধবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২১
  • ২২ মোট ভিউ

 

 

ঢাকা অফিস ॥ সার থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম কমানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে সদ্যসমাপ্ত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল বুধবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারের দাম থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম কমিয়েছি। যে সার ৯০ টাকা ছিল, সেই সার ১৫-১৬ টাকায় আমরা পৌঁছে দিচ্ছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে (কৃষক) সব রকম সহায়তা দিচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, ডিজেলের দাম যখন বেড়ে গেছে, সাথে সাথে আমাদের প্রদিবেশী দেশেও বেড়ে গেছে। আমাদেরকে তো তেল কিনে আনতে হয়। আপনারা কি বলতে পারেন, কত টাকা ভর্তুকি দেই বছরে? বিদ্যুৎ এবং আনুষঙ্গিক মিলিয়ে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে থাকি। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা এত টাকা ভর্তুকি দেই, আরও কত টাকা আমরা ভর্তুকি দিতে পারব। আমাদের উপার্জনটা কী? আমাদের নিজস্ব কী সম্পদ আছে? কাজেই আপনাদের এটাও বিবেচনা করতে হবে। বাস ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারপ্রধান বলেন, স্বাভাবিকভাবে যখন তেলের দাম বেড়েছে, তারাও একটু সুযোগ নিয়েছে দাম বাড়ানোর। সেই দাম বাড়ানো নিয়ে তাদের যে দাবি ছিল, আমি কিন্তু বিদেশে ছিলাম ঠিক, দেশ থেকে দূরে ছিলাম তা কিন্তু না। এখন ডিজিটাল যুগ, কাজেই আমার সাথে সব সময় যোগাযোগ ছিল, আলোচনা হয়েছে। তারপর তাদের সাথে অনেক বৈঠক করে, আলোচনা করে একটা সমঝোতায় নিয়ে আসা হয়েছে। বাসের ভাড়া একটা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাদের কাছে প্রশ্ন করব যে, আপনারা বলেন, কত টাকা ভর্তুকি দেওয়া যাবে। তাহলে বাজেটের সব টাকা ভর্তুকিতেই দিয়ে দেব? এর পরবর্তীতে কিন্তু আর উন্নয়ন হবে না দেশে। এটাও দেখতে হবে। কারণ উন্নয়নের টাকাটাই তো তাহলে চলে যাবে ভর্তুকি দিতে।

খাদ্যের জন্য দেশের মানুষের যেন কষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের খাদ্যের যাতে কষ্ট না হয়, সেদিকে আমাদের বিশেষভাবে নজর আছে। আমরা তো বিনা পয়সায় খাদ্য দিচ্ছি, বিনা পয়সায় মানুষকে সাহায্য করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন আমরা কিন্তু গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন থেকে শুরু করে কোনো শ্রেণিপেশার মানুষ নাই, যাকে আমরা নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা না করেছি। একবার নয়, বারবার। তিনি আরও বলেন, জিনিসপত্রের দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে, তার ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। উৎপাদন বাড়াবার সব রকম ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, অনেক উন্নত দেশে আপনি যান, সেখানে খাদ্যের জন্য হাহাকার। সুপার মার্কেট খালি, জিনিস নাই। স্বয়ং লন্ডনের কথা বলছি। আমাদের দেশে কিন্তু সেই হাহাকারটা আপনারা দেখেননি। সেই হাহাকারটা কিন্তু নাই। তিনি বলেন, বিদ্যুতের জন্য একসময় হাহাকার ছিল, আজকে তো বিদ্যুৎ সবার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছি। সেই বিদ্যুতে আমাদের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। আমাদের উৎপাদন খরচ আমরা তুলতে পারছি না।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আমার অথরিটিতে বাসায় থাকতে দিয়েছি। বাকিটা আইনের ব্যাপার। অমানবিক একজনকে আমি মানবতা দেখিয়ে বাসায় থাকতে দিয়েছি। আমার কাছে আর কত চান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয় এই প্রশ্ন করার জন্য আপনাদের লজ্জা হওয়া দরকার। যারা আমার বাপ-মা, ভাই, আমার ছোট রাসেলকে পর্যন্ত হত্যা করিয়েছে। তারপরও আমরা অমানুষ না। অমানুষ না দেখেই তাকে (খালেদা জিয়া) তার বাসায় থাকার ব্যবস্থাটুকু আমার এক্সিকিউটিভ অথরিটিতে, আমার হাতে যতটুকু আছে, সেটুকু দিয়ে তার বাসায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, গ্রেনেড হামলার পর আমাদের এতজন আহত। ২২ জন মারা গেছে। একদিনও পার্লামেন্টে সেটার ওপর আলোচনা করতে দেয়নি। যে এত বড় অমানবিকÑতাকেও আমরা মানবতা দেখিয়েছি। সাম্প্রতিক জলবায়ু সম্মেলন ও ফ্রান্স সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স সফর সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছি। জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে গত ৩১ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো যান তিনি। পরে সেখান থেকে লন্ডন ও প্যারিস সফর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে ফেরেন ১৪ নভেম্বর। প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি সম্মেলনে প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অভিযোজন ও প্রশমনের জন্য আনুপাতিক হারে বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলার প্রতিশ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে একযোগে কাজ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার কথা বলেছেন। সরকার প্রধান বলেন, বিশ্বের সরকার প্রধানদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের দাবি-দাওয়া তুলে ধরে বক্তব্য দিয়েছি। সিভিএফ সভাপতি হিসেবে একটি ক্লাইমেট ইমার্জেন্সি প্যাক্ট গঠনের প্রয়াসের কথাও তুলে ধরি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের পরিধি ও গভীরতা আরও বাড়বে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ ছাড়া বাণিজ্য নীতি, রোহিঙ্গা এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ওই বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা করে জলবায়ু অভিযোজনে অর্থ ছাড়ের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য রুশনারা আলী ও লর্ড নিতেশ গারিয়ার আমন্ত্রণে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ অ্যাট ৫০, আ রেসিলিয়েন্ট ডেলটা’ শীর্ষক একটি কি-নোট উপস্থাপন করেন বলে জানান তিনি। লন্ডনের প্রকাশনা সংস্থা টেইলর অ্যাড ফ্রান্সিস কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত ‘সিক্রেট ডকুমেন্টস অব ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অব দ্য ন্যাশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ এবং ‘মুজিব অ্যান ইনট্রোডাকশন’ বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কূটনৈতিক আলাপের প্রসঙ্গে বলেন। প্রতিরক্ষা ও অর্থনীতিসহ অন্যান্য খাতে দুই দেশের কার্যক্রম বাড়ানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। ফ্রান্সের ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। ইউনেস্কো সদর দপ্তরে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানেও যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি মনে করি মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের পরিপ্রেক্ষিতে এই পুরস্কার প্রবর্তন সবচেয়ে উপযুক্ত সম্মান। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page