1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সত্য উন্মোচন : ভিআইপি অটো রাইচ ও ফ্লাওয়ার মিলের মালিকানা রশিদ গ্রুপের

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২
  • ১৬ মোট ভিউ

 

 

 

নিজ সংবাদ ॥ দীর্ঘ কয়েক বছর ব্র্যাক ব্যাংকের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হাওয়ার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের মোঃ শফিফুল ইসলাম পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভিআইপি রাইচ মিল ও ফ্লাওয়ার মিল সহ ৬.৫৬৮৩ একর জমি নিলামের ডাক দেয় ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। যার মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধানী জমি, বাড়ী ও বাণিজ্যিক জমি অর্ন্তভূক্ত রয়েছে।  ব্র্যাক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ব্যাংকের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হাওয়ায় গত ২৪ শে মার্চ ২০২২ ইং তারিখে ব্যাংকের পক্ষ থেকে  দৈনিক মানবকন্ঠ সহ আরো বেশ কিছু পত্রিকায় বন্ধকী সম্পত্তির নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ১৮ই এপ্রিল ২০২২ ইং তারিখে নিলামের তারিখে নিলামের দিন  ধার্য হয়। নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হাওয়ার পর তিনটি প্রতিষ্ঠান নিলামে অংশ গ্রহন করে। উক্ত নিলামে রশিদ গ্র“পের চেয়ারম্যান হাজ¦ী আব্দুর রশিদ ১৮ কোটি টাকায় নিলামকৃত সম্পত্তি খরিদ করার জন্য দর হাকেন। পরবর্তিতে ব্র্যাক ব্যাংক সর্বোচ্চ দরদাতা হিসাবে হাজ্বী আব্দুর রশিদকে পত্র মারফতে জানান এবং নিলামের টাকা পরিশোধের জন্য অবহিত করেন। পরবর্তিতে হাজ্বী আব্দুর রশিদ নিলামের টাকা পরিশোধ করেন এবং ব্যাংকের সমস্ত শর্ত পূরণ করায় গত ২৫শে জুলাই ২০২২ইং ও ২৭শে জুলাই ২০২২ ইং তারিখে ৭৭৮৭/২২ এবং ৪৭৫৯/২২ নং দলিল মূলে ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাকে নিলামকৃত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। যার ফলে ঋণ খেলাপী মোঃ শফিকুল ইসলাম এবং তার শরিকেরা গত ২৯ শে ২০২২ ইং তারিখে স্বেচ্ছায় দখল পরিত্যাগ করেন। একই তরিখে অর্থাৎ ২৯শে ২০২২ ইং ব্র্যাক ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আব্দুর রশিদকে নিলামে খরিদকৃত সম্পতির দখল বুঝিয়ে দেয় এবং আব্দুর রশিদ দখল গ্রহন পূর্বক সেখানে ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করে। আইন মোতাবেক ভি আই পি রাইচ মিলের মালিক শফিকুল ইসলাম  স্বেচ্ছায় দখল ছেড়ে দেয়। কিন্তু দখল ছেড়ে দেওয়ার পর নিলামকৃত সম্পত্তি নিয়ে জঘন্য খেলায় মেতে উঠেন ভিআইপি রাইচ মিলের মালিক শফিকুল ইসলাম। আর সেই জঘন্য খেলার অংশ হিসাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এবং তথ্য গোপন করে ৩১শে জুলাই ২০২২ইং তারিখে উচ্চ আদালতে রশিদ গ্র“পের চেয়ারম্যান হাজ্বী আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে ৯১০১/২০২২ নং রিট মোকদ্দমা দায়ের করে এবং উচ্চ আদালত ২ আগস্ট ২০২২ইং তারিখে নিলাম পরবর্তীর যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত করেন। নিলাম ক্রেতা আব্দুর রশিদ ২ আগস্টে দেওয়া উচ্চ আদালতের আদেশ জানার পূর্বেই ভি আই পি রাইচ মিলের মালিক মোঃ শফিকুল ইসলাম ১০ আগস্ট রশিদ গ্র“পের চেয়ারম্যান হাজ্বী আব্দুর রশিদ, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোঃ খাইরুল আলম, কুষ্টিয়া মডেল থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ সাব্বিরুল আলম সহ ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এর বিরুদ্ধে ৩৪৮/২০২২নং  দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, উচ্চাদালত ১১ আগস্ট মামলাটি শুধুমাত্র ভি আই পি রাইচ মিলের মালিক শফিকুল ইসলামের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে নিলাম  ক্রেতা আব্দুর রশিদকে নিলামকৃত  সম্পত্তি শফিকুল ইসলামের অনুকূলে দখল হস্তান্তরের নির্দেশ প্রদান করেন । এদিকে বিষয়টি অবগত হাওয়ার পর ১১ই আগস্ট রশিদ গ্র“পের চেয়ারম্যান হাজ্বী আব্দুর রশিদ সুপ্রিম কোর্টে ৬২৪/২০২২ নং সিভিল ছানী (মিস কেইস) দায়ের করেন এবং ১৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে উভয় পক্ষের শুনানি সম্পন্ন হয়। সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে হাজ্বী আব্দুর রশিদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোঃ নুরুল আমিন এবং মোঃ শফিকুল ইসলামের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোঃ মমতাজ উদ্দিন ফকির ও ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী অংশগ্রহন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের আদেশ পরিবর্তন করে নিলামকৃত স্থিতিতাবস্থায় বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন। এদিকে ভি আই পি রাইচ মিলের কর্তধর শফিকুল ইসলামের স্বীকারোক্তি মোতাবেক নিলামকৃত সম্পত্তি বর্তমানে রশিদ গ্র“পের চেয়ারম্যান হাজ্বী আব্দুর রশিদের দখলে আছে। সেহেতু সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মোতাবেক নিলামকৃত সম্পত্তি রশিদ গ্র“পের চেয়ারম্যান হাজ্বী আব্দুর রশিদের দখলেই থাকবে বলে জানা যায়। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি হারিয়ে শফিকুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্য এলাকায় যে কোন সময় বিশৃংঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তাই এলাকায় যে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকাবাসী আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি দৃষ্টি আর্কষণ করছেন। এই বিষয়ে ভি আই পি রাইচ মিলের মালিক শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মুঠো ফোনে কল দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে হাজ্বী আব্দুর রশিদের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আইনের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাশীল, তাই আমরা আইনগতভাবে শফিকুল ইসলামের করা ষড়যন্ত্রের জবাব দিয়েছি। ভি আই পি রাইচ মিলের মালিক শফিকুল ইসলাম তথ্য গোপন করে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলো। সুপ্রিম কোর্টের ন্যায় বিচারে আমাদেরই জয় হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host
You cannot copy content of this page