1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

স্মরনে- মোঃ মুসা, শেরেবাংলা জাতীয় ফুটবলে (১৯৭৩) বাংলাদেশর ১ম হ্যাট্রিকারী

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ মে, ২০২৩

 

তাইন রিজভী ॥ সময়টা ২০০৯ সাল,জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক শেখ মোহাম্মদ আসলাম,তখন খুলনা বিভাগীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠের একটা অনুষ্ঠানে এসে মোঃ মুসার সাথে তার আকষ্মিক সাক্ষাৎ ! আবেগাপ্লুত আসলাম তো মোহাম্মদ মুসা কে, ওস্তদ বলে বুকে জড়িয়ে ধরে অস্থির! মূহুর্তের জন্য ফিরে পেলেন যেন বাংলাদেশ ফুটবলের- সেই,সোনালী অতীতকে! স্মরণ করলেন মোঃ মুসার অনন্য ফুটবল শৈলীর কথা। সবার সাথে শেয়ার করলেন, ঢাকার ফুটবলে- সালাউদ্দিন, মুসা,সালাম মুর্শেদী ও তার নিজের বিভিন্ন স্মৃতিকথা। মোহাম্মদ মুসা দের দশক যাবৎ “পূর্ব মজমপুর শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের”, সভাপতি। ফুটবলে তার নান্দনিকতা নিয়ে স্থানীয়  দুই সতীর্থ এবং প্রতিবেশী ফুটবলারের বর্ননাও একই রকম। তন্মধ্যে জনাব নজরুল ইসলাম(১সময় আন্তঃকলেজের ন্যাশনালে খেলেছেন) বলেন, ৮৬’র বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার পায়ে যে ওপেন-ইন-স্টেপিং শর্ট (সোজা বাংলায় চ্যাটি শর্ট) গুলো দেখলাম; সেগুলো মূসা ভাইয়ের পায়ে দেখতে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম,হুবহু রিসিভিং পারফেকশন আর অসাধারণ পাওয়ারের হেড! ব্রাদার্সের হয়ে ডামফা কাপে খেলা নিরঞ্জন সরকার ভগলু দাদাও তাতে সহমত প্রকাশ করলেন। তারও অনেকদিন পরে মরহুম মনজুরুল হক চৌধুরী রতন (জেলা দলের ফুটবলার ও বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনীর সাধারণ সম্পাদক) ও সেই পূনরাবৃত্তিতেই বললেন “পেলের খেলার তো আমরা রেকর্ড  দেখেছি, কিন্তু ৮৬’র ওয়ার্ল্ড কাপে ম্যারাডোনার যে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স- অসাধারণ শর্ট, রিসিভিং, ড্রিবলিং আর লক্ষ্যভেদী হেড;এগুলো মুসা ভাই অনেক আগে থেকেই খেলে আসছিলেন এবং অসাধারণ তার কোয়ালিটি। তিনি আরো বললেন, মুসা ভাই তো হাইটে অনেক ছোট কিন্তু কোনদিন তার সাথে হেড মেরে পারিনি। জাস্ট টাইমে জাম্প করে আমাদের কাধের উপর কনুই বাঁধিয়ে আমাদের থেকে এক ফুট উঁচুতে উঠে হিট মেরে দেবেন ! জাম্প দুজনে দিলাম কিন্তু হেড- তার, ক্ষিপ্রতাও অসাধারণ। তিনি ছিলেন ওয়ার্ল্ড ক্লাস প্লেয়ার”।  ১৯৭৭ সালে কুষ্টিয়া জেলাদল রাজশাহীর মাঠে চিটাগাং জেলা দলকে ২-০ গোলে হারিয়ে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। মোহাম্মদ মুসার দূর্দান্ত পারফর্মেন্স আর অবিষ্মরনীয় গোলের দৃষ্টি নন্দন ফুটবলে মাঠ জুড়ে দর্শক মোহিত হয়ে পড়েন। এবং ক্রীড়া লেখক সমিতি তাকে কালামানিক ও সোনার হরিণ খেতাবে ভূষিত করেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে জাতীয় দলে তাঁর অন্তর্ভুক্তি ঘটেনি। ফুটবল কোচ প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করাতে বললেন- তখন তিনি ঢাকা ওয়াপদার ফুটবলার এবং সেখানকার ভলি টিমে “আলেক্সেন্ডার স্যান্ডি” নামে একজন স্কটিশ ভলি প্লেয়ার ছিলেন,পরবর্তীতে এই আলেক্সেন্ডার স্যান্ডি’ই তাদের ফুটবল কোচ হয়ে গেলেন, সেটা ১৯৭৩ সালের কথা। মোহাম্মদ মুসা  এক বছর আলেক্সেন্ডার স্যান্ডির সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। তিনি তাঁকে একজন অসাধারণ কোচ হিসেবেই মনে রেখেছিলেন। মোহাম্মদ মুসার জীবন বৃত্তান্তঃ     পিতাঃ মৃত উকিল উদ্দিন মোল্লা। মাতাঃ রাবেয়া খাতুন। জন্মস্থানঃ শিলাইদহ, কুষ্টিয়া। ঠিকানাঃ ওস্তাদ সড়ক,পূর্ব মজমপুর,  কুষ্টিয়া। ফুটবল বৃত্তান্তঃ ১৯৬০ সাল থেকে কুষ্টিয়ার ইন্টার    স্কুল ফুটবলে তারকাখ্যাতি। ১৯৬৭-৮৩  সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া জেলা ফুটবল দলের নিয়মিত খেলোয়ার।  ঢাকা লীগঃ ১৯৬৭-৭৪ সাল পর্যন্ত ওয়াপদা ক্লাব,ঢাকা এবং ১৯৭৫-৭৬ পর্যন্ত ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নিয়মিত ফুটবলার।  খুলনা বিভাগীয় একাদশঃ  খুলনা দলের পক্ষে ১৯৬৯ সালে আগাখান গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট বিশেষ কৃতিত্বের স্বাক্ষর। অধিনায়কত্বঃ  কুষ্টিয়া জেলা দল। বিশেষ অর্জনঃ  স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হ্যাট্রিকের অধিকারী, শেরেবাংলা জাতীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট ১৯৭৩।  ফিফার সনদঃ ফুটবলে বিশেষ অবদানের জন্য ফিফা সভাপতি সেপ ব্লাটার স্বাক্ষরিত প্রসংসাপত্র। উপাধিঃ সোনার হরিণ উপাধি,শেরেবাংলা টুর্নামেন্টে রাজশাহী ১৯৭৭।   খেতাবঃ  ক্রীড়ালেখক সমিতি রাজশাহী শাখা কর্তৃক- “কালো মানিক” খেতাব,শেরেবাংলা টুর্নামেন্ট ১৯৭৭ ।  উপরিউক্ত লেখার জীবন বৃত্তান্ত অংশটুকু- কুষ্টিয়ার ক্রীড়া লেখক মোহসিন সাহেবের লেখা থেকে ঈষৎ পরিবর্তিত, এবং মোঃ মুসার সম্মতিতে। ফুটবলার মোঃ মুসা আজ ৯মে ২০২৩, দুপুরে ইন্তেকাল করেন।)

তাইন রিজভী। ইমেইল ঃধরহৎরুার@মসধরষ.পড়স

 

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com