1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

হনুমান জয়ন্তীতে, পশ্চিমবঙ্গে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৩

 

ঢাকা অফিস ॥ রামনবমী পালনের সময়ে পশ্চিমবঙ্গের তিন জায়গায় সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে গতকাল বৃহস্পতিবার হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী নামানো হয়েছে ভারতের এই রাজ্যটিতে। পশ্চিমবঙ্গে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা বেশ বিরল ঘটনা। এর আগে ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পরে ভারতে যে দাঙ্গা হয়েছিল, সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছিল। আর শেষবার কলকাতা শহরের আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনা নেমেছিল ২০০৭ সালে। তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে কলকাতার রাস্তায় মৌলবাদীদের বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে। রাজ্য সরকার একরকম বাধ্য করেছিল তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছেড়ে চলে যেতে। এ ছাড়াও হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় একগুচ্ছ নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মহারাষ্ট্রসহ যেসব রাজ্যে রামনবমীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ হয়েছে, সেই সব রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরে বিশেষ জোর দিয়েছে মন্ত্রনালয়। এর আগে গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, হনুমান জয়ন্তীর দিন বাড়তি সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করতে হবে। কড়া নিরাপত্তা: রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে কোনো ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন আদালত। হনুমান জয়ন্তীর মিছিলে অস্ত্র নেওয়া নিষেধ করেছেন হাইকোর্ট। আর প্রতিটা মিছিলের জন্যই স্থানীয় থানা থেকে অনুমতি নিতে হবে, এমন নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ মেনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কলকাতা, ব্যারাকপুর আর হুগলিতে তিন কম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয়েছে। এর মধ্যে কলকাতাতেই রয়েছে এক কম্পানি আধা সামরিক বাহিনী। পুলিশ বলছে, পোস্তা, চারু মার্কেট, হেস্টিংস, একবালপুর ও গার্ডেনরিচ থানা এলাকায় টহল দিচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। আবার যে হাওড়া শহরের শিবপুরে রামনবমীর দিন প্রথম সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ বেঁধেছিল, সেখানে স্থানীয় পুলিশ রুট মার্চ করছে বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিরোধী দল বিজেপি-উভয়ই আদালতের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে বিরোধীরা বলছে, হাইকোর্টে প্রমাণ হয়ে গেল যে রাজ্য সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে, যে কারণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের টহলদারীর মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমেছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। তিনি যেমন একটি হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়েছেন, তেমনই আবার মানুষের কাছে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজও নিয়েছেন। এদিন সকালে রাজ্যপাল আনন্দ বোস প্রথমে যান লেকটাউনে হনুমান মন্দিরে। তারপর তিনি যান ইকবালপুরে। সেখানে ময়ূরভঞ্জ রোডের বাজারে তিনি ঘোরেন। একটি তরমুজের দোকানে দাঁড়িয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন দোকানির সঙ্গে। তরমুজের দাম জিজ্ঞাসা করেন। এরপর ঘিঞ্জি গলি ধরে এগিয়ে চলেন। একটা জায়গায় একটি ব্যারিকেডের সামনে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, হাত মেলান। এমনভাবে কোনো রাজ্যপালের পথে নেমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এভাবে মেলামেশা করার কোনো নজির সাম্প্রতিক অতীতে নেই। রাজ্যপাল এরপর পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এখানে শান্তি আছে। অশান্তি নেই দেখে ভালো লাগলো। পশ্চিমবঙ্গ শান্তিস্তাপনের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে নিদর্শন হবে।’ ইকবালপুর থেকে তিনি যান পোস্তায়। সেখানে ছাতুর সরবৎ খান। নিজে দাম দেন। সেখানেও কোনো বিশেষ ব্যবস্থা তার জন্য করা হয়নি। রিষড়ার অশান্তির পর কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানোয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্যপালকে। এবার হনুমান জয়ন্তীতে শান্তির বার্তা নিয়ে তিনি রাস্তায় নামলেন। উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে শুধু কলকাতাতেই রয়েছে অন্তত পাঁচটি মিছিল। দুইটি মিছিল হাওড়া থেকে এসে বড়বাজার, পোস্তায় শেষ হবে। একটি ভূতনাথ মন্দির ও একটি বন্দর এলাকায় বের হবে। প্রসাসন জানিয়েছে, মিছিলে কোনো অস্ত্র বা লাঠি নেওয়া যাবে না। বাইক মিছিল করা যাবে না। ডিজে বাজানো যাবে না। মিছিলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হবে। সূত্র : বিবিসি, ডয়চে ভেলে

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com