1. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :
সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন

১০ বছর পর নিজস্ব ক্যাম্পাস হোস্টেলে উঠতে পেরে খুশি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২
  • ১৮০ মোট ভিউ

 

 

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। নানা সংকট পার করে অবশেষে নিজেদের ক্যাম্পাসে গেলেন কুষ্টিয়া মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ দশ বছর পর নিজেদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে  পেরে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ জোয়ার বইছে। গত বুধবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের আসবাব ও বইপত্র দিয়ে নতুন কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এলাকার বিপরীতদিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে নতুন স্থায়ী ক্যাম্পাসের হোস্টেলে ওঠেন।

কলেজ সূত্র জানায়, ২০১২ সালে কুষ্টিয়া হাউজিং এলাকায়  মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। একাডেমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের একাধিক আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন ভবন নির্মাণ হয়েছে। ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের কাজও প্রায় শেষের পথে। তবে দীর্ঘ এই দশ বছর ধরে নির্মাণ কাজ নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। গণপুর্তের প্রকৌশলী, পিডিসহ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ নির্মাণ হচ্ছে। ২০১১ সাল থেকেই কুষ্টিয়া শহরে ম্যাটসে অস্থায়ীভাবে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম চলতে থাকে। শিক্ষার্থীরা পাশেই সরকারি গণপূর্তের ভবনে হোস্টেল করে থাকতো। এছাড়া কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্নি করতেন।

গণপূর্ত সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে চারতলা বিশিষ্ট রহিমা-আফছার ছাত্রী নিবাস এবং রিফাত-মিলন ছাত্রাবাস নামে পৃথক দুটি হোস্টেল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকদিনের মধ্যে ছয়তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন হস্তান্তর করা হবে। বাকি স্থাপনাগুলোও কয়েক মাসের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বুধবার সকাল আটটা থেকে মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্রছাত্রীরা তাদের আসবাব ও বইপত্র নিয়ে হোস্টেলে উঠতে শুরু করেন। হোস্টেলের নিচতলায় স্বাক্ষর করে আগে থেকে নির্ধারণ করা কক্ষে তারা  চলে যান। নিজেদের জিনিসপত্র কক্ষে সাজাতে থাকেন। এতে কলেজের শিক্ষকরা সহযোগিতা করছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একে অপরের মুখে মিষ্টি তুলে দেন। কারও বাবা মাও ছেলেমেয়েদের হোস্টেলে তুলে দিতে এসেছেন। নিজেদের স্থায়ী ভবনে উঠতে পেরে অনেকে আনন্দ অনূভূতি প্রকাশ করেন।

শেষবর্ষের ছাত্রী ফারিয়া অরিত্রি বলেন, পরীক্ষা চলছে। মাত্র দুই মাস পর শেষ হবে। তারপরও খুবই আনন্দ লাগছে। ভবিষ্যতে বলতে পারবো নিজেদের হোস্টেলে ছিলাম।’

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তানজিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিজেকে লাকি মনে  হচ্ছে অনেক ব্যাচ চলে গেছে যারা নিজেদের ক্যাম্পাস পায়নি। আমরা পেয়েছি।’

রহিমা-আফছার ছাত্রী নিবাসের হোস্টেল সুপার সহকারি অধ্যাপক ফারহানা রহমান বলেন, মেয়েদের কক্ষগুলো সাজানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরোদমে হোস্টেলেই রান্না কার্যক্রম শুরু হয়। ছাত্রীদের সবরকম সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সহকারি অধ্যাপক নাসিমুল বারী বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের জায়গায় আসতে পেরেছে। এটা ঐতিহাসিক দিন। আশা করা যাচ্ছে কয়েকদিনের মধ্যে একাডেমিক ভবনে ক্লাশ পরীক্ষা শুরু করা যাবে।’

শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে স্থানান্তর কমিটির সভাপতি ও মেডিকেল কলেজের সহকারি অধ্যাপক (সার্জারী) আবদুল মালেক বলেন,  ২৯৭ জন শিক্ষার্থী হোস্টেলে উঠে পড়েছে। ছেলে-মেয়েদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। কারও কোন সমস্যা হচ্ছে না।’ জানতে চাইলে মেডিকেল কলেজের স্বপ্নদ্রষ্টা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন,‘২০১১ সালের ৯ অক্টোবর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। স্থায়ী জায়গায়  হাসপাতাল, একাডেমিক ভবনসহ অনেক স্থাপনা করা হয়েছে। আজ খুবই আনন্দ লাগছে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি এই কলেজের পূর্ণাজ্ঞতা দিতে সব সময় সহযোগিতা ও খোঁজ-খবর রেখেছেন। আশা করা যাচ্ছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে হাসপাতাল ভবনের কার্যক্রম চালু হবে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Theme Customized By Uttoron Host

You cannot copy content of this page