1. admin@andolonerbazar.com : : admin admin
  2. andolonerbazar@gmail.com : AndolonerBazar :

৩০ বছর ধরে পুকুরে বিলীন হচ্ছে কুমারখালীর ওয়াশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

 

কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ স্থানীয়দের প্রায় সাত বিঘা আয়তনের পুকুরের পাড়ঘেঁষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ৯০ নম্বর ওয়াশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। প্রতিবছরই ভেঙে চলেছে বিদ্যালয় এলাকার পুকুরপাড়। ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের সন্নিকটে চলে এসেছে ভাঙন। যেকোন সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় ৩০ বছর ধরে ভেঙে চলেছে পাড়। বারবার দরখাস্ত দিয়েও ভাঙনরোধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তারা। তাঁরা ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। বিদ্যালয়টি উপজেলার পান্টি ইউনিয়নে অবস্থিত। বিদ্যালয় সুত্রে জানা গেছে,  প্রায় ৫২ শতাংশ জমির ওপর ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত  বিদ্যালয়টি। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০৬  জন। তাঁর বিপরীতে শিক্ষক – শিক্ষিকা রয়েছেন চারজন। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ঘেঁষে বড় পুকুর রয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে মাঠ ভেঙে পুকুরে বিলীন হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় দুই – তৃতীয়াংশ জায়গা পুকুরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রায় বিদ্যালয় ভবনের সন্নিকটে। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান ও খেলাধূলা করছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ভেঙে চলে গেছে পুকুুরের মধ্যে। বিদ্যালয় ভবনের পশ্চিম – উত্তর অংশের খুব কাছাকাছি পুকুর। খেলার জন্য রয়েছে মাত্র কয়েক হাত মাঠ। সেখানে শিক্ষার্থীরা খেলা করছে। কেউ আবার পানি থেকে কচুরিপানা তুলছে। এসময় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়ান বলে, ছোটমাঠে খেলতে গেলে বল বারবার পুকুরে চলে যায়। প্রায়দিনই কেউ না কেউ পুকুরে চলে যায়। রনক নামে আরেক শিক্ষার্থী বলে, ভাঙন একদম বিদ্যালয়ের কাছে চলে এসেছে। সব সময় ভয় করে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। আমি দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই। সহকারী শিক্ষক ইস্মতারা খাতুন বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়ে সব সময় আতঙ্কে থাকি। অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তা করে। দ্রুত পুকুর ভরাট করে সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করছেন তিনি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলনুর রহমান বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে পুকুরের পাড় ভাঙছে। ইতিমধ্যে খেলার মাঠ বিলীন হয়ে গেছে। এখন বিদ্যালয়ের মূল ভবনের অতি সন্নিকটে চলে এসেছে ভাঙন। বারবার ইউএনও অফিস ও শিক্ষা অফিসে জানিয়েও ভাঙনরোধ করা যায়নি। পুকুরের মালিকরাও ব্যবস্থা নেয়না। সব সময় আতঙ্কে থাকি। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৫৩ সালে বিশাল আকৃতির ওই পুকুরটি স্থানীয় আটজন গ্রাম্য মাতব্বরের নামে রেকোর্ড হয়ে যায়। ওয়ারিশসুত্রে বর্তমানে ওই পুকুরের মালিক প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ। তাঁরা পুকুরটিকে ইজারা দিয়েছে প্রায় দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকায়। এতথ্য নিশ্চিত করেছেন পুকুরের ২৭ শতাংশ জমির মালিক ও বর্তমান ইজারাদার আব্দুল হাই। তিনি বলেন, ওয়ারিশ সুত্রে আমরা প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ পুকুরের মালিক। একবার পাড় বাঁধার জন্য পুকুরের পানি সেচে অন্যত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকরা পাড় না বাঁধলে আমাদের কি করণীয়। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুকুরের জন্য বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিতি রয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় এতোদিনেও সংস্কার হয়নি। ইউএনও মাহবুবুল হক জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানান তিনি। ক্যাপশনঃ ভাঙনের মুখে কুমারখালীর ওয়াশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা। ক্যাপশনঃ পুকুর থেকে ফুটবল কুড়াচ্ছে কুমারখালীর ওয়াশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর
© All rights reserved ©2021  Daily Andoloner Bazar
Site Customized By NewsTech.Com